শিরোনাম
◈ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে চলত যেসব আয়োজন ◈ যে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের লাখ টাকা অনুদান দেবে সরকার ◈ টানা ছুটিতে জমজমাট কক্সবাজার, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ◈ কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ৩ বগি লাইনচ্যুত, আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ◈ সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তান ও কাতারের নতুন মধ্যস্থতা প্রস্তাব ◈ সন্ধ‌্যায় বাংলা‌দেশ-আফগা‌নিস্তান মু‌খোমু‌খি, ফাইনালে যেতে টাইগার‌দের সামনে কঠিন সমীকরণ ◈ ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণার পর সেই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার ◈ বাংলাদেশ-নেপালের সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের বিক্ষোভের তুলনা নাকচ করলেন অভিজিৎ দিপকে ◈ নগদনির্ভর লেনদেনে বছরে ৯৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এ বি এম কামরুল হাসান : ১৫ আগস্টের স্মৃতি- আল্লাহ, নিহত মানে যেন ‘মরে যাওয়া’ না হয় !

আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। নিহত আর আহত নিয়ে সেই সময়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলতাম। কোনটা 'মরে যাওয়া' এটা কোনোভাবেই মনে রাখতে পারতাম না। তাই সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে যেখানটায় লেখা ছিল- গৌতম বুদ্ধ নিহত হন, সেখানে লিখে রেখেছিলাম 'মরে গেছে' । পনেরো আগস্ট খুব সকালে দূর সম্পর্কের 'নূরানী মামা' আমাদের বাসায় হাজির। সম্পর্কটা দূরের হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে তিনি আমাদের আপনজন। একাত্তরের ১৮ আগস্ট স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী আমাদের যশোরের গ্রামের বাড়ি আক্রমণ করে। চাচাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তারপর আমরা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় গ্রহণ করি। আব্বা বনগাঁ আঞ্চলিক অফিস ও শরণার্থী ক্যাম্পে কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় বনগাঁতেই অবস্থান করতেন। চার শিশু সন্তান নিয়ে আমার মা থাকতেন বিথারি নামে একটা গ্রামে, বনগাঁ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। নূরানী মামা আমাদেরকে আগলে রেখেছিলেন সেখানে। পনেরো আগস্ট সকালে মামা খুব জোরে ডাকাডাকি করছেন, উদ্বিগ্নভাবে। বলছেন, ভাই উঠেন। রেডিও খুলেন। রেডিওতে বলছে, শেখ মুজিব 'নিহত' হয়েছেন। বাসার সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে। আমিও। আব্বা রেডিও চালু করতে গেলেন। আমি দোয়া পড়তে পড়তে গেলাম সমাজ বিজ্ঞান বই দেখতে, নিহতের মানে খুঁজতে। দোয়াটা ছিল ‘আল্লাহ, নিহত মানে যেন মরে যাওয়া না হয়’। তারপর বাসার সবাই গম্ভীর। আমি বিষন্ন। আব্বা কথা দিয়েছিলেন, এবার ঢাকা গেলে আমাকে নিয়ে যাবেন। শেখ মুজিবকে দেখার ব্যবস্থা করবেন। আব্বার অণুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধুর ওপর 'শ্রেণী উপযোগী' একটি রচনা মুখস্ত করে তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে গেছি। তাছাড়া জ্ঞান হবার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু নামটা প্রতিনিয়ত শুনছি । তাই তাঁকে দেখার বাসনা জেগেছিলো। পনেরো আগস্টের অভিশপ্ত সকালে সেই বাসনা চিরতরে শেষ হয়ে গেলো। আর সেদিন থেকে নিহত মানে যে কি, তা আর ভুলি নাই। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

  • সর্বশেষ