প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আতিক খান: মসজিদে বিস্ফোরণ- বেশির ভাগ দুর্ঘটনা আমরা আদর করেই ডেকে নিয়ে আসি

আতিক খান: মসজিদে বিস্ফোরণ- বেশির ভাগ দুর্ঘটনা আমরা আদর করেই ডেকে নিয়ে আসি। নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণে এপর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছে। আনুমানিক ৫০ জন মতো মুসল্লি ছিলো, আহতদের প্রায় সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে গ্যাস লাইন গিয়েছে। মসজিদে গ্যাস লাইনের কাজ কী? মসজিদে তো রান্নাবান্না হয় না। আর মসজিদের উপরে যদি আবাসিক বন্দোবস্তও থাকে, গ্যাস লাইন অবশ্যই দেয়াল ঘেঁষে প্লাস্টারের নিচে দিয়ে উপরে উঠে কিচেনে যাবে। এ ধরনের একটা নির্মাণ ত্রুটি কীভাবে হলো? ইঞ্জিনিয়াররা কীভাবে এই প্ল্যান বাস্তবায়িত করলেন? এই মসজিদের নকশা কে অনুমোদন দিলো? নাকি আদৌ কোনো প্ল্যানই ছিলো না। আর অন্য বিল্ডিংয়ের পাইপ লাইন হলে সেটা মসজিদের নিচ দিয়ে কেন? লাইন তো ঘুরিয়ে মসজিদের বাইরে দিয়ে নিয়ে যাবার কথা।
মেঝের নিচের পাইপলাইন হতে বহুদিন ধরে গ্যাস লিক করছিলো। এই তথ্য মুসল্লি, মসজিদ কমিটি হতে এলাকাবাসীও জানতেন। এই গ্যাসের গন্ধ নিয়েই উনারা দিনের পর দিন সেখানে নামাজ পড়েছেন। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি বন্ধ রাখা যেতো না? করোনাকালীন সময়ে পুরো বিশে^ প্রায় সব মসজিদই বন্ধ ছিল না? কোনো ক্ষতি হয়েছে? মসজিদ কমিটির দায়িত্ব কী? নিজেদের এবং মুসল্লিদের জীবন এভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে মসজিদটির ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন কেন? মুসল্লিদের মধ্যে কোনো শিক্ষিত, সচেতন মানুষ ছিলেন না, যার সামান্য কমনসেন্স আছে?
তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে জানালে উনারা ৫ লাখ টাকা চেয়েছেন। একটা পাইপ লাইন সরাতে এত টাকা কেন লাগবে? তিতাস গ্যাস হতে লিকেজের খবর জেনেও কেন কোনো তদন্ত দল পরিদর্শনে এলো না? যদি এসে থাকে তবে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি সিল গালা কেন করলো না? এ বিষয়ে প্রশাসন হতে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। বন্ধুতালিকার একজনের চাচা মারা গিয়েছেন। এক ভদ্রলোকের তিন পুত্র সন্তানের দুজন ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে, অন্যজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। উনার মানসিক অবস্থা কল্পনা করা যায়? পোড়া, দগদগে ঘা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষগুলো ভয়াবহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তাদের আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালের বাইরে বসে কাঁদছে, আহাজারি করছে।

এতোগুলো নির্বিকার, বেপরোয়া মানুষের গাফিলতিতে ঝরে গেল সম্ভাবনাময় অসংখ্য মানুষ। কারো কারো মৃত্যুতে হয়তো পুরো পরিবারই এখন অথৈ চোরাবালিতে তলিয়ে গেলো। কী আসে যায়? মানুষ আর লাশ এদেশে কেবলই এক একটা সংখ্য মাত্র! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত