প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হোসেনপুরে গবাদিপশুর লাম্পিস্কিন ডিজিজে দিশেহারা কৃষক

আশরাফ আহমেদ: [২] কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গবাদিপশু লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করেও আশানুরোপ প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাই খামারি ও পশুর মালিকরা এ রোগ থেকে তাদের গবাদিপশুকে বাঁচাতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ফলে ভুক্তভোগিরা বিনা মুল্যে টীকা প্রদান ও চিকিৎসা পেতে সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।

[৩] সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে, স্থানীয় পৌর এলাকার ঢেকিয়া গ্রামের আল-আমিন জানায়, তার প্রায় ৬০ হাজার টাকার ষাঁড়ের সমস্ত দেহে হঠাৎ গুটি গুটি আকার দারণ করলে ষাঁড়টি খাওয়া খাদ্য কমে ওজন কমতে থাকে।

[৪] পরে স্থানীয় পশু চিকিৎকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করেও কাজ না হওয়ায় ৩৭ হাজার টাকায় ষাঁড়টি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতি দিনই এ রকম আক্রান্ত গবাদি পশুকে খামারি ও পারিবারিকভাবে লালন-পালনকারীরা গবাদি পশুকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে আসছেন।

[৫] উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, গত নভেম্বর থেকে অদ্যাবদি চার শতাধিক গশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন । গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাস জনিত চর্মরোগ যা শুধুমাত্র গরু ও মহিষকে আক্রান্ত করে। বাংলাদেশে এ রোগটি নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে।

[৬] যা মশা,মাছি,আঠালি (গরুর শরিরের উঁকুন) ,ব্যবহৃত নিডেল ও সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু প্রাথমিকভাবে চামড়ার নিচে অসংখ্য গুটির সৃষ্টি হয় যা পোচকা হয়ে পচন ধরে এর ফলে চামড়ার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে দুর্বল হয়ে ওজন কমতে থাকে ও দুধ উৎপাদন কমে যায়।

[৭] তিনি আরো জানান, লাম্পি স্কিন থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গবাদি পশুকে মশা,মাছি মুক্ত রাখার জন্য খামার ও বসতবাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা,স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, আক্রান্ত গবাদি পশুকে সুস্থ গবাদি পশু থেকে দূরে রাখা। সম্ভব হলে মশারির ভিতরে রাখা ও সর্বোপরি ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা প্রদান করা।

[৮] উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৬০ হাজারের মত গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি গবাদি পশুকে সরকারীভাবে টীকা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরো পাঁচ শত গবাদি পশুর জন্য টিকা বরাদ্ধ হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই স্বল্প।

[৯] উপজেলা ভেটেনারী সার্জন ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, টিকার স্বল্পতার কারণে বড় বড় খামারিরা লোকসানের কারণে যাতে আগ্রহ না হারায় সেজন্য প্রাথমিকভাবে উপজেলার ৩১টি নিবন্ধিত খামারির গবাদি পশুকে সরকারিভাবে গুড ফ্রক্ টীকা দেওয়া হযেছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত