প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেঘনায় প্রতিপক্ষের ফের হামলার ভয়ে শতাধিক পরিবারের পুরুষরা বাড়িছাড়া

এইচএম দিদার, মেঘনা : [২] কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার পুরান বাটেরায় আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

[৩] শনিবার (২৭ জুন) শাজাহান ও সুরুজ গ্রুপের ওই সংঘর্ষের পর থেকে সুরুজ পক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে শাহজান কামাল পক্ষের শতাধিক পরিবারের পুরুষরা নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্য গিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ ছাড়া শাহজান পক্ষের কাউকেই পাওয়া যায়নি এলাকায়। গ্রামে ফিরে গেলে সুরুজ পক্ষের সন্ত্রাসীরা ফের হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কা বিরাজ করছে শতাধিক পরিবার এর দুই সহস্রাধিক পুরুষের মাঝে।

[৪] এ বিষয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (হোমনা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম সোমবার (২৯ জুন) গ্রামটি পরিদর্শন করেন।

[৫] সরেজমিনে লুটেরচর ইউনিয়নের পুরান বাটেরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাড়িগুলোতে হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। বেশির ভাগ বাড়ির বেড়া (চৌকাট) দরজা, জানালা ও কোনো কোনো বাড়ির আসবাবপত্রও ভাঙা।

[৫]গ্রামবাসী জানান, “দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে জনপদশূণ্য পুরান ভাটেরা গ্রামে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

[৬] ভূক্তভোগী নারীরা জানান, সংঘর্ষের ভয়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো গ্রামে। হামলার পর থেকে পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন অভিবাভকরা। আবার লুট হওয়ার ভয়ে আমাদের গবাদি পশু আত্মীয়দের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

[৭] শাজাহান কামাল এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘‘সুরুজ ও ডালিমের লোকজনের ভয়ে আমরা বাড়ীতে যাইতে পারি না। মামলা করে কি হবে। এর আগে আমার বড় ছেলে সৌদী প্রবাসি কবিরের ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত ভেঙে দিয়েছিলা তারা। এ ঘটনায় মামলা করায় আবার হামলার শিকার হয়ে এখন বাড়ি ছাড়া।

তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ৩৫টি বাড়ি-ঘরসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি করেছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দুঃস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অনতি বিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই।”

[৮] এদিকে, সুরুজ মিয়া তার আহত ভাই জজ মিয়াকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে আছেন। তিনি ফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

[৯] সহকারি পুলিশ সুপার মো. ফজলুল করিম জানান, ‘‘পুরান বাটেরার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গ্রামবাসীর শৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার্থে পুলিশের একাধিক দল টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কেউ এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত আছে। গ্রামে পুরুষ শূন্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

[১০] উল্লেখ্য, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার দ্বীপ গ্রাম পুরান বাটেরায় গত ২৭ জুন দু’গ্রুপের মধ্য সংঘর্ষ ও টেঁটা যুদ্ধ হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ আহত হয় কমপক্ষে ১৫জন। সম্পদনা : হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত