প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আশীফ এন্তাজ রবি: আমি পাওয়ার পলিটিক্স করি

আশীফ এন্তাজ রবি: বেশ কয়েক বছর আগের কথা। আমার ছোট খালা থাকেন মানিকগঞ্জ শহরে। একদিন দুপুর বেলায় একদল ছেলে ছোকড়ার দল আসলো আমার খালার বাড়িতে। তাদের সাথে রাজমিস্ত্রিও আছে। আমার খালার বাড়ির পাশে একটি নতুন বিল্ডিং উঠেছে। সেই বিল্ডিংয়ের মালিক একজন রাজনৈতিক নেতা। কোন দলের, এটা একটু পরে বলি। সেই লোকের বিল্ডিংয়ের সুয়ারেজ লাইন আমার খালার বাড়ির উপর বসাবে। সঙ্গত কারণে, আমার খালা রাজি হননি। কাজেই সেই লোক তার দলবল পাঠিয়েছে।

সেইসব ছেলেছোকড়াদের দল বাড়ির গেট ভেঙে দিনে দুপুরে খালার বাড়িতে ঢুকলো। তারপর খালার কোলে তার একমাত্র শিশু কন্যা। তারা কোল থেকে বাচ্চাটিকে টেনে ফেলে দিলো। তারপর খালাকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করলো। তাদের সুয়ারেজের পাইপ বসালো। পাড়ার একটি মানুষও এগিয়ে আসেনি।

আমার খালা সেই বেলায় এক কাপড়ে তার বসত ভিটা ফেলে ঢাকায় চলে আসেন। লোক লজ্জায় এই কথাটি উনি কাউকে বলেননি। একা একা নীরবে কেঁদেছেন। আমি এই ঘটনাটি জানি দুইদিন পর। কথাটা শুনে আমি নিজে মানিকগঞ্জ ছুটে যাই। পুলিশে যোগাযোগ করি। এতো ভয়বাহ ঘটনাটি পুলিশকে বলার পর, পুলিশ ঢেঁকুর তুলে বললেন, হুমম। এরপর আমি ঢাকায় চলে আসি। আমার সকল বন্ধুবান্ধবকে জানাই। বলি, পুলিশে এমন কেউ কি আছে, যিনি আমাকে চেনেন বা আমার লেখা পড়েন। তার সাহায্য খুব দরকার। পুলিশে না রাবে একজন পরিচিত পাওয়া গেলো। তরুণ এক অফিসার । তিনি আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ^াস দিলেন।

পরদিনই কালো গাড়ি গেলো আসামি ধরতে। সেই আসামি গাড়ি দেখে এক দৌড়ে থানায় ঢুকে পড়লো। রাজনৈতিক নেতা যেহেতু, থানায় তার ভালো যোগাযোগ। রাব জানালো, আসামি যেহেতু থানায় ঢুকে গেছে, তাদের কিছু করণীয় নেই। তারা সারা রাত থানার সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আসামিও থানা থেকে বের হয় না।

আমি থানায় ঢুকে পুনরায় দেন-দরবার করলাম। পুলিশ দ্বিতীয় বারের মতো বললো, হুম। আমি ঢাকায় চলে এলাম। পরদিন আমার মোবাইলে একটি ফোন আসলো। সেই অভিযুক্ত আসামি আমাকে স্বয়ং ফোন দিয়েছেন। বললেন, আপনি আমার ইয়েও ছিড়তে পারবেন না। দরকার হইলে ঢাকায় আইসা আপনারে সাইজ কইরা যামু। আমি তাকে বললাম, ভাই, আপনি কোন দল যেন করেন? সে হেসে বললো, আমি পাওয়ার পলিটিক্স করি। যাই হোক, আমি আবার পুলিশে যোগাযোগ করলাম। আরও কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করলাম। শেষমেষ অভিযুক্ত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। আমরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। সেই অভিযুক্ত এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা এরপর আর কোনো ঝামেলা করেনি। কেন করেনি? সেই হুম বলা পুলিশরাই ব্যবস্থা নিয়েছি। কেননা আমি যথাযথ জায়গায় যোগাযোগ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম।

এবার এই বছরের কথা বলি। আমার চাচাতো বোন। তার বাড়িও মানিকগঞ্জ। গ্রামের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা রাত বিরাতে মদ খেয়ে আমার চাচার বাসায় হানা দেয়। দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। গত ছয়মাস ধরে আমি পুলিশের হর্তাকর্তা, এমপি, চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা সবার সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা সকলেই বলেছেন, হুম। সেই প্রাক্তন চেয়ারম্যান সম্পর্কে আধা পৃষ্ঠাব্যাপী একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যে রিপোর্ট পড়লে হতভম্ব হয়ে যেতে হয়। তারপরও তার কিছু হয়নি, কিছু হচ্ছে না। প্রতিরাতে সে আমার চাচার বাড়িতে হানা দেয়। সে আমার চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে চায়। নইলে তুলে নিয়ে যাবে। সেই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের একটি মেয়ে আছে যে কিনা বয়সে আমার চাচাতো বোনের চেয়ে বড়। তো আমি ফাইনালি সেই চেয়ারম্যান সাহেবকে ফোন দিয়েছি। বললাম, আপনি কোন দল করেন? সে হাসতে হাসতে বললো, আমি পাওয়ার পলিটিক্স করি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত