প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেঁসে যাচ্ছেন জেল সুপার, জেলার, কারাক্ষীসহ ২৫ জন
[১] কারাগার থেকে মই দিয়ে পালানোর সময় আবু বকরকে বাধা দেয়নি কেউ : তদন্ত প্রতিবেদন

ইসমাঈল ইমু : [২] গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর নিজের তৈরি মই দিয়েই কারাগারের উচু দেওয়াল টপকে পার হয়ে গিয়েছিলেন। পালানোর সময় পরনে কয়েদির পোশাক না থাকায় তাকে কেউ বাধা দেয়নি। কয়েদি পালানোর ঘটনায় সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির করা অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

[৩] প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, কারাগারে মই বানাতে দেখেও তার কাছ থেকে কেউ সে ব্যাপারে জানতেও চাননি। এ ছাড়া সিদ্দিকের পালিয়ে যাওয়ার ১৬ ঘণ্টা পর মেইলের মাধ্যমে ঘটনাটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। ঘটনার দিন কারাগারের সার্চ লাইট অকেজো ছিল। এমনকি ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ২৭টি অচল ছিল।

[৪] গত ৮ ও ১৩ আগস্ট অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি কারাগার পরিদর্শন করে। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ৪২ জন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটি। এতে বলা হয়, জেল সুপার ও জেলার যদি কারা অভ্যন্তরে আরও তদারকি করতেন এবং ডেপুটি জেলাররা যদি তাদের নির্দিষ্ট এলাকাগুলো নিয়মিত ঘুরতেন এবং কারারক্ষীরাও যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে কারাগারের ভেতরে মই থাকত না।

[৫] তদন্ত কমিটির ঘটনার বর্ণনা থেকে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট বেলা সোয়া ১১টায় কাঁধে একটি মই নিয়ে সাধারণ পোশাকে ব্রহ্মপুত্র ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের হন আবু বক্কর সিদ্দিক। এ সময় দায়িত্বরত কারারক্ষীদের কেউ ঘোরাফেরা করছিলেন, কেউ গল্প করছিলেন। সিদ্দিক মই কাঁধে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র ভবনের বাইরের ফটক দিয়ে বেরিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে কারাগারের মূল ফটকের দিকে যান। মই থাকলেও মূল ফটকে দায়িত্বরত কারারক্ষীর বাধার সম্মুখীন হননি তিনি।

[৬] দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মই পড়ে থাকতে দেখে একজন কারারক্ষী মইটি কেস টেবিলে পাঠান কয়েদি গোয়েন্দা জাকিরকে দিয়ে। সে সময় কেস টেবিলে সর্বপ্রধান কারারক্ষী বসা ছিলেন। তদন্ত কমিটি বলছে, পুরো ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে বিলম্ব করেছেন কারারক্ষী থেকে শুরু করে জেল সুপার। এ ব্যাপারে জানাননি কেস টেবিলে বসা সর্বপ্রধান রক্ষী আবুল কালাম আজাদ, গোয়েন্দা সহকারী প্রধান রক্ষী আহাম্মদ আলী, গোয়েন্দা কারারক্ষী হক মিয়া কেউই। এমনকি তারা মই কেস টেবিলে আসার ব্যাপারেও কিছু জানাননি।

[৭] গণনায় একজন কয়েদি কম থাকার বিষয়টি সামনে এলেও কারারক্ষী বিষয়টি জেলার বা জেল সুপারকে জানাননি। ওইদিন সন্ধ্যায় ফের বন্দী গণনার সময় একজন কম থাকায় বিষয়টি ডেপুটি জেলার ও জেলারের সামনে আসে। ৭ আগস্ট গাজীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়।

[৮] আসামি সিদ্দিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত একজন কয়েদি হওয়া সত্ত্বেও কখনো নির্দিষ্ট পোশাক পরতেন না। তবুও তাকে কয়েদি পোশাক পরতে বাধ্য করার জন্য কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনায় কাশিমপুর কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহানারা বেগমসহ মোট ২৫ জনকে দায়ী করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কারাবিধি ও সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

[৯] এ ছাড়া কারাগারের সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও এসব ক্যামেরার ফুটেজের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বলেছেন। এ ছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অবকাঠামোগত ত্রুটি থাকলে মেরামত বা সংস্কারের ব্যবস্থা করা, কয়েদি পোশাক পরা নিশ্চিত করাসহ মোট ১৬টি সুপারিশ করেছে কমিটি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত