প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবাসীদের ঈদ সমাচার

ড. মোহাম্মদ আখেরুজ্জামান: জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে যারা নিজের দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে ভীনদেশে পারি জমায় তাদেরকে আমারা প্রবাসী বলি। আমাদের দেশের প্রবাসীদের ঈদ কেমন হয়? দেশে থাকা প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যগণ অনেকই জানেনা কিংবা বুঝেনা যে প্রবাসীরা ঈদে কি করে? কোথায় ঈদের নামাজ পরে, কিভাবে রোজা রাখে, কিভাবে কোরবানি করে, ঈদের দিন তারা কি খায়, ইত্যাদি? সত্যি বলতে প্রবাসীদের জন্য ঈদ মানে হচ্ছে শুধুই হোমসিকনেস মানে পারিবারিক বিরহ। আজকে আমার প্রবাস জীবনের আলোকে প্রবাসীদের ঈদ সমাচার নিয়ে কথা বলব।

২০০২ সালের কথা, সেই বছর আমি জাপানে আসি। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও নিজের ধর্মীয় রীতিতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকি নাই। কিন্তু সে সময়ের তথ্য প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে আমার জীবনে প্রথমবারের মত ঈদের নামাজ থেকে বঞ্চিত হলাম। তখন আমি যে শহরে থাকি সেই শহরে কোথায়, কখন, কিভাবে গিয়ে নামাজ পড়া যাবে ভাল করে জানা ছিলনা। অনেক খোজ করে হাজির হলাম ঈদের নামাজের স্থানে। কিন্তু বিধিবাম, হাই স্কুল জীবনে গরগর করে মুখস্ত করা ইংরেজি অনুবাদের সেই লাইনের ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেলঅবস্থা আমারও হল। অনেক খোঁজাখুঁজি করে নামাজের স্থানে বান্দা হাজির, কিন্তু নামাজ শেষ। জীবনের এই প্রথম অনেক কষ্ট করে সাড়া মাস রোজা রেখে ঈদের নামাজ থেকে বঞ্চিত হই। ঐ সময়ে মনে হয়েছিল সাড়া মাসের রোজাটাই যেন বৃথা হয়ে গেল। ২০২০ সালের রোজার ঈদের আগে করোনার কারণে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আদলে জানতে পারলাম ঈদের নামাজও একা একা পড়া যায়। ২০০২ সালে জানতাম না ঈদের নামাজ একা পড়া যায়।

উল্লেখ্য জাপানে ঈদের নামাজ বেশির ভাগই মসজিদ কিংবা হল রুমে হয়। বাংলাদেশে যেমন ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি ঈদের নামাজ মাঠে হয়, এখানে সেরকম না। জাপান একটি নন ইসলামিক দেশ, প্রথমত এখানে ঈদের মাঠ বলে কোন মাঠ নেই। আবার একসাথে কিংবা দলগত ভাবে অনেক লোক মিলে কোন মাঠে কিংবা কোন খোলা জায়গায় কোন প্রোগ্রাম করতে হলে মাঠের মালিক, সিটি অফিস, এবং পুলিশ থেকে অনুমতি নিতে হয়। তাই খোলা স্থানে ধর্মীয় প্রোগ্রাম করতে জাপানের সিটি অফিস এবং পুলিশের অনুমতি পাওয়া যাবে না। নামাজ পড়তে হলে কোন হল রুম ভাড়া করতে হবে অথবা মসজিদে নামাজ পড়তে হবে। জাপানের যেই শহরে মাসজিদ নাই সেখানে হল রুম ভাড়া করে নামাজ পাড়া হয়। তবে বর্তমানে জাপানে অবস্থানরত মুসলমানদের উদ্যোগে প্রায় ২৫০ টি মাসজিদ কিংবা নামাজের স্থান বানানো হয়েছে যেখানে ঈদের নামাজসহ প্রতিদিনের নামাজ আদায় করা হয়।

২০২০ সালের রোজা এবং দুটি ঈদ বিশেষ করে প্রবাসী মুসলমানদের জন্য খুবই কষ্টের হয়েছে। সাধারনত জাপানের সকল মাসজিদ এবং নামাজের স্থান গুলোতে রোজার মাসে ইফতারি, তারাবিহ, অনেক স্থানে সেহেরির বিশাল আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে শনিবার এবং রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বড় ইফতার পার্টির আয়োজন কারা হত সকল মাসজিদ এবং নামাজের স্থান গুলোতে। এবার জাপানের কোন মসজিদেই ইফতারি, তারাবিহ, কিংবা সেহেরির আয়োজন করা হয় নাই। এমনকি ঈদের নামাজের পরে যে খাবারের আয়োজন থাকে সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে সকল মাসজিদ কমিটি।

কোরবানি ঈদের সময় বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ীতে যে আয়োজন থাকে বিদেশের কোরবানি ঈদে তার কোন নীল নকসাও দেখা না। আমরা হলাম বাঙালী জাতি বাড়ীর উঠানে গরু বাঁধা থাকবে ঈদের দিন সকাল বেলায় বাড়ীর সকলে মিলে গরুকে নদী কিংবা পুকুরে নিয়ে গোসল করিয়ে আবার উঠানে বেঁধে রেখে ঈদের মাঠে নামাজ পড়তে যাব। নামাজ পরে বাড়ী এসে মাসজিদের বড় হুজুরকে, কে আগে ডেকে আনতে পারে। এরপর শুরু হত আসল খেলা। একটা গরুকে ধরাশায়ী করতে দশজন লোকের ঘাম বের হয়ে যেত। আশে পাশে মুরুব্বী থেকে বাচ্চা পর্যন্ত কেউ রশি, কেউ বাঁশ, কেউ গরুর মাথা, কেউ আবার অতি সাহসী হয়ে হুজুরের ছুরির কাছে গরুর গলা চেপে ধরেই পুরুষ ও মাহিলা সকলেই একসাথে আল্লাহু আকবর। আল্লাহ তালা হয়ত ঐ সময় আমাদের সকলের নিয়ত বুঝে কোরবানিটাকে কবুল করে নিতেন। মনে আছে ছোট বেলায় হুজুরের সাথে গিয়ে এলাকার ৮ থেকে ১০ টি গরু কিংবা খাসী জবাই করা দেখতাম। কিন্তু জাপানে পশু জবাই করার জন্য আমাদের দেশে মত খোলা জায়গায় সরকারের অনুমতি নেই। এখানে কসাইখানা ছাড়া কিংবা সরকারের অনুমদিত স্থান ছাড়া পশু জবাই করা যায় না। এখানে যারা কোরবানি করেন তারা বেশির ভাগই কোন কসাইখানার এজেন্টকে টাকা দিয়ে দেন এবং ঐ এজেন্ট কোরবানির সকল মাংস কেটে ছেঁটে প্যাকেট করে কোরবানি করা মালিকের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। অনেক সময় কোরবানির মাংস বাসায় আসতে ১-২দিন সময় লাগে। তার মানে জাপানে থাকা প্রবাসীদের জন্য কোরবানি ঈদের বাঙালী কোন ইমেজ নাই।

বিদেশে যারা থাকেন তারা সকলেই কোন না কোন ভাবে পারিবারিক বিরহে ভোগেন। যে সকল প্রবাসী সপরিবারে বিদেশে থাকেন তারাও ঈদের দিন তাদের দেশে থাকা মা বাবা ভাই বোন শ্বশুর শাশুড়ি বন্ধু বান্ধবীদের খুব করে মিস করেন। বেশির ভাগ প্রবাসীরাই দিনের সকল কর্মযজ্ঞ শেষ করে রাতে বেলায় বসেন টেলিফোন নিয়ে। একে একে সকলকে ফোন করে জীবনের সুখ দুঃখকে ভাগাভাগি করার এটাই তাদের একমাত্র মাধ্যম। তবে আনুপাতিক হারে যে সকল প্রবাসীরা একা বিদেশে থাকেন এবং যাদের পরিবার দেশে থাকেন তারা সবচেয়ে বেশি পারিবারিক বিরহে ভোগেন। বিশেষ করে যে সকল প্রবাসী ভাই ও বোনেরা পরিবার পরিজন দেশে রেখে কাজের জন্য বিদেশে থাকেন এবং ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেশে যাবার সুযোগ থাকে না তাদের জন্য পারিবারিক বিরহটা হয় সবচেয়ে বেশি। যেমন অনেক প্রবাসী ভাই তিন মাসের ছুটিতেবাংলাদেশে গিয়ে বিয়ে করে কিছু দিন পরেই কর্মের তাগিদে নতুন বউ রেখে বিদেশে চলে আসেন এবং তাদের অনেকেরই দুই থেকে তিন বছর মধ্যে বিভিন্ন কারণে দেশে যাবার কোন সুযোগ থাকে না। একমাত্র তারাই বুঝেন প্রবাস জীবনের পারিবারিক বিরহ কাকে বলে। এক্ষেত্রে শুধু প্রবাসীরা না, সাথে প্রবাসীর বউদের কষ্টটাও কম হয় না।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে যখন বাংলাদেশ থেকে জাপানে আসি তখন ঢাকা বিমান বন্দরে প্রবেশ পথের ৪ নম্বর গেটের লাইনে দাড়িয়ে আছি আমার এবং স্ত্রী। একই ভাবে আমার লাইনেই দুই জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আরও এক দম্পতি। দেখে মনে হচ্ছে এরা দুজন ২০ থেকে ২২ বয়সের নতুন বিবাহিত স্বামী স্ত্রী। দুজনেরই চোখে মুখে বিরহের ছাপ। মহিলাটা মাঝে মাঝে কান্না করে দিচ্ছে, পুরুষ লোকটি কান্না করছে না, কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে তার হৃদয়টা ছিঁড়ে যাচ্ছে বউকে রেখে যেতে। সকল শারীরিক বাঁধন ছিন্ন করে লোকটি যখন গেটের ভেতরে ডুকে যাচ্ছে মহিলাটা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। বিদায় দিতে সাথে আসা মা কিংবা শাশুড়ির গলা ধরে মহিলাটা কান্নায় গেঙ্গে পড়লেন। কি সে নিদারুণ দৃশ্য।ঐ সময় আমার মনে পরে গেল মনির খানের সেই বিখ্যাত গানের কলি, প্রবাস জীবন আমার বুকটা খাঁ খাঁ শূন্য, প্রিয় জনের দু লাইনের একটি চিঠির জন্য। এ রকম কলিজা ফাটা কান্নার দৃশ্য দেখেই হয়ত আমাদের দেশের গুণী জনেরা বিরহের বিভিন্ন গান, কবিতা, নাটক, সিনেমা বানাতে পেড়েছে। আমি এবং আমার স্ত্রীর অবস্থা অবশ্য ভিন্ন। আমরা দুজনেই জানি খুব তাড়াতাড়ি আমাদের আবার দেখা হচ্ছে। তারপরও আমার স্ত্রীর মন খারাপ ছিল কিন্তু সামনে ঐ দম্পতির অবস্থা দেখে কিছু সময়ের জন্য আমারা দুজনেই বিরহের কথা ভুলে গিয়েছিলাম।

প্রবাসীদের ঈদ আলোচনার আগে যে জিনিস প্রথমে আসবে সেটা হল কোন দেশের প্রবাসী। যদি হয় ইসলামিক দেশ তাহলে এক কথা আর যদি হয় নন ইসলামিক দেশ তাহলে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশ গুলোতে ঈদের সময় বাংলাদেশের মতই সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বড় একটা ছুটি থাকে। কিন্তু নন ইসলামিক দেশগুলোতে যারা প্রবাসী হিসেবে পড়াশুনা, চাকুরী, কিংবা ব্যবসা করেন তাদের জন্য ঈদ এক বিরম্বনার নাম। বিশেষ করে নন ইসলামিক দেশগুলো থাকা প্রবাসীরা যখন বিদেশীদের কাছে ছুটির আবেদন করে তখন ছুটির কারণ হিসেবে আশে ঈদ নামের শব্দটা। ঈদকে শব্দ বললাম এই কারণে যে, বিদেশীদের কাছে ঈদ একটি শব্দ মাত্র। অনেক বিদেশী আছে ঈদ নামের শব্দটি শুনেই বলে, ঈদ? সে আবার কি জিনিস, এটা খায় না মাথায় দেয়? তখন আমাদের মত প্রবাসীদের ঐ বিদেশীর কাছে কিংবা সহকর্মীর কাছে ঈদের শানেনজুল নিয়ে বিশাল এক লেকচার দিতে হয়। যেমন ঈদ কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি, সংজ্ঞা সহ উদাহরন দেয়া। এই সময় প্রবাসীদের প্রয়োজন হয় ঐ দেশের ভাষার দক্ষতা, নিজের ইসলামিক জ্ঞান, এবং সঠিক ভাবে ইসলামের তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করার যোগ্যতা। এখানে অনেক সময় আমরা ইসলাম ধর্মকে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারিনা কিংবা করিনা যার কারণে বিধর্মীরা ইসলাম ধর্মের সঠিক তথ্য জানেনা। অবশ্য বর্তমান যুগের অনেক স্মার্ট বিধর্মী আছেন যারা ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই জানেন যা কিনা অনেক মুসলমানও জানেনা। আবার অনেকে মিডিয়ার ভুল তথ্যের কারণে ইসলাম ধর্মকে ভুল ভাবে জানে যার কারণে পৃথিবীতে মুসলমান এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকে।

আমারা যারা নন ইসলামিক দেশে প্রবাসী হিসেবে অনেক দিন ধরে আছি তারা বিভিন্ন সময় আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ নিয়ে নানা ধরণের সমস্যায় পড়েছি এবং এখনও পড়ছি। প্রথমত সমস্যা হচ্ছে, বিদেশে যারাই আছেন তারা সবাই নিজের পেশাগত কারণে নানা ধরণের কাজ করে থাকেন, যেমন কেউ চাকুরি, কেউ পড়াশুনা, আবার কেউ করেন ব্যবসা । যে যাই করুক না কেন, সবাইকে তার নিজ নিজ স্থানে একটা বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমস্যাটা তখনই হয় যখন ঈদ পরে যায় কোন কর্মদিবসে। তখন আমারা আমাদের পেশাগত দায়িত্বের কারণেঅনেক সময়ই ছুটি নিতে পারিনা, এমনকি ঈদের নামাজ টুকুও সঠিক সময়ে জামাতের সাথে পড়তে পারিনা। যেমন ধরুন সোমবারে ঈদ, কিন্তু নন ইসলামিক দেশে ঈদের কারণে অফিস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় তো আর ছুটি হয় না। দেখা গেল ঈদের দিন কোন প্রবাসীর সকাল ৯ টা থেকে তার ভর্তি পরীক্ষা কিংবা কোন পর্বের ফাইনাল পরীক্ষা। আবার যারা চাকুরী করেন তাদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় একই ঘটনা হয়ে থাকে। যেমন ধরুন ঈদের দিন কোন প্রবাসীর অফিসে বড় কোন মিটিং, প্রোগ্রাম, কিংবা তার নিজের প্রোজেক্টের কোন বড় মিটিং অথবা বড় কোন সিধান্ত গ্রহনের দিন। বাস্তবতার স্বীকার হয়ে ঐ প্রবাসী তখন ঈদের দিনেও তার কর্মস্থলে গিয়ে অন্য দিনের মতই কাজে মনোনিবেশ করতে বাধ্য হয়। এজন্যই হয়ত পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে তাদের বিশেষ দিন গুলোর জন্য সরকারী ছুটির নিয়ম তৈরি করেছে। যার কারণে ঐ দেশের সামাজিক, ধর্মীয়, কালচারের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে সর্বজন স্বীকৃত সরকারী ছুটি।

দ্বিতীয়ত সমস্যা হচ্ছে, একটা সময় ছিল যখন জাপানেও সাধারণ মানুষের মাঝে এখনকার মত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সে রকম বিস্তার ঘটেনি। তখন মানুষ একে অপরের মাঝে চিঠি কিংবা টেলিগ্রাম, পরবর্তীতে টেলিফোন করে যোগাযোগ করত। তখনকার সময় মানুষের তথ্য আদান প্রদান কিংবা যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সীমাবদ্ধতা ছিল। আমাদের ইসলাম ধর্মের রীতিনীতির মধ্যে রিয়াল টাইম মানে সঠিক সময় একটা বিশেষ বড় ফ্যাক্টর। যেমন ধরুন ইসলাম ধর্মের রোজার শুরু এবং শেষ একটা বড় বিষয় এবং এটা নির্ভর করে ঐ স্থানের স্থানীয় সময়ের উপর। যা কিনা ঐ নিদিষ্ট সময়ের আগে জানাও সম্ভব না। তাই আজ থেকে ১৫ বছর আগেও অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পৌছানো সম্ভব ছিলনা। এই জন্য আগে দিনে অনেক প্রবাসী মুসলমান ভাই ও বোনেরা ঈদের দিন রোজা রেখে বিকেল বেলায় জানতে পেরেছে আজ ঈদ। এখন অবশ্য তথ্য প্রযুক্তির উনয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উন্নয়নের কারণে যোগাযোগের জন্য সময়ের দূরত্ব অনেক কমে গেছে। এক মিনিটের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে খবর পৌছিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

যারা প্রবাসে থাকে তারা সবাই বাংলাদেশে ফেলে আসা রীতিনীতিকে অনেক বেশি মিস করে। তাই অনেকেই ঈদের সময় আমাদের রীতি অনুযায়ী অন্য প্রবাসীর বাসাতে পাড়া বেড়ানো, চাঁদ রাতে মেহেদী লাগানো ছাড়াও সাধ্য মত নানা কিছু করে থাকে। সাথে আমাদের নিত্য দিনের ভোজন বিলাসী মেনুতে থাকে দেশীয় সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন রোস্ট, গরু মাংস, খাসি মাংস, কুরমা, এবং ঈদের সেমাই ছাড়াও সাথে থাকে প্রবাসী ভাবীদের নানা ধরণের খাবার রান্নার কারিস্মা।

এছাড়া এলাকা অনুযায়ী এবং কমিউনিটি ধরে ঈদ পরবর্তী খাওয়া দাওয়া, আড্ডাবাজীও হয়। প্রবাসীরা যখনই কয়েক জন মিলে আড্ডা দেয়, আড্ডার বিষয়বস্তু হিসেবে থাকে দেশ এবং দেশের মানুষ। আমার জানা মতে এমন কোন প্রবাসী নাই যে দিনে একবার সে দেশের খবর পড়ে না। আবার লম্বা সময় ধরে আড্ডা দেয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের আলোচনার মেইন বিষয় থাকে বাংলাদেশের সমসাময়িক ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা। অনেকেই বাংলাদেশ নিয়ে অনেক নেগেটিভ কথা বলে, যেমন এই দেশে কিছু হবে না কিংবা এই দেশে মানুষ ভাল না। আমি আবার এর মাঝে অনেক বেশি দেশ প্রেম খুঁজে পাই। কারণ হচ্ছে এরকম যে, পাশের বাড়ীর ছেলের সাথে নিজের ছেলের ঝগড়া হলে দুই পক্ষই নিজের ছেলেকে আগে শাসন করে। তাই বলে এই নয় যে কেউ তার নিজের ছেলের চেয়ে অন্যের ছেলেকে বেশি ভালোবাসে। আমারা প্রবাসীরা প্রতিদিন সকাল হলেই দেশের পত্রিকায় চোখ রাখি কোথায় কি হল, করোনায় কত জন মারা গেল, কত জন আক্রান্ত হল, কোন মন্ত্রী কি বলল ইত্যাদি। প্রবাসীদের ভালোবাসায় দেশ, দেশের মানুষ, দেশের উন্নয়ন হোক এটাই আমাদের সকলের কাম্য। আমরা প্রবাসীরা দেশকে দেশের মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসি। সবাইকে ঈদ মোবারক।

লেখক: জাপান প্রবাসী, টোকিও জাপান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত