প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মনিরুজ্জামান: [২] আখের বাম্পার ফলনে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা,ভালো জাত নির্বাচন, রোগব্যাধি কম থাকা,সময় মতো কৃষি উপকরণ এবং পরামর্শ পাওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশী হয়েছে এমন দাবি কৃষি অফিস ও কৃষকদের।

[৩] তবে করোনা পরিস্থিতিতে বাজার নিন্মগামী হওয়ার শংকায় তারা আগাম পাইকারি বিক্রয় করে দিয়েছে আখক্ষেত। যার কারণে বাজার দাম বর্তমানের তুলনায় কম পেয়েছেন। কৃষকরা জানান, ভোলা-বরিশাল ব্রীজ হলে বাজার প্রতিযোগিতামূলক হবে। ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। উৎপাদিত ফসলের মূল্য ও বেশী পাবে।

[৪] বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়,চলতি বছর এ উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ৫হাজার ৪৬০ মে.টন বিভিন্ন জাতের আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অমৃত, রংবিলাশ, ঈশ্বরদি-২০৬ জাতের আখের গড়ে হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৪০-৪৫টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হয়েছে। কৃষি অফিস আরো জানায়.অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে আখ উৎপাদনে ঝুঁকি নাই।

[৫] এছাড়া ও এর সাথে সাথি ফসল উৎপাদ করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়। যার কারণে আখের উৎপাদন খরচ কম হয়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশী লাভবান হন। এ কারণে কৃষকরা আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

[৬] উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন কয়েকটি আখক্ষেত পরিদর্শেন গিয়ে কথা হয় কয়েকজন আখ চাষির সাথে।ওই এলাকার ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইছহাক মিয়া জানায়, চলতি বছর তিনি ৪৪শতাংশ জমিতে রং বিলাশ ও ২০৮ প্রজাতির আখ চাষ করেন।

[৭] এতে শতাংশ প্রতি খরচ হয় ১২৫০ টাকা। ওই জমির আখ তিনি ক্ষেতেই শতাংশ প্রতি ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। তিনি জানান ধানের চেয়ে আখে খরচ ও পরিশ্রম কম কিন্তু আয় বেশী। আখ কোন চাষীকে ঠকায় না বলে দাবি করেন। আখ চাষী রেশদ আলী, আ. মালেক, খোরশেদ আলম, সহিদুল ইসলাম জানায়, আখের রোগ বালাই কম। অন্য ফসলের মতো এতো যত্ন করতে হয় না।আখ বিক্রয় করে অর্ধেক অর্ধেক লাভবান হওয়া যায়।

[৮] আখ চাষী রেশাদ আলী জানান, উন্নত জাত পরিচিতি, চাষের কলা-কৌশল, পোকা-মাকড় ও রোগ ধমন সম্পর্কে হাতে কলমে জ্ঞান অর্জণের জন্য তিনি ঈশ্বরদি সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যা তার অনেক উপকারে আসছে। তারা জানান,আখ ৯ মাসের ফসল।আলু ৯০দিনের।তাই আখের সাথে আলু চাষ করেই খরচ উঠানো যায়। ।

[৯] উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ ফাহিম ও মনির হোসেন, জানান, “আখের সাথে আলু চাষ সুখে থাকি বার মাস” এ শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে কৃষকরা আখ চাষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া কৃষকরা আখ চাষের সাথে সাথি ফসল, যেমন আলু,গাজর,বাধাকপি,ফুলকপি, ও শিম চাষ করে লাভবান হতে পারেন। এ জন্য কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছ।

[১০] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওমর ফারুখ জানান, আখ চাষ খুব লাভজনক। লাল পচা রোগ ছাড়া তেমন জটিল রোগ নেই এ ফসলে।বর্তমানে আমরা এ উপজেলায় চিবিয়ে খাওয়ার উপেযোগী জাতের আখ চাষের জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছি। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

 

 

সর্বাধিক পঠিত