প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতীতে মানব জাতির উপর পতিত আযাব-গযবের ইতিহাস 

এ পৃথিবী এমনিতেই সৃষ্টি হয়নি। এর একজন স্রষ্টা আছেন। তিনি হলেন করুণার আধার, দয়ার নিধান আল্লাহ তাআলা। তাঁর ইঙ্গিতেই পৃথিবীর সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। তিনি মানবজাতি সৃষ্টি করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ভূষিত করেছেন। আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব যদি তার আসল মালিককে ভুলে যায় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে, তাহলে তার মালিক তার প্রতি শুধু অসন্তুষ্টই হন না, বরং তাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হন। তবে আল্লাহ তাআলা যেহেতু অতিশয় মেহেরবান ও দয়াময়, তাই তিনি তাত্ক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করেন না। তিনি অবকাশ দেন, বারবার সুযোগ দেন। তা ছাড়া আমাদের প্রিয় নবী (সা.) আল্লাহ তাআলার কাছে এ দোয়া করেছিলেন যে তাঁর উম্মতকে যেন আগেকার উম্মতের মতো শাস্তি তথা মানবাকৃতিকে বানর, শূকর ইত্যাদির আকৃতিতে রূপান্তর, পাথরের বৃষ্টি, ভূমি উল্টিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট করা না হয়।

অতীতে অনেক উল্লেখযোগ্য জাতি চোখের পলকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে- এমন ৬টি জাতির ইতিহাস কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে-

১) কওমে নূহ, ২) কওমে ‘আদ,
৩) কওমে সামূদ, ৪) কওমে লূত,
৫) কওমে মাদইয়ান, ৬) কওমে ফিরআউন

এদের ধ্বংসের কারণ ও বিবরণ নিন্মরূপঃ

১) কওমে নূহঃ এদের পাপ ছিল শিরক। ওয়াদ্দ, সুআ, ইয়াগুছ, ইয়াঊক, নাসর এই পাঁচজন নেককার ব্যক্তির নামে এরা ওসিলা করতো ও তাদেরকে পূজা করতো। (সূরা নূহ: ২৩)
এ জন্য মহাপ্লাবনে তাদেরকে ধ্বংস করা হয়।

২) কওমে আদঃ এরা খুবই শক্তিশালী ও মেধাবী জাতি ছিল। সুউচ্চ প্রাসাদ, টাওয়ার নির্মাণ করতো। গরীব ও দুর্বলদের উপর যুলুম করতো আর শিরক ছিল তাদের অভ্যাস।
এ সকল কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যে শাস্তি দেন- ১) অনাবৃষ্টি, ২) কালো মেঘ ও বজ্র নিনাদ, ৩) ভুমিকম্প। একবারে তাদের ধ্বংস করে দেন। (সূরা ক্বামার: ২০)

৩) কওমে সামূদঃ এদের বৈশিষ্ট্য-
ক) বৈষয়িক উন্নতির শিখড়ে পৌঁছেছিল,
খ) নির্মাণ শৈলিতে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিল,
গ) সামরিকভাবেও তারা শক্তি অর্জন করেছিল।
তাদের পাপের ধরণ ছিল, ১) শিরক ২) কুফর ৩) নবীকে অস্বীকার ও আল্লাহ তাআলার নিদর্শন হিসেবে প্রেরিত একটি উস্ট্রিকে হত্যা ও নবী পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্র। (সূরা নামল: ৪৮,৪৯)

গযবঃ ১) বিশাল বজ্র নিনাদ ২) ভূমি ধ্বসের মাধ্যমে এমন শাস্তি প্রয়োগ করা হয় যে পরবর্তীতে মনে হয় সে এলাকায় কোন জনপদ ছিল তা বিশ্বাস হয় না। (সূরা ক্বামার: ৩১, সূরা আ’রাফ: ৭৮)

৪) কওমে লূতঃ এদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দুনিয়াবী সকল বিত্ত-বৈভব অর্জন করেছিল। জর্ডান ও ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী সাদূম নগরীসহ মোট পাঁচটি সমৃদ্ধ নগর এরা গড়ে তুলেছিল, যাকে কুরআনুল কারীমে ‘মু’তাফিকাত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। (সূরা তাওবা: ৭০, সূরা হাক্কাহ: ০৯)
তাদের পাপঃ ক) কুফুরি খ) শিরক গ) অবাধ্যতা ঘ) সমকামিতা
পরিণামঃ ১) প্রচন্ড ঝড়, ২) বজ্র নিনাদ, ৩) জমিনকে উপরে তুলে উপর করে আছাড় দিয়ে ফেলে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা।

৫) আহলে মাদইয়ানঃ লূত সাগরের সন্নিকটে সিরিয়া ও হিজাযের নিকটবর্তী জনপদকে “আহলে মাদইয়ান” বলা হয়।
বৈশিষ্ট্যঃ হযরাতে শুআইব আঃ এই কওমের নবী ছিলেন। তারা তার অবাধ্য হয়েছিল,
অপরাধঃ ক) রাহাজানি, খ) লুটপাট, গ) শিরক, ঘ) কুফর, ঙ) ওজনে কম দেয়া।

শাস্তিঃ ১) অত্যধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়,
২) বজ্রসহ বৃষ্টি, ৩) ভুমিকম্প, ৪) আকাশ থেকে অগ্নি বর্ষণ। (সূরা হূদ: ৯৪-৯৫)

৬) কওমে ফিরআউনঃ আল্লাহর নবী ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর অনেক পর এরা ক্ষমতায় আসে। বনী-ইসরাইলকে এরা গোলামে পরিণত করে। আল্লাহর নবী মুসা ও হারূন (আলাইহিমাস সালাম) তাদের সমসাময়িক নবী।
অপরাধঃ ১) নবীর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা, ২) যুলুম, ৩) কুফর, ৪) শিরক

শাস্তিঃ ১) দুর্ভিক্ষ, ২) প্লাবন, ৩) পঙ্গপাল, ৪) উকুন, ৫) ব্যাঙ, ৬) রক্ত, ৭) মহামারি প্লেগ, ৮) সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস।

সর্বাধিক পঠিত