প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আসাদুজ্জামান রিপন: বিএনপি মহাসচিবের বাড়ির সামনে ডিম ছোঁড়া নাটকের নেপথ্যে

ড. আসাদুজ্জামান রিপন: গত শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় কিছু ব্যক্তি ডিম ইটপাটকেল ছুড়েছে। পত্রিকা ও অনলাইনের খবরে উল্লেখ করেছে ঢাকা- ১৮ আসনের উপ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষুদ্ধ সমর্থকেরা এ কাজটি করেছে!
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে মনোনয়ন না পেয়ে দলের অন্যতম শীর্ষনেতার বাসভবন লক্ষ্য করে ঢিল পাটকেল ও ডিম ছোড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। এঘটনাকে এতো সাদা চোখে দেখার কিছু নেই।
সারাদেশে বয়স নির্বিশেষে শিশু, বৃদ্ধা, গৃহবধূ, ছাত্রী ও তরুনী যেভাবে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন – বিএনপি মহাসচিব এসব ঘটনা বন্ধে ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ দাবি করে ও অন্যান্য ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছেন। আর এর পর সরকার দলীয় নেতাদের শিস্টাচারের বাইরে গিয়ে বলা প্রতিক্রিয়াও দেশের মানুষ খেয়াল করেছেন।
বর্তমান সিস্টেমে নির্বাচনে একটি দলে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে- তার একটা প্রথাগত প্রক্রিয়া আছে। মহাসচিব দলের মুখপাত্র হিসেবে শুধু তা ঘোষণা করেন মাত্র। মনোনয়নে বন্চনাবোধ থেকে সহিংসতা বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ সবদলেই নিন্দনীয় কাজ বলে গন্য হয়। এটা প্রতিবাদের ধরণও নয়।
কিন্তু গত শনিবারে দলের মহাসচিবের বাসার সামনে যা হলো- তা কোনো মনোনয়নবঞ্চনা বোধ থেকে উৎসারিত ঘটনা বলে আমি মানতে নারাজ।
এঘটনার প্লট তৈরিতে কুশলি খেলার আভাস মিলছে, একসাথে যেনো অনেক লক্ষ্য!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বমহলে সম্মানিত ও প্রশংসিত। কুটনৈতিক মহলেও আমি তার সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য শুনেছি অনেক সময়।
কিন্তু এসময়ে সমাজে- রাস্ট্রে ধর্ষণকান্ডে নাকাল/ পর্যুদস্ত সরকার রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় থাকার কথা। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ছাত্র ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সাথে বিএনপির প্রতিবাদটাকে পাশে ঠেলে দিতেই যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় হামলা হয়েছে- এমনটা ভাবা কি রাজনৈতিক মহলে কাঙ্ক্ষিত না?
এর বাইরে আরেকটা কথা বলতে চাই। তাহলো তথাকথিত উপনির্বাচনগুলোতে এমনিতেই ভোটাররা ভোট দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। এরমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে সরকার এই আসনটিও জালভোট মেরে কব্জা করে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের ইস্যুটি ভবিষ্যতে দেখানোর জন্য বিএনপি মহাসচিবের বাসার সামনে ডিম ছোড়ার নাটকটি আগাম মঞ্চস্থ করে রাখলো- এই আর কি!
( যে নির্বাচন কমিশন জনগনের ভোটকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে ও ভোট লুন্ঠনকর্মে সহযোগী হয়েছে – জনগনতো তাদের বয়কট করেই চলছে এবং প্রতিবাদস্বরুপ ভোট দিতে এখন আর তারা যান না।)
পাদটীকাঃ আমি বেশ ক’বছর ধরেই বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্হার ব্যর্থতা ও মনোনয়ন দেয়ার সিস্টেমের ত্রুটির কথা তুলে ধরে একটি জবাবদিহিমুলক নির্বাচন ব্যবস্হার কথা বলে আসছি এবং এর সাথে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া বা পাওয়ার যে প্রথা চলে আসছে – তার আমুল সংস্কারের কথা বিভিন্ন টকশোতে বলে আসছি। তবে নির্বাচনী আইনে বড়োমাপের সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতি ও নৈরাজ্য আর কখনো ঠেকানো যাবে না। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত