প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুভ কামাল: বাংলাদেশের অন্য অনেক সেক্টরের মতো নারীবাদও পঁচে গেছে!

শুভ কামাল: ধর্ষণ খুবই সিরিয়াস অপরাধ। ওম্যান চ্যাপ্টার রিলেটেড যেকোনো ইস্যুতে আমি সাধারণত মজা নিতে চেষ্টা করি, কিন্তু কালকে ওম্যান চ্যাপ্টারের এক মহিলার ধর্ষণে সহযোগিতার ঘটনাটি নিয়ে আমি মজা করতে পারলাম না। কারণ ধর্ষণ আসলেই একটা সিরিয়াস ইস্যু। বাংলাদেশে ধর্ষণ কখনোই বন্ধ করা যাবেনা কেন জানেন? কারণ ধর্ষক পরিচিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি না, উল্টো ভিকটিমকেই দোষ দিতে চেষ্টা করি, সেটা আমরা যেই হই না কেন, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে হালের ফেসবুকীয় নারীবাদী।

বিশেষ করে বাম ভাইদের নীরবতা হিরন্ময়। জেনেশুনেও দেখলাম এক বাম ভাই ধর্ষণে সহায়তাকারীর পোস্টে লিখলেন ‘সলিডারিটি’! অথচ চ্যারিটি বিগিনস এট হোম, বিপ্লবও ঘর থেকেই শুরু হওয়ার কথা। অথচ বিপ্লবী ভাইয়েরা দুনিয়া উল্টায়ে ফেললেও ঘরের অন্যায়ের ব্যাপারে নিরব, ব্যাপারটা খুব ব্যথিত করেছে আমাকে। ইতোপূর্বেও এক কমরেডের স্ত্রী নির্যাতন, কিংবা কাজের মেয়ে নির্যাতনের ব্যাপারেও তাদের নিশ্চুপ দেখা গেছে, এখন তাদের সহ কমরেডের ধর্ষণের বেলায়ও তারা ভিকটিমকেই দোষ দিতে চাচ্ছেন। স্ত্রী নির্যাতনকে বিডিএসএম বলে চালিয়ে দেন, ধর্ষণকেও এখন দুজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ক্রিয়াকলাপ বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন, অথচ সম্মতি যে কতো বড় ব্যবধান গড়ে দেয় ধর্ষণ আর সহবাসে সেটা নিয়ে তারা নিজেরাই দুয়েক দিন আগে জ্ঞান দিয়েছেন ফেসবুকে। তারা কেন ঘরের ব্যাপারে কথা বলেন না তা আমাকে ভাবায়- হয়তো ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে সেজন্য!

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে সো কলড নারীবাদের যে একটা ধারা এসেছে যারা সেটা এনেছেন তাদের প্রায় সকলেই ভন্ড, এটা অলরেডি অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। আস্তে আস্তে আরো হবে। বাংলাদেশের অন্য অনেক সেক্টরের মতো নারীবাদও পঁচে গেছে। তারা যা বলেন তারা সেটা নিজেরাই মানেন না আমরা বারবার দেখেছি। এর চেয়ে বরং আমরা ম্যানস চ্যাপ্টারের লোকেরা নারীদের বেশী সম্মান দিই। ম্যানস চ্যাপ্টারে যারা অ্যাক্টিভ ছিলো তাদের নামে কখনোই কোনো এলিগেশন আসতে শুনিনি। আসলে শেয়ালেই মুরগির নিরাপত্তা নিয়ে টেনশন বেশি দেখায়।
এর আরেকটা কারণ হচ্ছে ওয়ানা বি প্রগতিশীলতা। এসব বেশির ভাগ লোকই প্রগতিশীলতার শিক্ষা পেয়েছেন অমুক তমুকের কাছে শুনে শুনে। যেমন ধরুন তারা যে পার্টি করেছে, তাতে একটা প্রগতিশীল পার্টির মূলনীতিও কিন্তু তারা ভেঙেছে। সাধারণত যারা একসাথে ড্রিংক করে তারা একে অন্যকে সহযোগিতা করে ঠিক থাকার জন্য। কেউ বেশি খেলে থামতে বলে, কেউ বেতাল হলে ধরে ধরে বাসায় পৌঁছে দেয়, এমনকি বমি পর্যন্ত পরিষ্কার করে। এটাই ড্রিংকারদের মূলনীতি, একটা মাতাল সব সময় সহমাতালকে কেয়ার করে ওই সময়ে আপন ভাইবোনের চেয়েও বেশি, কোনো ক্ষতি হতে দেয় না। এক আসরে ডেকে এনে রেপ করিয়ে দিয়েছে এইটা শুনলে তো জাতে মাতাল ভাইয়েরা এই মহিলাকে আর তার বন্ধুকে যেখানে পাবে সেখানে পিটাবে।

আমেরিকায় কয়েক বছর আগে স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র এক মেয়েকে মদ্যপ অবস্থায় রেপ করেছিল, সারা আমেরিকা জুড়ে ঘটনাটা তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, ছেলেটার সাজাও হয়েছিল। তখনই জেনেছিলাম ভদ্রলোকেরা একটা মেয়ের মদ্যপ থাকা অবস্থায় চান্স নেয় না, এমনকি সম্মতি থাকলেও! আর এখানে যা ঘটলো সেটাতো সব সংজ্ঞায়ই ধর্ষণ। ঠিক এদের কারণে এমন সব ঘটনার কারণেই নারীরা পুরুষদের বন্ধু হিসেবে বিশ্বাস করে না। এখন তো দেখছি বাংলাদেশের নারীরা নারীবাদীদেরই বিশ্বাস করতে পারবে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত