প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর জন্য স্বর্গ থেকে দেবশিশু নেমে আসবে না

দীপক চৌধুরী : নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সরকার পর্যন্ত বিব্রত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটা নিয়ে নানারকম সভা-সমাবেশ হচ্ছে। নারী নির্যাতন আর ধর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, কৌতূহল বেড়েছে মানুষের। হচ্ছেটা কী? ক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি প্রায় হরহামেশা। ধর্ষণের শাস্তি চেয়ে বিক্ষোভ। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করার বদলে সরকার পতনের ডাক দিচ্ছেন কেউ কেউ। ধর্ষণের কঠিন শাস্তি চাইছে মানুষ, দেশবাসী চায় নারী নির্যাতনের কঠিন শাস্তি হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সরকার পরিবর্তনের ডাক যারা দিচ্ছে তারা কারা? বিষয়টি এরকম যে, বর্তমান সরকারকে হটালেই এদেশ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন একেবারেই চলে যাবে। তখন এদেশে ধর্ষিতা মিলবে না, নারী নির্যাতন তো প্রশ্নই আসে না। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ও ভয় জাগে, বাসে অতর্কিতে সহিংস আক্রমণ, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গুলি, বাস-ট্রাক ড্রাইভারের স্ত্রীকে বিধবা, পেট্রল ঢেলে আগুন, সড়কপথে সন্ত্রাসহীন ‘জ্বালাও- পোড়াও-রাজনীতি ফিরে আসবে না তো? আমি বলবো, এর ঠিক উল্টোটা। কেউ যদি মনে করেন এই সুযোগে শেখ হাসিনাকে হটাবেন? প্রশ্নই আসে না। ষড়যন্ত্রকারীদের শক্তি কোথায়? স্বর্গ থেকে দেবশিশু নেমে আসবে না বাংলাদেশে। জনতার শক্তি হচ্ছে বড় শক্তি।

এই শাহবাগেই গণজাগরণের মঞ্চ ছিল। আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দাবি করে রাতের পর রাত তরুণ-তরুণীরা, যুবক-যুবতীরা, নর-নারীরা জেগে আন্দোলন করেছেন। শাহবাগসহ দেশজুড়ে এখন অনেক জায়গায় মিছিল, সমাবেশ, গানে-বাজনায় প্রতিবাদ হচ্ছে। অবশ্যই সুখবর। সারাদেশের মানুষ ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইছে। এটা অবশ্যই সত্য যে, ধর্ষণের মতো বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিকে জাগাতে হবে। তবে সস্তা জনপ্রিয়তা নয়। শতবছরের ভয়াবহসংকটে আমাদের বিবেচ্য পথেই এগোতে হবে। আমরা জানি, সরকার জন-আকাক্সক্ষা অনুযায়ী ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে দ্রুততার সঙ্গে আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শাস্তি প্রত্যাশা করে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ন নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এটা তো পরীক্ষিত সত্য যে, আওয়ামী লীগের শেকড় মাটি ও মানুষের সঙ্গে গাঁথা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুবার কথাটি বলেছেন। গত বছর একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বার বার চেষ্টা করেও কেউ এই দলটিকে ধ্বংস করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষায়, ‘ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যাদের সৃষ্টি, তাদের গোড়ায় কোনো মাটি থাকে না। ওই স্বর্ণলতার মত গাছের ডালে বসে ওই গাছের রস খেয়ে বাঁচে, গাছ মরে গেলে তারাও থাকে না। কাজেই তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না, ক্ষমতা ছাড়া। সেটাই আজ বাংলাদেশে প্রমাণিত সত্য।’

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

সর্বাধিক পঠিত