প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘গতি’

অনলাইন ডেস্ক: আম্পানের পর ভারতের মহারাষ্ট্রে আছড়ে পড়েছিল নিসর্গ। সেই ঘূর্ণিঝড়ের রেশ এখনো কাটেনি। বিশেষত আম্পান যে দুর্বিষহ স্মৃতি তৈরি করেছে, তা আজও দগদগে ঘায়ের মতো মনে রয়ে গেছে। এবার দুর্গাপূজার মধ্যে ‘গতি’ নামের আরেক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতবার্তা পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মাসে সাগরে দুয়েকটি লঘুচাপের আভাস রয়েছে, তার কোনোটি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে।

সপ্তাহখানেক আগেই ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছিল, এবার পুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘গতি’। ভারতবার্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে অন্ধপ্রদেশ উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘গতি’ প্রবেশ করবে রাজ্যে। ফলে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে। সঙ্গে প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে জারি করা হতে পারে লাল সতর্কতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দামান সাগর থেকে এ নিম্নচাপ এখন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। শক্তি সঞ্চয় করে এটি উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও কিছুটা আঁচ এ রাজ্যে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি বঙ্গোপসাগরের একাংশ প্রচ- উত্তাল হতে পারে বলেও জানা গেছে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতায় আজ আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। দু-এক পসলা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে।

বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় স্থায়ী দমকা হওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। গতকাল সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক। তিনি বলেন, পূর্ব মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবরও সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরে তা দুর্বল হয়ে যায়। এর এক সপ্তাহের মাথায় আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলো সাগরে। বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ নি¤œচাপে রূপ না নিলে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ইতোমধ্যে টানা কয়েকদিন তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও বেশ থাকায় শনিবার দেশের সর্বত্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমুদ্রবন্দরে কোনো আবহাওয়া সতর্কবার্তা জারি করেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত