শিরোনাম
◈ ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়ে সংসদের পথে বাবর, পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম ◈ ‌‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়া নিয়ে শঙ্কা! ◈ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাওয়ায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে ◈ কতটা ক্ষমতাধর একজন এমপি, তিনি কী কী কাজ করেন? ◈ অনেকেই ধারণা করছেন নির্বাচন শেষ হলে আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব: তাসনিম জারা ◈ অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: ফখরুল ইসলাম ◈ গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিএনপি সব সময় লড়াই করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ এই বিজয়: মির্জা ফখরুল ◈ মন্ত্রিসভা নিয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন ◈ ভোটে জিতেই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা (ভিডিও) ◈ নারী লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী স্টারস

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:৫৯ সকাল
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিনা দোষে ছয় বছর কনডেম সেলে মাজেদা

ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুরের গঙ্গাচড়ার গৃহবধূ মাজেদা বেগম বিনা দোষে সন্তানসহ ছয় বছর রয়েছেন কনডেম সেলে। ধর্ষণ ও ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে পুলিশ তাকে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিল। এর ভিত্তিতে শিশু রুম্মান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলাটি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য এলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বুধবার তাকে খালাস দেন। এখন তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন গৃহবধূ মাজেদা বেগম। জবানবন্দি মিথ্যা প্রতীয়মান হওয়ায় বুধবার ফাঁসির আদেশ থেকে তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

সূত্রমতে, গঙ্গাচড়া থানার ঠাকুরদহ মন্দিরপাড়া এলাকায় ২০০৭ সালের ৩ জুলাই রুম্মান নামে এক শিশু খুন হয়। ১০ জুলাই হত্যাকারী সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় পাশের বাড়ির গৃহবধূ মাজেদা বেগমকে। গ্রেফতারের পর বেআইনিভাবে মাজেদাকে ২ দিন থানায় আটকে রেখে ১২ জুলাই আদালতে হাজির করা হয়। শিশুটিকে ‘গলাটিপে হত্যা’র কথা স্বীকার করে সেদিনই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর পর ২০১৫ সালের ৭ মে মাজেদাকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। তার কোলে তখন ১৩ মাসের সন্তান।

সূত্র জানায়, রায়ের দিন ওই শিশুসন্তানকে কোলে নিয়েই আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন মাজেদা। ফাঁসির আদেশ হওয়ায় মৃত্যু পরোয়ানার বোঝা মাথায় নিয়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়। এ সময় আদালতের নির্দেশে শিশু মারুফকে নিয়েই মৃত্যুকুঠরিতে ঢোকেন মাজেদা। এখনও তারা সেখানেই রয়েছেন।

সূত্র জানায়, ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে এলে নথি দেখে খটকা লাগে উচ্চ আদালতের। কারণ, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে মাজেদা ‘গলাটিপে শিশুটিকে হত্যা’র কথা স্বীকার করলেও, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে রুম্মানকে হত্যার কথা বলা হয়। শুধু তাই নয়, শ্বশুরকে ফাঁসাতে এই হত্যা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে ‘স্বীকার’ করেন মাজেদা। প্রশ্ন উঠেছে, শ্বশুরকে ফাঁসাতে চাইলে খুন করে লাশ তার বাড়িতেই রাখতে পারতেন মাজেদা। তা না করে কেন লাশটি পরিত্যক্ত মন্দিরে নিয়ে গেলেন?

মাজেদার জবানবন্দির গুরুতর এ ত্রুটি উঠে আসে উচ্চ আদালতের সামনে। তখন জানা যায়, পুলিশ তাকে ধর্ষণ ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। পরে বিষয়টি সামনে এনে আদালতের কাছে এই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনও করেছিলেন মাজেদা। তবে বিচারিক আদালত তা আমলে না নিয়ে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন।

১৩ মাস বয়সে শিশু মারুফ মায়ের সঙ্গে ঢুকেছিল কনডেম সেলে। এখন তার বয়স ৬ বছর। নিরপরাধ হয়েও মায়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবন থেকেও চলে গেছে ৫টি বছর।

নিরপরাধ স্ত্রীর কারাভোগের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার চেয়ে মাজেদার স্বামী সাজু মিয়া বলেন, পুলিশ প্রশাসন যদি সঠিকভাবে তদন্ত করত, তাহলে আমার নিরপরাধ স্ত্রী ও সন্তানের এই শাস্তি পেতে হতো না। ছয়-সাত বছর ধরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, আমি প্রশাসনের কাছে তার ক্ষতিপূরণ চাই।যুগান্তর

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়