প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার ও নফসকে প্রতিহত করার চমৎকার উপায়

অনলাইন ডেস্ক : শয়তান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাথে ৪টি বিষয়ে ওয়াদা করেছে।

وَّ لَاُضِلَّنَّہُمۡ وَ لَاُمَنِّیَنَّہُمۡ وَ لَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُبَتِّکُنَّ اٰذَانَ الۡاَنۡعَامِ وَ لَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلۡقَ اللّٰہِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا ﴿۱۱۹﴾ؕ

‘আর অবশ্যই আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ দেব, ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব, ফলে অবশ্যই তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে’। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা তো স্পষ্টই ক্ষতিগ্রস্ত হল। (৪ঃ১১৯)

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআন এ কয়েক জায়গাতে বলেছেন যে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু৷ সুতরাং শয়তান এমন এক শত্রু যে কীনা আমাদের সাথে যুদ্ধ করার শপথ নিয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট, সুতরাং বিষয়টি মোটেও অবহেলা করার নয়৷

আমাদের প্রতিটি দিন শুরু করার পূর্বে বারবার নিজেদের স্মরণ করে দেয়া উচিত যে আমাদের দিনগুলো শুরু ও শেষ হয় শয়তানের সাথে যুদ্ধ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার আনুগত্যের মাধ্যমে। সুতরাং আপনি যদি কেবল আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে ময়দানে নামেন তবে অন্যদিকে শয়তানের মত হার না মানা বদ-সৈনিক আপনাকে আক্রমণ করার জন্যে আড়ালে সদাপ্রস্তুত রয়েছে। ফলস্বরূপ আপনি আল্লাহর ইবাদাত করলেও খুব সহজেই যেকোনো পাপে জড়িয়ে পড়বেন শয়তানের ধোকায়।

তবে কেমন হয়, যদি দিনের শুরুতে শয়তানের মত শত্রুকে আপনি তাড়িয়ে দিয়ে ময়দানে নেমে যান আল্লাহর আনুগত্যের জন্যে? এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল নিম্নোক্ত বহুল পরিচিতি দোয়াটি ১০০ বার পড়ে নিবেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।

আমরা সকলেই জানি এ দুয়াটি সকল সন্ধ্যার যিকর হিসেবে পড়া হয় এবং অনেকে পড়ি তো পড়ি না৷ পড়লেও ১০ বার৷ হিসনুল মুসলিম বইটিতে দুয়াটি একদম শেষে থাকার ফলে অনেকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ি না।

আপনি দেখে থাকবেন পুরো হিসনুল মুসলিমে এটিই এমন একটি দোয়া যেটি আপনার পড়তে সবচেয়ে বেশি আলসেমি হয়। জ্বী ভাই! এটি সেই দুয়া যেটি পড়লে শয়তান আর আপনার ধারে কাছে আসতে পারবে না। শয়তান আল্লাহর কাছে করা ওয়াদা গুলো সম্পন্ন করতে পারবে না! এটি সামান্য কোনো বিষয় নয়! দুয়াটি সকালে পাঠ করলে বিকাল পর্যন্ত আসতে পারবে না। আর বিকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আসতে পারবে না। একজন রাক্বী (যিনি কিনা রুক্বাইয়াহ করেন) তাকে একবার এক জ্বিন ভর করতে গিয়ে না পেরে কেদে দিয়ে বলেছিলো যে আমি পারছি না উনার উপর ভর করতে৷ এর মূল কারণ ছিলো তিনি সেদিন ১০০ বার উক্ত দুয়াটি পড়ে নিয়েছিলেন। ঘটনাটি আরো সাজানো৷

যা হোক, এবার আমরা এ দুয়াটি একটি ভিন্ন নিয়মে পড়বো। আর তা হচ্ছে, উক্ত দুয়াটি আপনি সকালে ফজরের সলাত টা পড়েই ১০০ বার পড়ে মসজিদ থেকে বের হন, এর আগে কিছুতেই দিন শুরু করবেন না। আপনি এই দুয়াকে এমনভাবে প্রায়োরাটাইজ করবেন যে আপনি খাবার-দাবার গ্রহণ করুন আর না করুন, এ দুয়া পড়ে আপনাকে দিন শুরু করতে-ই হবে। অন্যসব আমল স্কিপ করে আগে এই দুয়াটি প্রথমেই পড়ে শেষ করে ফেলুন। ১০ মিনিটের মত লাগতে পারে। তারপর আপনি চাইলে অন্য যেকোনো সকাল সন্ধ্যার যিকর গুলো পড়তে পারেন কিংবা কুরআন তিলওয়াত ইত্যাদি যা ইচ্ছা পড়তে পারতেন।

ঠিক তেমনি পূনরায় আসর কিংবা মাগরিব এর সলাত শেষ করেই দুয়াটি নাক-কান বন্ধ করে ১০০ বার পড়া শেষ করে ফেলুন। এবারও আপনি শয়তান হতে মুক্ত।

আর, যেসকল ভাইবোনেরা সকাল সন্ধ্যার যিকর করেন না তারা এপটি প্লেস্টোর থেকে নামিয়ে নিন কিংবা বইটি স্বল্পমূল্যে কিনে নিন৷ অতঃপর সকাল সন্ধ্যার যিকর এর দুয়াগুলোর বাংলা অর্থ পড়ুন৷ আমি নিশ্চিত যে আপনি মাথায় হাত দিয়ে বলবেন যে এমনসব দুয়াগুলো বাদ কিভাবে জীবন কাটালাম! এক পর্যায়ে আপনি সকাল সন্ধ্যার যিকর ছাড়া চলতে পারবেন না৷

এবার আসি মূল সমস্যায়। এটা একদম কমন। তা হলো, আউযুবিল্লাহ পড়া, ইন্নি আউযুবিকা দিয়ে শুরু এমন দুয়াগুলো পড়লেও মনে হয় শয়তান যেন যায়নি, এখনও কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। জ্বী, এটি সকলের ক্ষেত্রেই। চলুন জানা যাক মূল রহস্য৷

৩ ধরনের নাফস রয়েছে। যথাঃ

১. নাফসুল মুত্বমাইন্নাহ

২. নাফসুল লাওয়ামাহ

৩. নাফসুল আম্মারাহ

এর মধ্যে সর্বোত্তম ও সুস্থ নাফস হচ্ছে প্রথমটি, যেটি নিয়ে আমরা আমাদের রবের নিকট ফিরে যাবার আশা করি, এরপর অধিকাংশের নাফস হচ্ছে দ্বিতীয়টি। যা রোগাক্রান্ত। অর্থাৎ অনুতপ্ত পাপী নাফস, যেটি পাপ করে, আবার তাওবা করে।আর তৃতীয় ধরণের নাফসটি ধ্বংসাত্মক, এটির মাঝে কোনো অনুতাপবোধ কিংবা ভয় নেই। মনে রাখবেন আমাদের নাফস হচ্ছে নরম মাটির মত, এটিকে যেভাবে তৈরী করা হয় এটি সেভাবেই কাজ করে।

শয়তান আপনার নাফসকে এমনভাবে তৈরি করে রেখেছে যে আপনি প্রতিরক্ষামূলক দুয়াগুলো পাঠ করলেও আপনার নাফস আপনাকে ছাড় দেয় না। কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনি যখন আল্লাহর কাছে শয়তান হতে আশ্রয় চান তখন শয়তান আপনার ধারে ঘেষতে পারে না ঠিকই, কিন্তু আপনার নরম মাটির মত নাফসটি যা শয়তান নাফসুল লাও-ওয়ামাহ তে পরিণত করেছে সেটি আপনাকে ছাড়েনা।

আর যখন আপনার মাঝে পাপ করার ইচ্ছা জাগে তখন শয়তান ও নাফসুল লাও-ওয়ামাহ এদুটির সাথে আপনাকে যুদ্ধ করতে হয় এবং আপনি হেরে যান।

কিন্তু যেদিন আপনি ১০০ বার উক্ত দুয়াটি পাঠ করবেন। সেদিন আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে নাফসুল লাও-ওয়ামাহ এর সাথে৷ সেদিন শয়তান থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

ধরা যাক আজ আপনার সিগারেট, মদ কিংবা অন্যকোনো দ্রব্যসেবন করতে মন চাইছে কিংবা কোনো বাজে ফিল্ম দেখা বা গোপন কোনো পাপ করতে মন চাইছে। মনে রাখবেন সেদিন শয়তান নেই। আছে নাফসুল লাও-ওয়ামাহ। আপনার রোগাক্রান্ত নাফস।

একটি জিনিস সবসময়ই দেখবেন, আপনার যতই পাপ করার ইচ্ছা হয়। আপনি জানেন যে মনের গভীরে আপনার একটা শক্তি আছে যেটা দিয়ে আপনি চাইলেই পাপটা এভয়েড করতে পারেন৷ কিন্তু আপনি তা করেন না। দাঁড়িয়ে বসে কিছু একটা যুক্তি খোজেন পাপ করার কিংবা না করার। ফলস্বরূপ পাপ হয়ে যায়। একটু খানি তৃপ্তির পর দীর্ঘসময়ের অনুশোচনা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেছেন,

وَ اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ وَ اِنَّہَا لَکَبِیۡرَۃٌ اِلَّا عَلَی الۡخٰشِعِیۡنَ ﴿ۙ۴۵﴾

আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন। (২ঃ ৪৫)

আপনার যখন ফিতনা অনুভব হবে আপনি সাথে সাথে ২ রাকাত নফল সলাতে দাঁড়িয়ে যান। এটা এই লিখার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবথেকে উত্তম হয় যদি আপনি সারাক্ষণ ওযুতে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলেন। ফলস্বরূপ মনে ফিতনার অনুভূতি এলেই আপনি সিজদায় পড়ে বলে ফেললেন

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ

ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বইয়্যুমু বিরমাতিকা আস্তাগিছ।

আল্লাহকে এ দুটো নামে ডেকে কিছু চাইলে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এভাবে যতক্ষণ ফিতনা অন্তর থেকে না দূর হয়, সিজদায় পড়ে থাকেন। সাহায্য চান৷ দিনে ১০০ বার ফিতনা হলে ১০১ বার সলাত পড়ুন।

মনে রাখবেন, ফিতনা শুরু হলে যদি সলাতের জন্য ওযু করতে যান টয়লেটে কখনোই দেরি করবেন না৷ অনেক সময় টয়লেটে শয়তান ধোকা দিয়ে বলতে পারে যে, উত্তমরূপে ওযু করে সলাত টা আদায় করে নে। আপনি বিন্দুমাত্র কানে নিবেন না। চোখ কান বন্ধ করে কোনোমতে শরীরের অংশগুলো ভিজিয়ে ওযু সম্পন্ন করে সলাতে দাঁড়িয়ে যান৷ কেননা অনেক সময় টয়লেটে ধীরে ধীরে অযু করতে গিয়ে সলাতের আগ্রহ টাই চলে যায়৷ শরীর মুছতে গিয়ে টাওয়েল খুজতে গিয়েও টাইম নিবেন না, টাওয়েল না পেলে ভিজে শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে যান৷

আমার মনে আছে, ব্যক্তিগত কোনো কারণে আমি অনেক ভেঙে যাই। যখনই মনে ব্যাথা অনুভব করতাম তখনই অযু করার জন্য টয়লেট যেতাম৷ কিন্তু মূহুর্তের মধ্যে আমার মনের কষ্টটা দূর হয়ে যেতো৷ এরকম কয়েকবার হয় সেদিন। পড়ে বুঝতে পারি হতাশা সৃষ্টিটা শয়তান করছে কিন্তু সে চায় না আমি এর কারণে নফল সলাত পড়ে তার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিই।

এভাবে যখন আপনি চেষ্টা করতে থাকবেন আপনি অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য পাবেন।

وَ الَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ؕ وَ اِنَّ اللّٰہَ لَمَعَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿٪۶۹﴾

আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। (২৯ঃ৬৯)

আরেকটি কাজ অবশ্যই করবেন তা হল, একাকী থাকা বর্জন করুন। কুরআন এর ৩০ তম পারাটি হিফজ করার চেষ্টা করুন। এক পর্যায়ে পাপ করতে গিয়েও করতে পারবেন না, তখন মনে হবে আমি গুনাহ করলে হিফজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিংবা যা মুখস্থ করেছি তা ভুলে যাবো। কেননা কুরআন হচ্ছে আলো, আর পাপ হল অন্ধকার। আলো আর অন্ধকার একত্রে থাকতে পারে না। আপনি যেদিন পাপকে সম্পূর্ণরুপে এভয়েড করবেন সেদিন আপনার এতটা শান্তি লাগবে যা উক্ত পাপ করার সময়েও কখনো পাননি। এর ফলে আপনার কুরআন হিফজ করার আগ্রহও বেড়ে যাবে!

আরেকটি বিষয়, প্লেস্টোর এ lock me out নামের একটি এপ আছে যেটির মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন এক্সেস করতে পারবেন না। আপনার যখন ফিতনা অনুভুত হবে তখন আপনি ১ ঘন্টার জন্য টাইমার সেট করে দিলে আপনি আর ফোন খুলতে পারবেন না। ফোন খুললেই আবার স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে। সর্বোত্তম হয় যদি বাটন ফোন ইউজ করেন, কিন্তু যখন আপনি বাটন ইউজ করতে যাবেন তখন শয়তান ধোকা দিয়ে বলবে যে অনেক দ্বীনি পোস্ট আর ভিডিও ছাড়া থাকবি কিভাবে?

এটা একটা কমন ধোকা৷ কিন্তু আপনি এক সপ্তাহ স্মার্টফোন থেকে বিরতি নিয়েই দেখুন, অনাবিল শান্তি আর স্বাধীনতা অনুভব করবেন। আপনার আমার এই ফোন আমাদেরকে বেধে রেখেছে, অন্তর শক্ত করে ফেলেছে৷

আপনার রোগাক্রান্ত নাফসটিকে নাফসুল মুত্বমা-ইন্নাহ তে নেয়ার পথে কান্নাকাটি করুন। নরম মাটির নাফস কে রোগমুক্ত করুন। অনুতাপের আগুনে নিজের নাফস দগ্ধ করে শক্ত করুন যাতে ওই অবস্থায় অটল থাকে।

یٰۤاَیَّتُہَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ ﴿٭ۖ۲۷﴾

ارۡجِعِیۡۤ اِلٰی رَبِّکِ رَاضِیَۃً مَّرۡضِیَّۃً ﴿ۚ۲۸﴾

فَادۡخُلِیۡ فِیۡ عِبٰدِیۡ ﴿ۙ۲۹﴾

وَ ادۡخُلِیۡ جَنَّتِیۡ ﴿٪۳۰﴾

হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে। (৮৯ঃ ২৭,২৮,২৯)

শেষ ধাপ,

আপনাকে এখন আল্লাহর প্রতি আশা রাখতে হবে। আর এই আয়াতগুলো প্রতিদিন দেখে দেখে অন্তরে আশার আলো জাগিয়ে তুলুন।

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার প্রতিদানকে মহান করে দেন। (৬৫ঃ ২,৩,৪,৫)

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ

আবু কাতাদাহ হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ

নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ এর থেকেও উত্তম কিছু দ্বারা তাকে প্রতিস্থাপন করবেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ২২৬৫)

সুতরাং পাপ ছেড়ে দেয়ার পর আপনাকে কেবল অপেক্ষা করতে হবে এর বিনিময় পাবার জন্য। সুতরাং ধৈর্যের সাথে বিনিময়ের অপেক্ষা করুন….।

(আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা সর্বপ্রথম আমাকে, অতঃপর আপনাদের সকলকে আমল করার তাউফিক দান করুক, আমিন)।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত