শিরোনাম
◈ গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, পুলিশি ব্যবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত: স্পিকার ◈ জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক নি‌শ্চিত কর‌লো ◈ বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদারে তাগিদ তারেক রহমানের ◈ জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফেরানো ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে জোর খলিলুর রহমানের ◈ ঢাকার সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত নয়াদিল্লি ◈ জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভুটান-মালদ্বীপের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক ◈ ইরানকে ‘নরকে ঠেলে’ দেওয়ার হুমকি, কিউবার শাসনব্যবস্থার পতনের ঘোষণা ট্রাম্পের ◈ সৌদির পুঁজি-প্রযুক্তি, বাংলাদেশের জনশক্তি: নতুন অংশীদারত্বের প্রত্যাশা ◈ মামদানির বাসভবনে ট্রাম্প, রুদ্ধদ্বার বৈঠক

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:১৮ দুপুর
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর গাছ বেয়ে জীবিকা নির্বাহ

বরিশাল প্রতিনিধি: ঝালকাঠীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কুদ্দুস মোল্লা বিগত ৩২ বছর ধরে নারকেল-সুপারী গাছ বেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঝালকাঠী শহরের কিফাইত নগরের কুদ্দুস ১১-১২ বছর বয়সে অজ্ঞাত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়লেও কারো কাছে হাত পাতেননি। বেছে নেননি ভিক্ষাবৃত্তি বা তৈরি হয়নি কারো কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার মানষিকতা।

জানা যায়, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে কয়েক বছর চরম অভাব অনটনে দিন কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পায়ে দাড়ানোর লক্ষে বেছে নেন গাছ বাইবার পেশা। কুড়ি বয়সের তরুণ কুদ্দুস আশেপাশের মানুষের নারকেল সুপারি পেড়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। প্রথমদিকে অনেকেই তার এ পেশাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করলেও পরে সবার দৃষ্টি কারে দৃষ্টিহীন কুদ্দুস। দৃঢ় মনোবল আর সততাকে পুজি করে সে থেকে কুদ্দুস ঝুঁকিপূর্ণ হলেও গাছ বাইবার এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। বছর পঁচিশের সময় সে বিয়ে করে। একে একে ৩টি কন্যা সন্তান আসে তাদের সংসারে। তবে কোনো দিনই স্ত্রী ও সন্তানদের মুখ দেখার ভাগ্য হয়নি তার। অভাবের কারণে সে তার কোনো সন্তানকেই পড়াশোনাও করাতে পারেনি। তার মধ্যেই আরেক দুঃসংবাদের জানান দিয়ে বছরে কয়েক আগে স্ত্রী কুদ্দুসকে অথৈ সাগরে ভাসিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। এখন দু মেয়ে নিয়ে তার টানা পোড়েনের সংসার। সম্বল নিজের আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমী শরীর। এখনো প্রতিদিন কুদ্দুস আসেপাশের এলাকাসহ যেখানেই ডাক পড়ে সেখানেই ছুটে যান নারকেল সুপারি পাড়তে। ছোট মেয়ে কাছে নিয়ে গাছ ধরিয়ে দিলেই কুদ্দুস অবলীলায় উঠে যান ডগায়। পেড়ে আনেন নারকেল-সুপারি। বিনিময়ে কেউ গাছপ্রতি ৫০ টাকা, আবার কেউ ২-৩টি নারকেল বা সমমূল্যের সুপারী দেন। তাতেই চলছে কুদ্দুসের সংসার। কিন্তু সে কোনোভাবেই কারো কাছে হাত পাততে রাজি নন।

ঝালকাঠি মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার চেষ্টা করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কুদ্দুসের খোঁজ খবর রাখতে। মেয়রের চেষ্টায়ই লিয়াকত ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা লাভের তালিকাভুক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কুদ্দুসের জন্য মানবিক সহয়তায় প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্ট আকর্ষণ করেছেন ঝালকাঠীর পৌর মেয়র ।

  • সর্বশেষ