প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরোজ আহমেদ: মাহবুব কবির মিলনকে নিয়ে কিছু না লেখাটা অন্যায়!

ফিরোজ আহমেদ: মাহবুব কবির মিলনকে নিয়ে কিছু না লেখাটা অন্যায়। বাংলাদেশের বাস্তবতা আসলে এই যে, আপনার যা কিছু করণীয়, সেটা করলেই আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি। সেটা পুলিশ হোক, আমলা হোক, যে কেউ। কেউ যদি তার চাইতে আর একটু বেশি করেন, খুব রেখে ঢেকেও সমস্যার বিপুল স্তপের গোমর কিছুটা উম্মোচন করেন, তাকে দেবতুল্য না ভাবার কোনো কারণ নেই। মাহবুব কবির মিলন তেমন একজন। তাকে একবার আমার দীপ্ত টিভির আলোচনায় ডেকেছিলাম, নিরাপদ খাদ্য নিয়ে। সত্যি বলতে কী, ভদ্রলোকের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েেিলা, ওইটুকুু জানাশোনায় যতোটুকুু হওয়া সম্ভব।

এই কথাটুকু বলবার পর মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। এটা, যার প্রধানরা দেশ থেকে টাকা পাচার করে না। ফলে জনগণকে মিথ্যা প্রতারণার জালে যাদের আটকে রাখতে হয় না, যারাভাবে দেশকে আমলাতান্ত্রিকতা মুক্ত করবে, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করবে- তাদের জন্য মাহবুব কবির মিলনের মতো আমলারা হবেন এক একজন নায়ক। যাদের নাম আসলে তখন খুব কম মানুষই জানবে, কিন্তু সরকারের নীতি ঠিক থাকলে এদের মতো কর্মকর্তাকেই আপনার লাগবে প্রশাসনের … জঞ্জাল সাফ করতে। এমন কর্মকর্তাদের অভাব এখনও আসলে নাই। কিন্তু রাজনীতিটাই ঠিক নাই, আর আমলাতান্ত্রিকতা একটা ভয়াবহ রাজত্ব শিক্ষা-স্বাস্থ্য সর্বত্র রাজত্ব করছে।

আমার খুব পছন্দের একজন বন্ধু বলেন প্রায়, দেইখেন, সবচেয়ে কম আমলাটাও একজন আমলা। তার কথা ফেলতে পারি না। কারণ আমলা থাকতে গেলে ওই পরিসরে তাকে আমলাই হতে হয়। হুকুম বাস্তবায়ন করা তার কাজ। এইখানে মাহবুব কবির মিলনের জন্যও এইটা একই রকম সত্য। আমলাতন্ত্র-লুটেরা রাজনীতিবিদ-অসৎ ব্যবসায়ী এবং আপনারা যতই অস্বস্তিবোধ করেন বিদেশি নানান স্বার্থের একটা চক্র দেশটাকে শাসন করে। এইখানে একজন ব্যক্তির পক্ষে খুব বেশি আলাদা হওয়া কঠিন। ডানা ছাঁটা হবেই। অন্যদিকে, যদি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কথাই বলেন, মাহবুব কবির মিলন সেখানেও আসলে সফল না। তার আলোড়নগুলোর কল্যাণে আমরা কেবল একজন সৎ আমলার কাছ থেকে জানতে পেরেছি কী থেকে কী হয়। আমরা কী খাওয়াচ্ছি আমাদের ছেলেমেয়েদের। কিন্তু বন্ধ করার বিষয়ে? উনি প্রায় শতভাগ অসফল। উনি চলে আসার পর নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের প্রচারণা ও উদঘাটনের কাজকর্মও প্রায় শিথিল। কারণ এইটা ওনার হাতে আসলেই নাই। ওনার চাইতে বহুগুন শক্তিশালী দৃশ্যমান ও অদৃশ্য শক্তিগুলো এইখানে কলকাঠি নাড়ায়। অধ্যাপক আবম ফারুককে রাষ্ট্রের প্রথমতম ব্যক্তিরা দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

মাহবুব কবিরের মতো মানুষের খুব বেশি আসলেই দরকার নেই। উনি কাজের একটা যন্ত্র, কাজ ভালোবাসেন। সাহস আর স্পষ্টবাদিতার বৈশিষ্ট্যও ওনার আছে। প্রয়োজন হলো কর্মকর্তাদের এই সৎসাহসের একটা বৈধতা। দেখবেন বহু দলদাস মোসাহেব মাহবুব কবির মিলনকে বদলি করার ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে দাবি করছে। মা.ক.মি. নাকি নিয়ম ভেঙেছেন। আসলে বাংলাদেশের আইনেও উনি যা কিছু বলেছেন, সেটা নিয়মের মাঝেই আছে। কিন্তু চোখ বুজে এবং মুখে কুলুপ এঁটে আর মাথাগুজে হুকুম মানার যে শক্তিশালী তন্ত্র এখানে আছে, সেখানে এই স্বাধীনতাটুকু স্বীকৃত না। ফলে মাহবুব কবির মিলন যখন বলেন, দশ জন কর্মকর্তা থাকলে বাকি সব ঠিক করা সম্ভব, উনি একইসাথে ঠিক ও ভুল উভয়টিই বলেন। আসলেই দশজন যোগ্য ও সাহসী কর্মকর্তা পুরো প্রশাসনকে ঠিক করার জন্য যথেষ্ট, কারণ অধিকাংশই সৎ এবং পরিস্থিতি অনুমোদন দেয় না বলে মেনে নেওয়া মানুষ। কিন্তু ভুল হলো, এটা রাজনৈতিক একটি শক্তির উপস্থিতি ছাড়া সম্ভব না। মাহবুব কবির আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে গেলেও অবাক হবেন না। কারণ তাকে ঘিরে মানুষের যে ভালোবাসা, যে জনমতের চাপ, সেটাকে সরকার খুব বেশি উপেক্ষা করতে পারবে না। কিন্তু বাকি সকল কর্মকর্তার জন্য মাহবুব কবির মিলন একটা পরাজয়ের দৃষ্টান্তÍ হিসেবেই থাকবেন। এতোটা ঝুঁিক অন্যরা নেবেন না, এতোটা ঝুঁকি সকলের পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। সাহস আসলে একটা প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার বিষয়, তারপর তা সামাজিক চর্চায় পরিণত হয়। এই পরাজয় সেই কারণে অধাপক আবম ফারুকের বেলাতেও ঘটেছে,তিনি পারেননি অন্য সহকর্মী অধ্যাপকদের জন্য দৃষ্টান্তÍ হতে। ঈষৎ সংক্ষেপিত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত