প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশে কোভিড চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

জেরিন আহমেদ: [২] আরসিটি পদ্ধতিতে শুরু হওয়া এই ট্রায়ালে ব্যবহার করা হবে আইভারমেকটিন নামক ওষুধ, আর গবেষনাটি করছে আইসিডিডিআর’বি। এই ট্রায়ালে ৭২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরই মধ্যে ৬ জনের উপর শুরু হয়েছে এই ট্রায়াল। আর এতে তাদের  সম্মতি নেয়া হয়েছে । ফলাফল পেতে মাসখানেক সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

[৩] কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় আ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবী নাশক ওষুধ আইভারমেকটিন এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর’বি)। সূত্র: চ্যানেল২৪, বিজনেস স্ট্যার্ন্ডাড

[৩] আইসিডিডিআরবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

[৪] বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আজ আইসিডিডিআর’বি কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় আ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবী নাশক ওষুধ আইভারমেকটিন-এর সাথে অ্যান্টিবায়েটিক ডক্সিসাইক্লিন, অথবা শুধু আইভারমেকটিন ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি দৈবচয়ন ভিত্তিক, ডাবল-ব্লাইন্ড প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু করেছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করা হবে।”

[৫] বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইভারমেকটিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি ওষুধ যা ১৯৮০ সাল থেকে পরজীবীজনিত সংক্রমণ প্রশমনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অতীতে দেখা গেছে যে, গবেষণাগারে অনেক ধরণের ভাইরাস নাশক হিসেবেও এটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

[৬] “এই গবেষণায় কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নিয়োজিত ঢাকার চারটি হাসপাতালের ৭২ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গবেষণাটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাথে শুরু হয়েছে, এবং বাকি হাসপাতালগুলোর সাথে আলোচনা চলছে।”

[৭] আইসিডিডিআরবি জানায়, এই গবেষণার লক্ষ্য হল আইভারমেকটিন-এর সাথে ডক্সিসাইক্লিন অথবা শুধু আইভারমেকটিন-এর সাহায্যে চিকিৎসা প্রদান করলে ভাইরাসের সংক্রমণ কমার হার এবং জ্বর ও কাশি কমতে কয়দিন লাগে সেসম্পর্কে ধারণা লাভ করা।

[৮] “এছাড়াও, এই গবেষণা অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন, অক্সিজেন দেওয়া সত্ত্বেও রোগী কেন ৮৮%-এর বেশি অক্সিজেন স্যাচুরেশন (এসপিও২) ধরে রাখতে পারে না, রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকার দিনের সংখ্যায় পরিবর্তন, এবং এ রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করা।”

[৮] আইসিডিডিআরবির আন্ত্রিক এবং শ্বাস প্রশ্বাস রোগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, “এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারের কারণে আমাদের প্রয়োজন সার্স-সিওভি-২ এর বিরুদ্ধে কার্যকর একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খুঁজে বের করা। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা করার মতো কোনো ওষুধ নেই এবং এধরণের ওষুধ আবিষ্কার হতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে। তাই, আমাদের এমন ওষুধ খুঁজে বের করা প্রয়োজন যা বাজারে সহজলভ্য, যার ওপর যথেষ্টভাবে গবেষণা করা হয়েছে, যার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কম এবং যা জীবন বাঁচাতে সক্ষম।”

[৯] আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জন ডি ক্লেমেন্স বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন কতটা নিরাপদ ও কার্যকর তা জানার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য আমি বেক্সিমকো ফার্মাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি সাশ্রয়ী মূল্যের ও সহজে ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত