প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পায়নি নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের নিহত রাসেলের পরিবার

মনজুর অনিক : [২] প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত রাসেল এর প্রকৃত পরিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা পায়নি। উল্টো তল্লার স্থানীয়দের হুমকি পাচ্ছে পরিবারটি। ভয়ে প্রশাসনের কাছের যেতে পারছেনা। হুমকির ভয়ের পরও নিহত রাসেলের প্রকৃত পরিচয় উৎঘাটন করতে ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা ম্যাজিষ্টেটের কাছে, ২৩ সেপ্টেম্বর লক্ষীপুর জেলা প্রশাসক ও ৩০ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে নিহতের ভাই রাজু আহম্মেদ।

[৩] এদিকে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিহতের ভাই রাজু গেলে ওই কর্মকর্তা দেখা করেনি। আসলে জেলা প্রশাসন নিহত রাসেলের প্রকৃত পরিচয় উৎঘাটন করবে ? নাকি রহস্য জনক কারনে তা ধামাচাপা পরে যাবে এটা নারায়ণগঞ্জ বাসী প্রশাসনের কাছ যানতে চায়।

[৪] এ বিষয়ে অভিযোগকারী রাজু আহমেদ বলেন, আমার ভাই নিহত রাসেল। রাসেলে প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে বাবা মৃত-মো: শাহ আলম ওরফে মো: হাসেম, মাতা-মৃত-শুকুরী বেগম ওরফে রোকেয়া বেগম, সাং-বাঞ্চানগর, ওয়ার্ড নং ০৪ ,লক্ষীপুর পৌরসভা, জেলা লক্ষীপুর। কিন্তু সেকান্দার মিয়া রাসলে নিহত হওয়ার পর থেকে সরকারী অনুদানের টাকা,বিভিন্ন ব্যাক্তিদের অনুদানের টাকা সেকান্দার মিয়া নিহত রাসেলে পিতা দাবি করে গ্রহণ করছে। এটা সম্পুর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে সেকান্দার মিয়ার স্ত্রী। তাই আমি নিহত রাসেলের প্রকৃত পরিবারকে অনুদান টাকা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি তদন্তপূর্বক অনুরোধ করছি। আপনারা প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে নিহত রাসলের সত্য পরিচয় তুলে ধরে মিথ্যা আশ্রয় নেওয়া ব্যাক্তিদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করনে।

[৫] কিন্তু জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো নিহত রাসেলকে যারা আশ্রয় দিয়েছে তারা মিথ্যা তথ্য প্রশাসনের কাছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা ওই মিথ্যা তথ্য সরবরাহ কারীদের দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, একটা সত্য ঘটনায় লিখিত দেওয়ার ১০ দিনেও প্রশাসন উৎঘাটন করতে পারেনি। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা নাকি উদাসিনতা? এটা প্রশ্ন প্রশাসনের প্রতি আমার। তার পরেও ২৩ সেপ্টেম্বর লক্ষীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, ৩০ সেপ্টেম্বর আজ ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন করেছি, নিহত রাসেলের প্রকৃত পরিচয় উৎঘাটন করতে। এবং অনুদানের অর্থ প্রকৃত পরিবারের কাছে হস্থান্তর করতে।

[৬] হুমকির বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন,আমি রাজু যাতে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের অর্থ জেলা প্রশাসনে কাছ থেকে না পাই তার জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তি ফোন করে আসতে না করে। ওই ব্যক্তি আবার সোমবার ফোন করে বলে রাজু অনেক করেছো,কিছু করতে পারোনি। চেক নিয়ে এসেছি, এমপি,জেলা প্রশাসন এর কাছ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি। তুমি তো জেলা প্রশাসন ও ম্যাজিষ্ট্যাট কাছে লিখিত দিয়েছো,পারছো কিছু করতে,পারোনি। তুমি কাল বিকাল ৪.৩০ মিনিট আমার বাসার আসবা তুমি একা,তোমাকে একটা ভালো কিছু দেওয়া হবে। তুমি হতাশ হবেনা,তুমি একা আসবা,কাউকে আনবানা,এ বিষয়টি কাউকে বলবানা। বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় আমাব বাসায়।

[৭] অপরদিকে চেক গ্রহণকারী সেকান্দারের স্ত্রী আকলিমা জানায়, রাসেলে আমার ছেলে নয়। সে ১৫/১৬ বছর ধরে আমার কাছে আছে। আমি ছেলের মতো অদার করেছি। এতো দিন কেউ খোঁজ নেয়নি। এখন অনেকে রাসেলের আত্মীয় পরিচয় দিচ্ছে। রাসেলে আমার সন্তান।

[৮] এদিকে একাধিক তল্লা বাসি জানায়, রাসেলে সেকান্দারের ছেলে নয়। নিহত রাসেল ৯৫/৯৬ সালে সেকান্দারের বাড়িতে কাজের ছেলে হিসাবে আসে। নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সে সেকান্দারের বাড়িতে থাকতো। অনেক সময় সেকান্দার তা ছেলে পরিচয় দিতো। এখন বিভিন্ন ব্যাক্তি টাকা দিচ্ছে এ টাকায় লোভে পরছে সেকান্দারের স্ত্রীর আকলিমা। প্রশাসনের প্রতি তল্লাবাসির আহবান নিহত রাসেলে সঠিক পবিরারের হাতে অনুদান টাকা তুলে দেওয়া হোক।

[৯] প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিম তল্লা বাতুল সালাম জামে মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোঃ রাসেল ঢাকায় হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মারা যায়। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত