প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাংবাদিকের শিশুপুত্রকে অপহরণের পর দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

আবদুল ওহাব : [২] বগুড়ার শাজাহানপুরে তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ নামে আট বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রেখে অমানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি এশিয়ান টেলিভিশন, যায়যায়দিন ও স্থানীয় দৈনিক মুক্ত সকাল পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও শাজাহানপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ আবদুল ওহাব এর ছেলে এবং কাটাবাড়িয়া সি-ব্লক এলাকার বাসিন্দা।

[৩] এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকার সুশীল সমাজ। অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারের পর ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আসামী করে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

[৪] ঘটনার বিবরণে জানাযায়, উপজেলার কাটাবাড়িয়া গ্রামের সেনাপল্লি মসজিদের সামনে ২৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শিশু তাওহীদ খেলারত থাকাকালে ওই এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মোস্তফা (১৯) তাকে ফুসলাইয়া মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে অপহরণ করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। তৎপর মোস্তফা তার মা সখিনা (৪০) এবং বোন কুলসুমের সহায়তায় শিশুটিকে তাদের বাসার দ্বিত্বীয় তলার একটি রুমে নিয়ে খাটের সাথে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেধে ও মুখ বেধে আটক করে রেখে অমানসিক নির্যাতন চালায়।

[৫] এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ও রাত হলেও শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় বাবা-মা সহ লোকজন খুজাখুজি করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন কাটাবাড়িয়া সি-ব্লক এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোস্তফা শিশু তাওহীদকে ফুসলিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে গেছে।
সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে তারা কান্নারত শিশু তাওহীদের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে দুইজন অপরিচিত মহিলা ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে পায়।

[৬] অপহৃত শিশু তাওহীদ জানায়, খেলার সময় তাকে ফুসলিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং দড়ি দিয়ে হাত-পা বেধে ফেলে। এরপর নানা ভয়ভীতি দেখায়। এসময় সে চিৎকার করলে মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে এবং আওয়াজ করলে তাকে তিন তলার ছাদে তুলে ফেলে দেয়া হবে বলে জানায়। শুধু তাই নয়, কিছুক্ষন পর অন্য একটি জায়গায় তাকে নিয়ে যাবে বলে জানায়। এসময় পথে চিৎকার করতে নিষেধ করে। কথা না শুনলে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।

[৭] ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের থানায় ডেকে আনা হয়। এসময় তারা জানায়, শিশুটি প্রায় দুইমাস আগে তাদের বাড়ির ছাদ থেকে ফুল চুরি করেছিল। সেজন্য ওর এই পরিণতি হয়েছে। এসময় শিশু তাওহীদকে আটক রেখে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে শিশুটির প্রতি এ ধরনের আচরণ করা ভুল হয়েছে জানিয়ে শিশুটির বাবা সাংবাদিক আবদুল ওহাব এবং থানার ওসির নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন অভিযুক্ত কুলছুম ও তার বাবা মকবুল হোসেন। তথাপি তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি।

[৮] স্থানীয়রা জানান, শিশু নির্যাতন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তাই তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।

[৯] এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, একজন শিশুকে এভাবে নির্যাতন করা নিঃসন্দেহে একটি অমার্জনীয় অপরাধ। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত