প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদক গ্রাস করায় সুশান্তও গ্রেফতার হতে পারতেন

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে অভিনেতা সুশান্ত আত্মহত্যা করার পর মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক দিন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন সৌভিক চক্রবর্তী। টানা তিন দিন জেরার পর মঙ্গলবার বিকেলে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসাররা গ্রেফতার করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে। আর সেই ঘটনাই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ভূমিকা নিয়েও। দি ওয়াল

সুশান্ত সিংহ আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও তাই বলা হয়েছিল। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, ধরা যাক সুশান্তের মৃত্যু হয়নি। আর কোনও ভাবে নারকোটিক্স ব্যুরো বলিউডে মাদক চক্রের সন্ধান পেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে সুশান্তও কিন্তু গ্রেফতার হতে পারতেন। কেন না যে অভিযোগে মঙ্গলবার রিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই একই অভিযোগ সুশান্তের উপরেও বর্তায়। বরং এও বলা যেতে পারে এ ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হতেন সুশান্ত। মাদক সেবন, মাদক কেনা এবং মাদক কেনার জন্য টাকাপয়সা দেওয়ার অভিযোগ উঠত তাঁর বিরুদ্ধে।

গত মাসে এক রবিবাসরীয় সকালে সুশান্ত সিংয়ের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেদিন থেকেই গোটা দেশ জুড়ে তরুণ এই অভিনেতাকে নিয়ে আবেগের স্রোত বয়ে গিয়েছিল। বলিউডের একাংশের পরিচালক-প্রযোজককে খলনায়ক সাব্যস্ত করার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল সোশাল মিডিয়া। অভিযোগ উঠেছিল, সুশান্তের অবসাদের নেপথ্যে ছিলেন তাঁরাই। এই পরিস্থিতিতে সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তা শুরু হয়। শুধু সিবিআই নয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ও পরে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোও তদন্তে নামে। আর সেই সব তদন্তের জেরে যে ধরপাকড় হচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে সুশান্ত কি অসংযমী জীবনযাপন করতেন?

নারকোটিক্স ব্যুরো সূত্রে খবর, রিয়া নাকি বলেছেন, “তিনি যা করেছেন সুশান্তের জন্য করেছেন।” অতীতে রিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাদক সেবন বা মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়েছিলেন, তিনি জীবনে কোনওদিন ড্রাগ নেননি এবং যে কোনও সময় রক্ত পরীক্ষার জন্য তিনি প্রস্তুত। কিন্তু টানা জেরার মুখে পড়ে আর স্নায়ু ধরে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। কথার পিঠে কথা ও প্রশ্নের ধাক্কায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন বলেই খবর।

গত শুক্রবার রিয়া-শৌভিকের বাড়িতে পৌঁছেছিল নারকোটিক্স ব্যুরোর সার্চ টিম। তল্লাশির পর শৌভিকের ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তল্লাশি অভিযান শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শৌভিককে সঙ্গে করে নিয়েই এনসিবির দফতরে ফেরেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। দিনভর জেরার পর সন্ধ্যায় শৌভিক চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে এনসিবি। ওই একই দিনে গ্রেফতার করা হয় সুশান্তের বান্দ্রার ফ্ল্যাটের ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে। শৌভিকের মতোই একই ভাবে স্যামুয়েলের বাড়িতেও সাতসকালে পৌঁছয় এনসিবির টিম। তল্লাশির পর তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সঙ্গে করে এনসিবি দফতরে নিয়ে যান সার্চ টিমের আধিকারিকরা। সারাদিন জেরার পর সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয় স্যামুয়েলকে। এরপর শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের জন্য সুশান্তের রাঁধুনি দীপেশ সাওয়ান্তকে তলব করে তাঁকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স ব্যুরো।

এ সব থেকেই প্রশ্ন উঠছে, সুশান্তের প্রশ্রয় ও যোগ না থাকলে তাঁকে ঘিরে মাদক সেবনের এই চক্র গড়ে উঠতে পারত কী? তবে এ ব্যাপারে একটা বিষয় মাথায় রাখা ভাল। তা হল, রিয়া, সৌভিক, স্যামুয়েল এবং প্রয়াত সুশান্তের বিরুদ্ধে এ কথাগুলি এখনও অভিযোগ মাত্র। আদালতে প্রমাণ হয়নি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত