প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনাকালে বেড়েছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড, বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতন

জেরিন আহমেদ: [২] বাংলাদেশে করোনার মধ্যেও ঘরে নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এমনকি মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়েও স্বামীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন স্ত্রী। এদিকে বাল্যবিবাহও থেমে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস এমন অপরাধের পেছনে সামাজিক-আর্থিক টানাপড়েনের সঙ্গে রয়েছে হতাশা, পরকীয়া আর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো কারণ। আর তার সঙ্গে করোনার মতো অস্থির পরিস্থিতিতে বাড়ছে হত্যার মতো ঘটনা।

[৩] সরকারি হিসেব বলছে, বছরে দেশে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ হচ্ছে পারিবারিক। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়েছে আরেকটিকে। পারিবারিক এসব হত্যাকাণ্ডের বড় অংশের শিকার নারী ও শিশু। একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার হিসেবে, চলতি বছরের ৮ মাসে দেশে ১৬৩ জন নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। সূত্র: আইন সহায়তা কেন্দ্র-আসক ফাউন্ডেশন

[৪] এদিকে বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার-প্রতিবেশীরা বিষয়গুলো জেনেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না, পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা ভেবে। আর পরিবারও কিছুটা গোপনে, কোনো রকম আয়োজন ছাড়াই নীরবে কিশোরী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আহারের মুখ কমাতে চাইছেন। ফলে ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলেও বেশির ভাগ বাল্যবিবাহই ঠেকানো যাচ্ছে না। তারা বলছেন, বন্যা এবং কোভিড-১৯ মহামারি বাল্যবিবাহর ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দেশের চরাঞ্চল, উপকূলীয় এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বাল্যবিবাহর হার বেশি।

[৫] এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কিছুদিন পর শিশু নির্যাতন ও হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানবাধিকারকর্মীরা। আসকের হিসাবে, গত ছয় মাসে ৬৮০ শিশু সহিংসতার শিকার এবং ২৯৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ৪০৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্যে, শুধু জুনেই ২ হাজার ৮৯৬ শিশু নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মে মাসে যে সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৭১ জন। ফাউন্ডেশনের হিসাবে, জুনে ৫৩টি জেলায় মোট ১২ হাজার ৭৪০ নারী-শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।

[৬] আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যে, বিগত ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬০১ নারী। ধর্ষণের পর ৩৭ নারীকে হত্যা এবং অপমানে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। এই সময়ে ২৫৩ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪০ নারী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে করোনাকাল এপ্রিল, মে ও জুনে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫৯ নারী এবং ৪০ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র : সময় টিভি, আর টিভি, নিউজ ২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত