প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিনহা হত্যা : অবশেষে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে প্রদীপ-লিয়াকতকে

ডেস্ক রিপোর্ট : বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলালকে অবশেষে রিমান্ডে নিচ্ছে র‍্যাব। মঙ্গলবার তাদের রিমান্ডে নিতে পারেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আগে থেকে রিমান্ডে থাকা আসামীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি করা হতে পারে। সোমবার রাতে র‍্যাব সদরদপ্তরের এক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য জানায়।

এর আগে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করার এতোদিন পরও তাদের জিজ্জাসাবাদ শুরু না করায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কারো কারো অভিযোগ আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এমনটা হচ্ছে। সাধারণত হত্যা মামলার আসামি হয়ে কোন সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হওয়ার পরের দিনই রিমান্ডে নিয়ে জেরা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সিনহা হত্যা মামলায় জড়িতদের ক্ষেত্রে ঘটেছে ব্যতিক্রম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‍্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সব আসামিকেই পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নেয়া হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সুবিধামতো প্রধান অভিযুক্তদের কারাগার থেকে রিমান্ডে নিয়ে জেরা করবেন।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও প্রথমে পুলিশের মামলার বাদী এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। সেখানে গিয়েই তাদের বক্তব্য নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সোমবার কারাফটকে তাদের কয়েক ঘন্টা জিজাসাবাদ করেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল।

অন্যদিকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইফ সড়কের যে পুলিশ চেকপোষ্টে সাবেক সেনা কমর্কর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার করা হয়, সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুলল্লাহ আল মামুন। সোমবার বিকেলে এলাকাটি পরিদর্শনের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন র‍্যাব প্রধান।

নানা নাটকীয়তা শেষে গত ৬ আগষ্ট রাতে আলোচিত এ হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও পুলিশের মামলার বাদী এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ সাত আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন। এ দিন দুপুরে ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে কক্সবাজারে নেয়া হয়। অপর ছয় আসামি আদালতে আত্মসমর্পন করেন।

১১ দিন আগে সব আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করা হলেও সাতজনকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন র‍্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম। সিনহা হত্যার কারণ কি, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড, কোন পেক্ষাপটে গুলি করা হলো, সিনহা তার অস্ত্র আদৌ তাক করেছিল কিনা, কেন প্রথমে ডাকাত নাটক সাজানো হয়েছিল-এমন সব প্রশ্ন আসামিদের করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের জেরায় তারা অনেক তথ্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের করা মামলার প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও ২ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। এ দুজন ছাড়া মামলায় আরো সাত পুলিশ সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। পরে ওই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা র্যাব আরো তিনজনকে আসামি করে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে। মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ-এই তিন আসামি ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলার স্বাক্ষী ও স্থানীয়ভাবে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। আলোচিত এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। টুটুল ও মোস্তফা পলাতক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরির্দশক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
সুত্র- মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত