শিরোনাম
◈ ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ঘিরে নীলক্ষেতে বিজিবি, সায়েন্সল্যাবে পুলিশের কড়া অবস্থান ◈ ৩ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগে পরিবারের তিন সদস্যক আটক, অভিযুক্ত চাচি পলাতক ◈ ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ আদমজী ইপিজেডে পোশাক কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ◈ অবশেষে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী ◈ চট্টগ্রামে নতুন আতঙ্ক ‘ডেভিড ইমন’, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ ◈ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ইরান হ‌লোএকমাত্র নিশ্চয়তাকারী: রুশ বিশ্লেষক ◈ ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দরে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা, এক বছরে কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টন ◈ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিশ্বকা‌পে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ৩ লাখ টাকার উপ‌রে

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এ বি এম কামরুল হাসান : ১৫ আগস্টের স্মৃতি- আল্লাহ, নিহত মানে যেন ‘মরে যাওয়া’ না হয় !

আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। নিহত আর আহত নিয়ে সেই সময়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলতাম। কোনটা 'মরে যাওয়া' এটা কোনোভাবেই মনে রাখতে পারতাম না। তাই সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে যেখানটায় লেখা ছিল- গৌতম বুদ্ধ নিহত হন, সেখানে লিখে রেখেছিলাম 'মরে গেছে' । পনেরো আগস্ট খুব সকালে দূর সম্পর্কের 'নূরানী মামা' আমাদের বাসায় হাজির। সম্পর্কটা দূরের হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে তিনি আমাদের আপনজন। একাত্তরের ১৮ আগস্ট স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী আমাদের যশোরের গ্রামের বাড়ি আক্রমণ করে। চাচাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তারপর আমরা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় গ্রহণ করি। আব্বা বনগাঁ আঞ্চলিক অফিস ও শরণার্থী ক্যাম্পে কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় বনগাঁতেই অবস্থান করতেন। চার শিশু সন্তান নিয়ে আমার মা থাকতেন বিথারি নামে একটা গ্রামে, বনগাঁ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। নূরানী মামা আমাদেরকে আগলে রেখেছিলেন সেখানে। পনেরো আগস্ট সকালে মামা খুব জোরে ডাকাডাকি করছেন, উদ্বিগ্নভাবে। বলছেন, ভাই উঠেন। রেডিও খুলেন। রেডিওতে বলছে, শেখ মুজিব 'নিহত' হয়েছেন। বাসার সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে। আমিও। আব্বা রেডিও চালু করতে গেলেন। আমি দোয়া পড়তে পড়তে গেলাম সমাজ বিজ্ঞান বই দেখতে, নিহতের মানে খুঁজতে। দোয়াটা ছিল ‘আল্লাহ, নিহত মানে যেন মরে যাওয়া না হয়’। তারপর বাসার সবাই গম্ভীর। আমি বিষন্ন। আব্বা কথা দিয়েছিলেন, এবার ঢাকা গেলে আমাকে নিয়ে যাবেন। শেখ মুজিবকে দেখার ব্যবস্থা করবেন। আব্বার অণুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধুর ওপর 'শ্রেণী উপযোগী' একটি রচনা মুখস্ত করে তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে গেছি। তাছাড়া জ্ঞান হবার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু নামটা প্রতিনিয়ত শুনছি । তাই তাঁকে দেখার বাসনা জেগেছিলো। পনেরো আগস্টের অভিশপ্ত সকালে সেই বাসনা চিরতরে শেষ হয়ে গেলো। আর সেদিন থেকে নিহত মানে যে কি, তা আর ভুলি নাই। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়