প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পেরেছিলো কেবলমাত্র দাফনে অংশগ্রহণকারী ২৫-৩০ জন

আসাদুজ্জামান বাবুল : [২] ১৬ই আগস্ট মহান নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ গ্রামের বাড়ী টুঙ্গিপাড়ায়। সেনা সদস্যদের কড়া পাহারায় স্থানীয় ৫/৭জন লোক জাতির পিতার কফিন ঘাড়ে করে নিয়ে যায় তার বাড়ির উঠানে। এ সময় রাস্তার দু-পাড়ে এবং বিভিন্ন গাছপালার উপরে উঠে প্রিয় মানুষটির মরদেহ এক পলক দেখতে ভিড় করেছিলো শত শত মানুষ। কিন্ত ঘাতকের দল তাদের প্রিয় মানুষটিকে এক পলক দেখতে দেয়নি। বরং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেছিলো এলাকা ছাড়ো সকলে।

[৩] এরপর একটি ভাংগা বালতিতে করে বাড়ীর পাশের পুকুর থেকে ময়লা পানি এনে আর দোকান থেকে একটি ৫৭০ সাবান কিনে গোসল করিয়েছিলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে। খুব তড়িঘড়ি গোসল করিয়ে রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে বঙ্গবন্ধুরই দেয়া রিলিফের লাল পাড়ের কাপড় পরিয়ে কোনমতে নামাজে জানাজা শেষ করা হয়। এরপর বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

[৪] সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাঠমিস্ত্রী আইয়ুব আলী কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কফিনের পেরেক খুলতে সেদিন সেনা সদস্যরা আমাকে ডেকেছিলো। কফিন খুলতেই দেখি জাতির পিতার পরনের লুঙ্গি ও সাদা জামা রক্তাক্ত হয়ে আছে। এরপর দেখতে পেলাম শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বুলেটের আঘাত ঝাঁঝরা বুক দেখে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। সেনা সদস্যদের হুমকিতে আমার সারা শরীর কাঁপতে থাকে। প্রিয় নেতার কফিন খুলতে হবে এবং দাফন করতে হবে বুঝতে পেরে কফিন খুলে ফেললাম। তারপর গোসল করিয়ে নামাজে-জানাজা শেষে মহান নেতার বাবা-মায়ের পাশে চির নিদ্রায়-শায়িত করা হলো।

[৫] আইয়ুব আলী বলেন, তখন আমার বয়স ১০ কি ১২। সেদিনের সে কথা মনে পড়লে আজও তার গা শিউরে উঠে।  সেনা সদস্যরা গোসল না করিয়ে বঙ্গবন্ধুর দাফন কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করতে বলেছিলো। কিন্ত ইমাম সাহেব তাতে রাজী না হওয়ায় সেনা সদস্যরা দাফনের জন্য আধা ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলো। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত