প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাশিয়ার কোভিড ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সংশয়

লিহান লিমা: [২] ১১ আগস্ট মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক ভি’ এর নামে বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অক্সফোর্ডের চ্যাডক্স ১-এর মতোই সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাসকে জিনগতভাবে বদলে, দুর্বল করে তৈরি করা হয়েছে এই ‘অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর ভ্যাকসিন’। পুতিন জানান, তার কন্যা সর্বপ্রথম এই টিকা গ্রহণ করেছেন ও প্রথমে সামান্য জ্বর দেখা দিলেও তা সেরে গিয়েছে। এএফপি

[৩] দুই মাসেরও কম সময়ের তৈরি হওয়া এই ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও বাজার দখলে অন্যদের টেক্কা দিতে তিন পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার পূর্বেই ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দিয়েছে রাশিয়া।

[৪] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘সুরক্ষা সম্পর্কিত সব তথ্য কঠোরভাবে পর্যালোচনা করেই ছাড়পত্র দেয়া হবে।’ কানাডা বলছে, ‘এই টিকা পরীক্ষার বিষয়ে তথ্যের অভাব রয়েছে। আমাদের স্পুটনিক ৫- এ আস্থা নেই।’ ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা দাবি করেছেন, ‘রুশ ভ্যাকসিনের উপযুক্ত পরীক্ষা হয়নি।’ ‘প্রথম হতে গিয়ে গুণগতমানের সঙ্গে আপস করা হয়েছে’ বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: অ্যান্টনি ফাউচি। জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্ফান বলেন, ‘এটা প্রথম উদ্ভাবনের বিষয় নয়, নিরাপদ টিকার বিষয়।’ সিএনএন

[৫] গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, কোনো টিকা মানবশরীরে প্রয়োগের ছাড়পত্রের পূর্বে সর্বনিম্ন তিন ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্র্ণ তৃতীয় ধাপে প্রতিষেধকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয় তাই এই ধাপ শেষ হতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

[৬] অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অর্গানাইজেশনস (অ্যাক্টো)-এর নির্বাহী পরিচালক শ্বেতলানা জাভিডোভা বলেন, রাশিয়া টিকা পরীক্ষার নিয়ম অগ্রাহ্য করতে পারে না। এই বিষয়টি প্যান্ডোরার বক্সের মতো। একটা অপরীক্ষিত ভ্যাকসিন শরীরে প্রয়োগের ভয়াবহতা আমরা কেউ জানি না।’ আন্তর্জাতিক ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলো এটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে মনে করছে।

[৭] বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় করোনার টিকার তিন ধাপের পরীক্ষা চলছে। রাশিয়া বলছে, তারা সেপ্টেম্বর থেকে টিকার উৎপাদন শুরু করবে। চলতি বছরের মধ্যে ২ কোটি ও আগামী ১ বছরে ৫ কোটি ডোজ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেছেন রুশ গবেষকরা। সম্পাদনা: ইকবাল খান

সর্বাধিক পঠিত