শিরোনাম
◈ আবারও দুবাই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ ◈ ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত : দুই শ্রমিক নিহত ◈ আজান দিলেই মসজিদে আসে সাপ, শেষ হওয়ার পরপরই আবার অদৃশ্য হয়ে যায়, আরও নানা রহস্য! ◈ ঈদ উপলক্ষে যে ৬ দিন বন্ধ থাকবে যেসব যানবাহন ◈ এবার যে সুখবর পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা ◈ ইরানে ৬০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছে যুক্তরাষ্ট্র, জা‌না‌লো ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ◈ টেস্ট টিউবে প্যাক করা ২০০০ রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল ◈ পা‌কিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে আজ জিত‌লেই ‌সি‌রিজ বাংলাদেশের ◈ ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংগঠিত, গোলকধাঁধায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ◈ হিন্দু মন্দিরে ভারতের টি-টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে যাওয়ায় শুরু হ‌য়ে‌ছে রাজ‌নৈ‌তিক বিতর্ক

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংগঠিত, গোলকধাঁধায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট সুসংগঠিত। 

দেশটির নেতৃত্ব শিগগিরই ভেঙে পড়ার বা পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইসরায়েলও বলছে, ইরানে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নিশ্চয়তা দেখছে না তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তেল আবিব মনে করছে, এখনো এ যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়নি ওয়াশিংটন। 

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ইরানের বৈধ অধিকারগুলোর স্বীকৃতির শর্ত দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ শর্তগুলো দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনরা দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এ পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে আছে যুদ্ধের বিপুল ব্যয় ও আন্তর্জাতিক চাপ। সব মিলিয়ে চলমান এ যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি গোলকধাঁধায় পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেন ইরানের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে কুর্দি, বেলুচ ও আরব সংখ্যালঘুদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার এ বার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, এসব গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিদ্রোহ বা সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু বাস্তবে টানা ১১ দিন তীব্র হামলা সত্ত্বেও ইরানে এখনো বিদ্রোহ বা গণঅভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

রয়টার্স জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। একই সঙ্গে দেশটিতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যা অনেক ইরানির মধ্যে ক্ষোভও বাড়িয়েছে।

ইরানের পুলিশ বলছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শত্রুর আহ্বানে কেউ রাস্তায় নামলে তাদের বিক্ষোভকারী নয়, শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে খামেনির মৃত্যুর খবরে কিছু মানুষ প্রকাশ্যে উল্লাস করলেও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে কেউ বিক্ষোভ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক ইরানি রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন।

তেহরানের ২৬ বছর বয়সী বাসিন্দা আলি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি এ শাসনব্যবস্থাকে ঘৃণা করি এবং চাই এর শেষ হোক। কিন্তু বোমাবর্ষণের মধ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি নেই। -- সূত্র, দেশরূপান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়