প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোপেনহেগেনকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ডেস্ক রিপোর্ট : অনিশ্চিয়তার ফুটবলে আগ্রাসন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত উয়েফা ইউরোপা লিগের সেমি ফাইনালের টিকিট এল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। দুর্দান্ত এক ম্যাচে সমাপ্তির পর শেষ হাসি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর অতিরিক্ত সময়েই মীমাংসিত হয় সেমির ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত এফসি কোপেনহেগেনকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেমি ফাইনালে পৌঁছে ম্যানচেস্টার ইউনাটেড।

করোনাভাইরাস পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান ফুটবল মাঠে গড়ালে ইউরোপা লিগে আসে নতুন নিয়ম। টুর্নামেন্টের শেষ ভাগটির নকআউট পর্বের বাকিটা অনুষ্ঠিত হবে এক লেগে আর তা হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। শেষ পর্যন্ত ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় জার্মানিকে। আর সেখানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউরোপা লিগের বাকি থাকা পর্ব গুলো। শেষ ষোলর ম্যাচ শেষে বর্তমানে চলছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

কোয়ার্টারের প্রথম দিনে মাঠে নামে ইন্টার মিলান, বায়ার লেভারকুজেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এফসি কোপেনহেগেন। ইন্টার খেলে লেভারকুজেনের বিপক্ষে আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খেলে কোপেনহেগেনের বিরুদ্ধে।

উয়েফা ইউরোপা লিগের রাউন্ড অব ১৬’তে দুর্দান্ত পারফর্ম করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নেয় রেড ডেভিলরা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর উয়েফা ইউরোপা লিগের শেষ ষোল’র দুই লেগ মিলিয়ে লাস্ককে ৭-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। করোনার থাবায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব, থমকে গিয়েছিল সবই। অবশেষে ফুটবল মাঠে গড়ানোর পর শুরু হয়েছে ইউরোপা লিগের স্থগিত হয়ে থাকা মৌসুমের খেলাও। ইউরোপা লিগে ফেরার ম্যাচে ওল্ড ট্রাফোর্ডে রাউন্ড অব ১৬’র দ্বিতীয় লেগে লাস্ককে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত ওলে গানার সোলশায়ারের দলের।

উয়েফার নতুন নিয়মে নকআউট পর্ব মাত্র এক লেগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যেক দলই নিজেদের সর্বোচ্চেরও বেশি দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই তো ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ পালটা আক্রমণে ভরপুর রোমাঞ্চকর এক যাত্রা। কখনো পাল্লা এদিকে ভারি তো কখনো অপরদিকে। আর এভাবেই ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই কোপেনহেগেনকে চেপে ধরে মার্শিয়াল-রাশফোর্ড-ব্রুনোরা। তবে রেড ডেভিল আর গোলের মধ্যে ব্যবধান হয়ে দাঁড়ান কোপেনহেগেন গোলরক্ষক কার্ল জোহান জনসন। একাই ইউনাইটেডের বিপক্ষে দলকে ম্যাচ ধরে রাখেন জনসন। রাশফোর্ড-মার্শিয়ালদের দুর্দান্ত সব সুযোগ একের পর রুখে দিতে থাকেন জনসন। আর তিনিই অনেকটা একা হাতে ম্যাচ নিয়ে যান অতিরিক্ত সময়ে।

এর মধ্যে ম্যাচের ২৩ মিনিটে মার্শিয়ালকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে ভিএআরে দেখা মেলে এর আগে অফসাইড পজিশনে ছিলেন হ্যারি মাগুয়ের। আর তাতেই বাতিল হয় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। তবে দমে যায়নি রেড ডেভিলরা। দুর্দান্ত ভাবে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিট মেসন গ্রিনউড গোল করে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন। তবে একি? ভিএআর দেখে রেফারি জানিয়ে দেন এই গোল করার আগে অফসাইডে ছিলেন গ্রিনউডও। আর তাতেই গোল বঞ্চিত গ্রিনউড এবং ম্যানচেস্টার ইউনাটেড। প্রথমার্ধ তাই শেষ গোলশূন্যভাবে।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে গোল করতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে রাশফোর্ডরা। এরপর ম্যাচের ৫৭ মিনিটে রাশফোর্ড-গ্রিনউডের যুগলবন্দিতে গোল পেয়ে যায় রেড ডেভিলরা। তবে আবারও তা বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। এর মধ্যে মার্শিয়াল-রাশফোর্ডদের সকল প্রচেষ্টার বাধা হয়ে দাঁড়াতে থাকেন কোপেনহেগেন গোলরক্ষক জনসন। পুরো ম্যাচ জুড়ে মোট ১৩টি সেভ দেন জনসন।

এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোল শূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়। আর অতিরিক্ত সময়ের ৯৫ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ব্রুনো। আর সেই সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এগিয়ে যায় ১-০ গোলের ব্যবধানে। এটি চলতি মৌসুমে সকল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২১তম পেনাল্টি। ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে রেড ডেভিলদের থেকে বেশি পেনাল্টি পায়নি আর কোনো দলই।

অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ব্রুনো ফার্নান্দেজের ওই একমাত্র গোলে নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়। আর সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় সেমি ফাইনালও।

সর্বাধিক পঠিত