প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে প্রতি লাখ মানুষের জন্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আছেন একজনেরও কম

ডেস্ক রিপোর্ট : শল্য চিকিৎসায় সার্জনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট। অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট অদক্ষ হলে অনেক সময় অপারেশন থিয়েটার থেকে রোগী জীবিত ফিরে না আসার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু দেশে চিকিৎসাশাস্ত্রের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকবলের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট থাকা প্রয়োজন। অথচ সরকারি চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশে প্রতি লাখে একজনেরও কম অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আরো কিছুসংখ্যক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে সরকারিভাবে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা ৯৪৯ জন। আর বেসরকারিভাবে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রয়েছেন আরো ৬২৬ জন। যদিও বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশে যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়া এবং বেসরকারি খাতেও চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা বাড়ছে না দেশে, যার প্রভাব পড়ছে চিকিৎসাসেবায়।

রোগীর অস্ত্রোপচারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট। তারা শুধু রোগীকে অচেতন করার কাজই করেন না, আইসিইউতে পেইন ম্যানেজমেন্ট ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারে থাকা রোগীদের সেবাও দিয়ে থাকেন তারা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের বেশ কদর থাকলেও বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে তাদের সুযোগ-সুবিধা যেমন অপ্রতুল, তেমনি চাকরির সংখ্যাও কম।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের চাকরির সুযোগ সীমিত। সরকারি অনেক হাসপাতালে এই পদ খালি রয়েছে। আমরা একাধিকবার এসব বিষয় জানিয়েছি। কিন্তু নিয়োগের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির সুযোগ সীমিত থাকার কারণেই অনেকে আগ্রহ থাকলেও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন না। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া এ খাতের চিকিৎসক সংকট সহসাই কমবে না বলে মনে করেন তিনি।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা অনেকটা অবহেলিত। প্রতি বছর চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে। অথচ এ বিভাগে পদ বাড়ানো হচ্ছে না। দেশের বড় বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোয় সার্জারি ইউনিট বাড়ানো হলেও সে অনুপাতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।

করোনা মহামারী শুরুর পর দেশের স্বাস্থ্য খাতের নানান দুদর্শার চিত্র উন্মোচিত হতে থাকে। এর মধ্যে করোনায় বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট মারা গিয়েছেন। তাদের মৃত্যু সংকট আরো বাড়িয়ে তুলেছে। অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের অপ্রতুলতায় আইসিইউতে দুর্ভোগে পড়তে হয় সেবাপ্রার্থীদের।

কেবল অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট নয়, দেশের চিকিৎসা খাতের প্রায় সব ক্ষেত্রেই চাহিদার তুলনায় কম জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে যে সংখ্যক জনবলের অনুমোদন রয়েছে তার চেয়ে প্রায় ২৫ ভাগ কম জনবলে চলছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের কার্যাবলি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৬। এসব পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৬ জন। অনুমোদিত জনবলের ৩৮ হাজার ১৭০টি পদেই নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার আওতা বেড়েছে অনেক। তবে এর বিপরীতে জনবল কাঠামো সেভাবে বাড়ানো হয়নি। আবার অনুমোদিত জনবল কাঠামোরও পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে করে ক্রমবর্ধমান বিপুল সেবা চাহিদার বিপরীতে জনবল ঘাটতি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয়ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দেয়ার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ২০১১ সালে প্রণীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে জনবলকাঠামো পূরণে বেশকিছু প্রস্তাব ছিল। সেসব পরিপালন করা হলে আজ স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট এত প্রকট আকার ধারণ করত না। স্বাস্থ্যনীতির এসব লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে চলমান কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব। বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত