প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানদের ১০ অভিযোগ

অলক কুমার দাস, টাঙ্গাইল : [২] টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন ১১ ইউপি চেয়ারম্যান। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগপত্রটি পাঠানো হয়েছে।

[৩] অভিযোগপত্রে হুগড়া, কাকুয়া, কাতুলি, মাহমুদনগর, বাঘিল, মগড়া, ছিলিমপুর, পোড়াবাড়ী, গালা ও ঘারিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান।

[৪] এব্যাপারে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহারুল ইসলাম ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজল হোসেন খান তোফা।

[৫] তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী তৃনমুলে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যানদের অবদান রাখার সুযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। তাই সকল ইউপি চেয়ারম্যানরা সুনির্দিষ্ট ১০টি অভিযোগ উল্লেখ করে অভিযোগপত্র, এলজিআরডি মন্ত্রী, সচিব, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইল সদর এমপি, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবরে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।

[৬] অভিযোগপত্রে যে সকল অভিযোগ অন্তভূক্ত করা হয়েছে – ১) জিআর এর চাল ও টাকা ইউপি চেয়ারম্যানদের অগোচরে ইউপি সদস্য ও ব্যক্তির নামে ডিও দেয়া হচ্ছে। ২) জননেত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণের মাল উপজেলা চেয়ারম্যান নিজ নামে বিতরণ করে ও ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট তালিকা ও মাস্টার রোল চায়। ৩) উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক বাইসাইকেল বিতরণ প্রকল্পের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানগণ অবগত নয়। ৪) করোনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নগদ মানবিক প্রনোদনা অর্থ সহায়তায় উপকারভোগীর নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরণের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন। তালিকা প্রণোয়নে ইউপি চেয়ারম্যানদের কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় নাই। ৫) ২০১৯-২০ বছরের এডিবি ও রাজস্ব খাতের টাকা হতে প্রতি ইউনিয়নে ৪ লাখ টাকার পিআইসি ও ১০ লাখ টাকার কাজে টেন্ডার দিয়ে সুকৌশলে ইউপি চেয়ারম্যানদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা তার ব্যক্তিগত লোক মারফত কোটেশনের/ পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন। উল্লেখ্য, তার নিজ ইউনিয়ন (করটিয়া)র ৪৮ লাখ টাকার কাজ দিয়ে ২৮ লাখ টাকার কাজ পিআইসি দ্বারা বাস্তবায়ন করেন। যা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। ৬) মন্ত্রণালয় হতে বিভাজনকৃত বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা আর প্রতিবন্ধি ভাতার ১০% কেটে নিয়ে তার নিজস্ব লোক দ্বারা অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছেন। ৭) গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের হতদরিদ্রদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ ৭ জুলাই বিতরণ করা হয় নাই। ৮) ভূমি হস্তান্তর কর ১% এর অর্থ নীতিমালা অনুযায়ী বন্টন করা হয় নাই। ৯) মন্ত্রণালয় হতে উপজেলার জন্য বরাদ্দপত্র সভায় উপস্থাপন না করে ইউপি চেয়ারম্যানদের টেলিফোনের মাধ্যমে প্রকল্প দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ। ১০) করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্যে উপজেলার অর্থায়নে গাড়ী ক্রয় করা হয়েছে যা ইউপি চেয়ারম্যানগণ অবগত নয়। এহেন কর্মকান্ডে প্রতীয়মান হয় যে, ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে নূন্যতম মূল্যায়ন করা হয় নাই।

[৭] এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের উথ্যাপিত অভিযোগগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। এতে তার অনিয়ন বা স্বেচ্ছাচারিতার কিছু নেই বলে জানান তিনি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত