প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবেদা সুলতানা: ব্যক্তিগত ডায়েরি, আমার বয়স ভাবনা

আবেদা সুলতানা: ফেসবুক ডাইরির খোলা পৃষ্ঠা। এখানে গোপনীয়তা থাকে না বলে সবাই জানেন লেখকের মনের কথা। মনে থাকা কষ্ট, বেদনা, আনন্দ, অনুযোগ, অভিযোগের কথা অনেকেই লিখেন কোন রাখঢাক ছাড়াই, অনেকে কিছু কথা উহ্য রাখেন, আবার অনেকে কিছু কল্পনা, কিছু সাহিত্য মিশিয়ে এমন ভাবেই লিখেন যা সুখ পাঠ্য হয়ে উঠে।

আমিও লিখি তবে বেশ চাঁছাছোলা। সাহিত্য করতে পারি না। ফুল,গাছ,পাখিকে এনে লেখা রঙিন করতে পারিনা। আমার লেখায় সাব্জেক্টটাই মুখ্য।

আমার মাইগ্রেনের ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে আমি তাৎক্ষণিক অনুভূতির কথাই বলি, এটা অনেক প্রিয় পাঠক গ্রহণ করতে চান না।

আমার সাম্প্রতিক লেখাগুলো পাঠ করে অনেকে হতাশাবাদী বলে আমায় মৃদু ভর্ৎসনাও করেছেন ( নিঃসন্দেহে তাঁরা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রিয়জন)। তাঁরা মনে করিয়ে দেন এমন লেখা মানসিক শক্তি নষ্ট করে। আমার মতো হাসি খুশি মানুষের উপর এমন চিন্তা বা লেখা যায় না।

প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তি জীবনে যেমন আনন্দ, হাসি, দুঃখ বেদনা, উল্লাস,উৎকণ্ঠা থাকে তেমন সমাজ জীবনের নানা সমস্যা, প্রাপ্তি ব্যক্তি জীবনকেও প্রভাবিত করে। বর্তমান সময়টিতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সবাই, বিশেষ করে সচেতন মানুষগুলো উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন।

সমাজে প্রতিটি মানুষ আলাদা। সমগ্র মানুষকে বয়ঃগোষ্ঠীতে ভাগ করলে তাদের ভাবনা চিন্তার ধরনকেও কিন্তু ভাগ করা যায়। তরুণগোষ্ঠীর ভাবনার সাথে মিলেনা বয়ঃবৃদ্ধের ভাবনা। আর মিলেনা বলেই তাদের কাজের সাথেও মিল থাকে না স্বাভাবিক ভাবেই।

তাই উৎকণ্ঠা, আবেগও ভিন্নতর।

একজন ষাট ছুঁই ছুঁই মানুষের ( মহিলার) উৎকণ্ঠার কারণ মাল্টিপল। তিনি নিজেকে নিয়ে তো ভাবেনই, ভাবেন মা বাবাকে নিয়ে ( বেঁচে থাকলে), সন্তান সন্তুতি, নাতি নাতনিসহ পরিবার নিয়েই শুধু ভাবেন না, তিনি ভাবেন গাড়ির চালক, গৃহকর্মী ও নৈশপ্রহরীর পরিবার নিয়েও।

করোনাকালে প্রতিবেশী, সহকর্মী, পরিচিতজনের মৃত্যু তাঁকে শোকাতুর করে যার প্রভাব পড়ে শরীরে, মনে। নানা রোগ ( বর্তমান বা আগের) মাথা চাড়া দেয়, তিনি ধরাশায়ী হয়ে পড়েন।

কয়েক প্রকার মানসিক গঠনের মানুষ আছেন যাঁরা যেকোন সংকটে স্বাভাবিক থাকতে পারেন। যেমন : বোকা, পাগল, স্বার্থপর, সুযোগ সন্ধানী, শঠ, চতুর আর যোগ ব্যায়ামকারীরা (যাঁরা নিজেকে নিয়ন্ত্রনে সক্ষম)!

আজ সকালে আত্মবিশ্লেষণে বসে নিজেকে বোঝার চেষ্টা করলাম নানা ভাবে। সমস্যা কী শুধু আমার?

যাঁরা বলেন, বয়স কেবল সংখ্যা!
তাঁদের বলি, ঝাঁপিয়ে পড়ুন জলে, তড়াক করে উঠুন বিছানায়, চশমা ছাড়া পড়ুন তো!, দেখুন তো পাঁচ মিনিটে তৈরি হতে পারেন কি না!, চার তলায় সিঁড়ি বেয়ে ক’বার উঠতে পারবেন? (তরুণ বয়সের মতো)!

উপরের কিছুই আমি এখন পারি না।
আমার কাছে বয়স সংখ্যা নয়!
আমার কাছে বয়স সংখ্যার সাথে সাথে জ্বরাব্যাধি গ্রাস। অপারগতায় পরনির্ভরশীলতা।
পরিবার ও সমাজের তাচ্ছিল্য।
গুরুত্বহীনতা।

জ্বরাবিজ্ঞানের জন্ম এইসব ভাবনা থেকেই। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত