প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নাচোলে ডিএপি সারের সংকট, দিশেহারা কৃষক

জোহরুল ইসলাম জোহির: [২] চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ডিএপি ( ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট) সারের সংকট দেখা দিয়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ কৃষক। অপর দিকে কোন কোন ডিলারের দেকানে সার পাওয়া গেলেও বস্তা প্রতি ১শ টাকা থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মিলছে সার।

[৩] সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাচোল উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর। আমন মৌসুমের শুরুতে ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট) সার সংকট দেখা দেওয়ায় পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না কৃষক। অপরদিকে বস্তা প্রতি ১শ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দিলেই মিলছে সার। ফলে সরকার ডিএপি সারের দাম কমালেও এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। ডিএপি সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৮ ভাগ থাকায় কৃষক ডিএপি সার ব্যবহার করেন। আর এ জন্য ফলনও ভালো হয়।’ কিন্তু কৃষক উপযুক্ত সময়ে জমিতে ডিএপি সার যদি দিতে না পারে তবে আমন ধানের উৎপাদন ফলনে ধস নামতে পারে বলে এমনটা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগিরা।

[৪] নাচেল উপজেলার খেসবা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান,গত মঙ্গলবার সকালে নাচোলের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ডিএপি সার ক্রয় করতে গেলে বেশির ভাগ ডিলাররা জানাই সার নেই। ডাকবাংলা মোড়ে একটি দোকানে সার আছে তবে বস্তা প্রতি দাম নিচ্ছে সরকার ঘোষিত ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৯৭০ টাকা।

[৫] নেজামপুর বাজার পাড়া গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান জানান,গত দুদিন ধরে বাজারের বেশির ভাগ দোকানে ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য জেলা থেকে যেসব ডিলাররা সার নিয়ে এসে বিক্রি করছে সে ডিএপি সারের বস্তা প্রতি আবার একশ টাকা থেকে দুইশ টাকা বেশি নিচ্ছে।

[৬] এ বিষয়ে নৈমুুউদ্দিন ট্রেডার্স এর স্বাত্বাধিকারী বিসিআইসি ডিলার পলাশ জানান, আমাদের উপজেলায় গত মাসের চেয়ে চলতি মাসে ডিএপি সারের বরাদ্দ কম হওয়ায় এবং কৃষকের চাহিদা বেশি থাকার কারণে ডিএপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা জনগনের সুবিধার্তে অন্য উপজেলা হইতে ডিএমপি সার কিছুটা এনে সংকট কাটানোর চেষ্টা করছি। তবে কৃষক কে এসব সার একটু বেশি দামে নিতে হচ্ছে। কারণ আমরা বাইরে থেকে যে ডিএপি সার আনছি তার পরিবহণ খরচ একটু বেশি হচ্ছে।

[৭] এ বিষয়ে বিসিআইসি সার ডিলার সেরাজুল ইসলাম জানান, ডিএপি সারের দাম সরকার ঘোষিত ৮০০ টাকা হওয়ায় জনগন এ সারটা এখন বেশি জমিতে ব্যবহার করছে। আমাদের এ মাসে ডিএপি সারের বরাদ্দ কম হওয়ার কারনে এ সংকট তৈরি হয়েছে। আমার দোকানে গতকালই ডিএপি সার শেষ হয়ে গেছে। জনগন সার না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছে।

[৮] এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিএপি সারের সংকট স্বীকার করে জানান, এবার উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মাসের বরাদ্দকৃত ২২৩ মেট্রিক টন ডিএপি সার ডিলাররা উত্তোলন করেছেন। তবে অনেক ডিলার জানান, তাঁদের কাছে ডিএপি সার নেই। গত মাসের চেয়ে চলতি মাসে ডিএপি সারের বরাদ্ধ কম হওয়ায় এবং চাহিদা বেশি থাকায় এ সমস্য হচ্ছে। সে কারণে কৃষকও পাচ্ছেন না। এ সংকট উত্তরোনের জন্য আমরা অতিরিক্ত ডিএপি সারের বরাদ্ধের জন্য আবেদন করেছি। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বাধিক পঠিত