প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. মো. তাজুল ইসলাম : সাধারণ মানুষ কেন অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে না?

ডা. মো. তাজুল ইসলাম : ‘আমার ছেলেকে কেন জানে মারলো। পঙ্গু করে দিলেও তো আমার বুক আগলে থাকতো, রিফাতের মায়ের এই অসহায় আকুতি প্রমাণ করে,আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দূরের কথা, তাদের কাছে নতজানু হয়ে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার পরিবেশে বাস করছি। এতোই অসহায় যে বলছি, তোমরা জানে মেরে ফেলো না, পঙ্গু করে হলেও কোনো রকমে বাঁচিয়ে রেখো। গুম হয়ে যাওয়া মা-বাবারাও আবেদন করে যাচ্ছে আমাদের সন্তানের লাশটুকু অন্তত ফেরত দাও। হত্যা, খুন আগেও হতো। তবে তখন তা হতো গোপনে, নির্জনে বা ভাড়াটে খুনি দিয়ে। অপরাধীরা প্রকাশ্য হতে ভয় পেতো। পুলিশে ধরবে, গণপিটুনি খাবে, চিহ্নিত হলে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে। কিন্তু এখন চিত্র পুরো উল্টো হয়ে গেলো কেন? সাধারণ মানুষ কেন অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে না? মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত বলছেন, এটি সমাজের ব্যর্থতা। কেন সমাজ ব্যর্থ হচ্ছে? এককথায় এর উত্তর পাওয়া যাবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি বোঝা যায় প্রথম আলোর হেডলাইন থেকে, ‘বহু অভিযোগ নিয়েও তারা দাপিয়ে বেড়াতো’। মাদক বিক্রি, সেবনসহ আগেও কোপানোর ইতিহাস রয়েছে তাদের।তারা বহু মামলার আসামি ছিল। এমনকি পুলিশ অফিসারের বাসায় তাণ্ডব চালানোর মতো ‘বীরত্বসূচক’কৃতিত্বও তাদের রয়েছে। অপরাধের বহু রকম ‘বিজয়মুকুট’তারা ইতিমধ্যে অর্জন করে ফেলেছে। ফলে, প্রকাশ্যে কোপানো সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা চলছে। চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপানোর এই বর্বরতার উৎস কোথায়?

আমরা হয়তো কিছু তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারবো, কিন্তু সমাধান যাদের হাতে, তাদের সেটি করতে বাধ্য করবে কারা? বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? কারা এর জন্য দায়ী, গলদ কোথায়, প্রতিকার কী? এ আমার, এ তোমার পাপ। কেউই এর দায় এড়াতে পারি না। পরিবার, সমাজ, প্রতিবেশী, রাষ্ট্র, সর্বোপরি রাজনীতির সবাইকে এর কোনো না কোনো অংশের দায় নিতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত