শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংগঠিত, গোলকধাঁধায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট সুসংগঠিত। 

দেশটির নেতৃত্ব শিগগিরই ভেঙে পড়ার বা পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইসরায়েলও বলছে, ইরানে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নিশ্চয়তা দেখছে না তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তেল আবিব মনে করছে, এখনো এ যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়নি ওয়াশিংটন। 

advertisement

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ইরানের বৈধ অধিকারগুলোর স্বীকৃতির শর্ত দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ শর্তগুলো দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনরা দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এ পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে আছে যুদ্ধের বিপুল ব্যয় ও আন্তর্জাতিক চাপ। সব মিলিয়ে চলমান এ যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি গোলকধাঁধায় পড়েছে।

advertisement

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেন ইরানের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে কুর্দি, বেলুচ ও আরব সংখ্যালঘুদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার এ বার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, এসব গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিদ্রোহ বা সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু বাস্তবে টানা ১১ দিন তীব্র হামলা সত্ত্বেও ইরানে এখনো বিদ্রোহ বা গণঅভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

রয়টার্স জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। একই সঙ্গে দেশটিতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যা অনেক ইরানির মধ্যে ক্ষোভও বাড়িয়েছে।

advertisement

ইরানের পুলিশ বলছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শত্রুর আহ্বানে কেউ রাস্তায় নামলে তাদের বিক্ষোভকারী নয়, শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে খামেনির মৃত্যুর খবরে কিছু মানুষ প্রকাশ্যে উল্লাস করলেও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে কেউ বিক্ষোভ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক ইরানি রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন।

তেহরানের ২৬ বছর বয়সী বাসিন্দা আলি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি এ শাসনব্যবস্থাকে ঘৃণা করি এবং চাই এর শেষ হোক। কিন্তু বোমাবর্ষণের মধ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি নেই। -- সূত্র, দেশরূপান্তর

  • সর্বশেষ