প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি এম কামরুল হাসান: লিচেনস্টেইন- যেখানে ধর্ষণের হার শূন্য

‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, বিশ্বে ধর্ষণের হারে বাংলাদেশের অবস্থান একচল্লিশতম, প্রতি লাখে নয় দশমিক আট। সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ আফ্রিকায়- প্রতি লাখে একশ বত্ৰিশ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেনে এ হার আমাদের থেকে দুই থেকে সাতগুণ বেশি।

মধ্য ইউরোপের দেশ ‘লিচেনস্টেইন’ এ এখন ধর্ষণের হার শূন্য। দেশটির অবস্থান সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে। আয়তন একশ ষাট বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা আটত্রিশ হাজার। ভাষা জার্মানি। রাজধানীর নাম ভাদুজ। শতকরা ছিয়াত্তর ভাগ নাগরিক ক্যাথলিক। পাঁচ ভাগ মুসলিম। ২০০৫ সালে দেশটিতে ধর্ষণের হার ছিল লাখে এগারো দশমিক পাঁচ। ২০১৪ সালে এ হার ছিল সর্বোচ্চ, লাখে তেরো দশমিক চার । মাঝের বছরগুলোতে এ হার বেশ খানিকটা উঠানামা করেছিল। ২০১৫ সালে একটি মাত্র ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এখন শুন্যের কোঠায়।

আইনের ব্যাপক সংস্কার, শাস্তি বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তারা এ সাফল্য অর্জন করে। ধর্ষণ সেখানে একটি ফৌজদারি অপরাধ। সরকার এ জাতীয় অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে মামলা করছে। অভিযুক্তদের সুরক্ষা দিচ্ছে, আইনি পরামর্শ দিচ্ছে, দিচ্ছে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা। সেদেশে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শাস্তি এক থেকে পনের বছর। ধর্ষণের পর যদি হত্যা করা হয় তাহলে দশ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। শাস্তির পরিমান নয়, শাস্তি নিশ্চিতকরণই এ সাফল্যের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ঘটনা রোধে লিচেনস্টেইন এর নারী নির্যাতন আইন ও তার প্রয়োগ কৌশল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

সর্বাধিক পঠিত