শিরোনাম
◈ ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা? বিতর্কে মুখ খুললেন দুই তারকা ◈ যেসব অঞ্চলে সকালের মধ্যে ঝড় হতে পারে  ◈ আরও শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ছাড়াল ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার ◈ আবারও ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস, অনুমোদন মন্ত্রিসভার ◈ নৌবাহিনী প্রধান হলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম ◈ থামছে না গণপিটুনি, ছয় মাসে প্রাণ গেল ১৩৩ জনের ◈ প্রচারণায় কোটি ডলার, তবু মার্কিন তরুণদের মন জয় হলো না ইসরাইলের ◈ সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার ◈ বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন ◈ চট্টগ্রাম বোর্ডের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৭:৩০ সকাল
আপডেট : ০৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৭:৩০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিস্তির চাপে রড কাটার মেশিনে নিজের গলা কাটলেন দিনমজুর

ডেস্ক রিপোর্ট: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বেলাল হোসেন (২৮) ইলেকট্রিক শান মেশিন দিয়ে গলাকেটে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় তার স্ত্রী হাসিনা খাতুন ১৫ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় ছয়টি এনজিওর ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

বিচারক খালিদ মাহমুদ এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার মনিরুজ্জামান ও মাঠকর্মী মাজেদুল ইসলাম, রিয়েল সেভিংস অ্যান্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের দুবলাগাড়ী শাখার ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন ও মাঠকর্মী জেসমিন আকতার, সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিসের নয়মাইল শাখার ম্যানেজার আমিরুল হাসান ও মাঠকর্মী মুঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ এক্রটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস এর মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার সাইদুর রহমান ও মাঠকর্মী লাকী খাতুন, সোসিও ইকোনোমিক ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন এবং টিএমএসএস এর মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার আব্দুল মান্নান ও মাঠকর্মী নাহার।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রাশেদুর রহমান মরিস জানান, বেলাল হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমানের ছেলে। তার একটি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ রয়েছে। তিনি উল্লেখিত ছয়টি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ কারখানা করেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যদের মতো বেলালের ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দেয়। সরকার ১ অক্টোবর পর্যন্ত কিস্তি আদায় না করতে এনজিওগুলোকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনও প্রচারণা চালায়। এরপরও এনজিওগুলোর কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ঋণ গ্রহীতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় অব্যাহত রাখেন।

তিনি জানান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে আসা কিস্তি আদায়কারীদের দেখে অনেক ঋণ গ্রহিতা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। কিস্তি না পাওয়ায় এনজিওকর্মীরা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। প্রতিদিনই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ব্যবসা মন্দা হওয়ায় বেলাল হোসেন তার কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তিনি গ্রামের বিভিন্ন জনের কাছে গিয়েও কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কিস্তি পরিশোধের দিন ছিল। এনজিওর লোকজন তার ওপর চাপ সৃষ্টি করায় বেলাল হোসেন এদিন দুপুরে চোপীনগর দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে প্রথমে বিষপান করেন। এরপর রড কাটার ইলেকট্রিক শান মেশিন দিয়ে গলায় আঘাত করেন। এতে তার গলাকেটে যায়। স্বজনরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মারা যান তিনি।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, ওই ঘটনায় কেউ মামলা করতে থানায় আসেননি।বিডি প্রতিদিন, যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়