শিরোনাম
◈ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে অটল থাকার বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ◈ হামে আক্রান্ত আরও ১২৪, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৫ শিশুর ◈ এক সম‌য়ের তু‌খোড় ফুটবলার আজ বাস কন্ডাক্টর ◈ ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের অনুপস্থিতি ‘দুঃখজনক’: হট্টগোলে ক্ষোভ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ◈ লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ◈ জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ আমার কমনসেন্স বলে, তিনি নিশ্চয়ই দেশে ফিরে আসবেন: রুমিন ফারহানা (ভিডিও) ◈ হাসিনা দেশে এলে রাজপথে দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ◈ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু সেপ্টেম্বরে: গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী ◈ যুদ্ধবিরতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর
আপডেট : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংগঠিত, গোলকধাঁধায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট সুসংগঠিত। 

দেশটির নেতৃত্ব শিগগিরই ভেঙে পড়ার বা পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইসরায়েলও বলছে, ইরানে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নিশ্চয়তা দেখছে না তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তেল আবিব মনে করছে, এখনো এ যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়নি ওয়াশিংটন। 

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ইরানের বৈধ অধিকারগুলোর স্বীকৃতির শর্ত দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ শর্তগুলো দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনরা দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এ পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে আছে যুদ্ধের বিপুল ব্যয় ও আন্তর্জাতিক চাপ। সব মিলিয়ে চলমান এ যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি গোলকধাঁধায় পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেন ইরানের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে কুর্দি, বেলুচ ও আরব সংখ্যালঘুদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার এ বার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, এসব গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিদ্রোহ বা সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু বাস্তবে টানা ১১ দিন তীব্র হামলা সত্ত্বেও ইরানে এখনো বিদ্রোহ বা গণঅভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

রয়টার্স জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। একই সঙ্গে দেশটিতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যা অনেক ইরানির মধ্যে ক্ষোভও বাড়িয়েছে।

ইরানের পুলিশ বলছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শত্রুর আহ্বানে কেউ রাস্তায় নামলে তাদের বিক্ষোভকারী নয়, শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে খামেনির মৃত্যুর খবরে কিছু মানুষ প্রকাশ্যে উল্লাস করলেও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে কেউ বিক্ষোভ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক ইরানি রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন।

তেহরানের ২৬ বছর বয়সী বাসিন্দা আলি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি এ শাসনব্যবস্থাকে ঘৃণা করি এবং চাই এর শেষ হোক। কিন্তু বোমাবর্ষণের মধ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি নেই। -- সূত্র, দেশরূপান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়