শিরোনাম
◈ শ্রমিকদের বিরোধিতার মধ্যেই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের এনসিটি ইজারা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নগ্ন সোনালি ট্রাম্পের ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ ◈ চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার এড়ালেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা, পুলিশের অভিযান ব্যর্থ ◈ ৭৫ কোটি টাকায় বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক, হবে ‘নজরুল সরোবর’ ◈ ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনীতি, বছরে আসে ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ◈ তালাকের আগেই দেনমোহর চাইতে পারবেন স্ত্রী: হাইকোর্ট ◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব ◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এ বি এম কামরুল হাসান : ১৫ আগস্টের স্মৃতি- আল্লাহ, নিহত মানে যেন ‘মরে যাওয়া’ না হয় !

আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। নিহত আর আহত নিয়ে সেই সময়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলতাম। কোনটা 'মরে যাওয়া' এটা কোনোভাবেই মনে রাখতে পারতাম না। তাই সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে যেখানটায় লেখা ছিল- গৌতম বুদ্ধ নিহত হন, সেখানে লিখে রেখেছিলাম 'মরে গেছে' । পনেরো আগস্ট খুব সকালে দূর সম্পর্কের 'নূরানী মামা' আমাদের বাসায় হাজির। সম্পর্কটা দূরের হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে তিনি আমাদের আপনজন। একাত্তরের ১৮ আগস্ট স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী আমাদের যশোরের গ্রামের বাড়ি আক্রমণ করে। চাচাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তারপর আমরা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় গ্রহণ করি। আব্বা বনগাঁ আঞ্চলিক অফিস ও শরণার্থী ক্যাম্পে কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় বনগাঁতেই অবস্থান করতেন। চার শিশু সন্তান নিয়ে আমার মা থাকতেন বিথারি নামে একটা গ্রামে, বনগাঁ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। নূরানী মামা আমাদেরকে আগলে রেখেছিলেন সেখানে। পনেরো আগস্ট সকালে মামা খুব জোরে ডাকাডাকি করছেন, উদ্বিগ্নভাবে। বলছেন, ভাই উঠেন। রেডিও খুলেন। রেডিওতে বলছে, শেখ মুজিব 'নিহত' হয়েছেন। বাসার সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে। আমিও। আব্বা রেডিও চালু করতে গেলেন। আমি দোয়া পড়তে পড়তে গেলাম সমাজ বিজ্ঞান বই দেখতে, নিহতের মানে খুঁজতে। দোয়াটা ছিল ‘আল্লাহ, নিহত মানে যেন মরে যাওয়া না হয়’। তারপর বাসার সবাই গম্ভীর। আমি বিষন্ন। আব্বা কথা দিয়েছিলেন, এবার ঢাকা গেলে আমাকে নিয়ে যাবেন। শেখ মুজিবকে দেখার ব্যবস্থা করবেন। আব্বার অণুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধুর ওপর 'শ্রেণী উপযোগী' একটি রচনা মুখস্ত করে তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে গেছি। তাছাড়া জ্ঞান হবার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু নামটা প্রতিনিয়ত শুনছি । তাই তাঁকে দেখার বাসনা জেগেছিলো। পনেরো আগস্টের অভিশপ্ত সকালে সেই বাসনা চিরতরে শেষ হয়ে গেলো। আর সেদিন থেকে নিহত মানে যে কি, তা আর ভুলি নাই। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

  • সর্বশেষ