প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতার দুই অভিযোগের তদন্তে গেলে আরো জোটে ১০ অভিযোগ

নিজম্ব প্রতিবেদক : [২] পিএসসি পরীক্ষায় পাশ করিয়ে ও মোবাইল ফোন কম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে, টাকা আত্মসাৎকারী সেই তথাকথিত শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করতে যাচ্ছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা প্রসাশন।

[৩] এর আগে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার শিক্ষা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৪৪ নং চাঁদকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জনের কাছে ওই এলাকার ২ ব্যক্তি অভিযোগ করেন।

[৪] উপজেলা চেয়ারম্যান ওই অভিযোগের আলোকে, উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহবুবুর হোসেনকে তদন্তের ভার দেন। এরপর গতকাল ওই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান।

[৫] এ ব্যাপারে উপজলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহাবুব হোসেন বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইওনো সাহেবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। যা প্রক্রিয়াধিন। দুটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে। ঘটনাস্থলে আরো ২০ জন স্থানীয় গন্যমাণ্যরা অভিযোগ দেন। সব গুলোরই প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে।

[৬] স্থানীয়রা জানান, গতকাল সমাজ সেবা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিক্ষক কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ১৫ জন অবিভাবক অভিযোগ করেন। এর মধ্যে মামুন বাহাদুর ওই শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের কারণে তার তিন সন্তান অনত্র ভর্তির কথা জানান। এছাড়া কমল কান্তি জানান, তার সন্তানকে বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন ওই শিক্ষক, হরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, মোবাইল টাওয়ারে কাজ দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেয় শিক্ষক কামরুল। সুশান্ত মিস্ত্রীর কাছে থেকে দুই বছর আগে টাওয়ারে কাজ দেয়ার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা নেয় ওই শিক্ষক। এ ছাড়া পল্লব মণ্ডল, টুলু মৈত্রের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে টাওয়ারে কাজ না দেয়ার অভিযোগ করেন।

[৭] এ ব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন বলেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি বিধি বর্হিভূত কাজ করে থাকেন। তাইলে শিশুরা কি শিখবে। ত এটা দু:খজনক।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসাতে চাইছে।

[৮] এ ব্যপারে নাজিরপুর থানার (বদলীকৃত) থানা শিক্ষা অফিসার (টিও) শিকদার আতিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, অামি থাকা অবস্থায়ই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে ভার দেয়া হয় । শুনেছি তিনি গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। হয়তো নুতন টিইও যোগদান করে বিষয়টি দেখবেন।

[৯] অভিযোগ আছে,সরকার দলীয় সর্বোচ্চ এক ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তির পক্ষে অভিযুক্তের অবস্থান থাকায়। এই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে কেউইসকোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

[১০] উল্লেখ্য, গত তিনমাস আগে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন হয় । এরপর নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জণ হালদার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই আলোকে গতকাল সমাজ সেবা কর্মকর্তা ঘটনাস্থনে যান। এবং অভিযোগের সত্যতা পান।

সর্বাধিক পঠিত