প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাকা রাস্তার উপরে তিস্তার পানি, নির্ঘুম রাত কাটছে তীরবর্তী মানুষদের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: [২] প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি। সেই পানিতে ডুবে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। মহাসংকটের শঙ্কায় চিন্তিত লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের মানুষ। পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাতীবান্ধা-বড়খাতার তালেব মোড়ের বাইপাস সড়কটি ওপর দিয়ে পানি চলাচল করছে। যেকোনো মুহূর্তে বাইপাস সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষদের।

[৩] শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে এগারোটায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

[৪] তাদের অভিযোগ, বিকেলে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি হলেও নামমাত্র কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রতিবারের মতো এবারও পানি উন্নয়নের পক্ষ থেকে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। তবে তা খুব একটা কাজে আসছেনা।

[৫] এদিকে তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। মাথা গোঁজার আশ্রয় হারিয়ে উঁচু বাঁধে মানবেতর দিন কাটছে হাজারো মানুষের। বিকেলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিস্তা পাড়ের মানুষরা।

[৬] স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ ঘন্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিস্তার ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে। এ নিয়ে চতুর্থবার তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়ে বের নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে।

[৭] ফলে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

[৮] দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বিকেল থেকে বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। জেল পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে মনে হচ্ছে না কখন পানি কমে যাবে। তবে তিস্তা তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত