প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ: চিকিৎসা স্বাস্থ্য সিলেবাসের আধুনিকীকরণ

শামীম আহমেদ: করোনা পরিস্থিতির কারণে রজত দাস গুপ্ত এবং আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা সিলেবাস নিয়ে চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে। শুধু দারিদ্র এবং দুর্বল সরকারি ব্যবস্থাপনা কিংবা বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গালি দিয়ে পরিবেশ গরম করা যাবে, কিন্তু মহামারী সামলানো যাবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হয়েও আমেরিকা করোনা মোকাবেলায় সফল হয়নি। অগণতান্ত্রিক দেশ হয়েও ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া অনেক গণতান্ত্রিক দেশের চাইতে সফল হয়েছে। সুতরাং কোনো একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক করোনা মোকাবেলায় কোনো দেশকে সফল বা ব্যর্থ হতে দেয়নি। যাই হোক স্বাস্থ্যসেবার মূল জায়গাটা স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেটা হোক চিকিৎসক, নার্স, জনস্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক, স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারক কিংবা স্বাস্থ্য সাংবাদিক। তাই আমাদের মনে হয়েছে আমাদের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তনের দরকার আছে মহামারী নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালনের জন্য।

আমরা বলেছি : [১] চিকিৎসা শিক্ষায় মহামারীতে প্রস্তুতি বিষয়ক অধ্যায় সংযুক্ত করতে হবে। এমনকি পিপিই কীভাবে পরতে হয়, সেটিও আমরা আগে জানতাম না।

[২] শুধু রোগ নির্ণয় এনং রোগীর ব্যবস্থাপনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের গবেষণা শিখতে হবে, গবেষণা করা জানতে হবে। গবেষণার ফলাফল বোঝা এবং তা চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রয়োগের জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

[৩] বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক তথ্য থেকে ভুল তথ্যকে আলাদা করা শিখতে হবে। মহামারীর সময়ে এতো বেশি ভুল তথ্যের অবতারণা হয় যে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভ্রান্তি বড় ধরণের বিপর্যন্ত ডেকে আনতে পারেন।

[৪] করোনার কারণে চিকিৎসা শিক্ষা ব্যপকভাবে ব্যহত হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার অনেক বিষয়ই বাস্তবিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিখতে হয়, তাই দূরবর্তী শিক্ষণের মাধ্যমে তার বিকল্প পন্থা আত্মস্থ করা জরুরি।

[৫] উন্নত ও ধনী দেশের স্টিমুলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো দেশে সেটি সম্ভব হয়নি। যদি করোনা হয় ‘নতুন বাস্তবতা’, তবে সময় নিয়ে, বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

[৬] মহামারীতে ফোরকাস্টিং এবং প্রজেকসান অতি জরুরী দুটি বিষয়। এ দুটো বিষয় কাজে লাগিয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রয়োজন হয়, নতুবা নানা উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়, যেমন : সবুজ, হলুদ ও লাল এলাকাভেদের লক ডাউন। পরিসংখ্যানের এই জরুরি বিষয়গুলো চিকিৎসা শিক্ষার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

[৭] মহামারী নিয়ন্ত্রণে রোগবিস্তার সংক্রান্ত বিদ্যা, অর্থাৎ এপিডেমিওলোজি এবং সামাজিক ও ব্যবহারিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের কার্যকরী প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে পারঙ্গম হবার জন্য সংখ্যাবাচক এবং গুণবাচক গবেষণায় দক্ষ হতে হবে। আমাদের চিকিৎসা শিক্ষা সিলেবাসে এর গুরুত্ব খুবই সামান্য। সার্বিক বিবেচনায়, জনস্বাস্থ্যের সিলেবাস অনেক জায়গায় আধুনিক হলেও চিকিৎসা শিক্ষার সিলেবাস আধুনিকরণ এবং যুগোপযুগী করা এখন খুব জরুরি। ফেসবুক থেকে

 

সর্বাধিক পঠিত