প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মোদীকে তার বক্তব্যের প্রভাব মাথায় রাখতে হবে, মনমোহনের বিবৃতি

রাশিদ রিয়াজ : [২] চীনের সঙ্গে লাদাখ সংঘাত নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে দেশটির সাবেক প্রধামন্ত্রীন মনমোহন সিং বলেছেন ‘আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ভুল তথ্য কখনই কূটনীতি ও নির্ণায়ক নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না। মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে কখনই সত্যকে চেপে রাখা যায় না। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, তিনি কী বলছেন, তার তাৎপর্য যেন মাথায় রাখেন।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া

[৩] মনমোহন বলেন, ‘কর্নেল সন্তোষ বাবু ও আমাদের জওয়ানদের আত্মত্যাগের কথা যেন তিনি মাথায় রাখেন এবং সর্বশক্তি দিয়ে দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করেন। তার কম কিছু করা মানে দেশের লোকের বিশ্বাসের প্রতি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।’

[৪] গত শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতের এক ইঞ্চি জমিও চীনের অধিকারে নেই। কেউ ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকেনি। কোনও পোস্টও অন্যদের অধিকারে নেই।

[৫] মনমোহন বলেন, এই মুহুর্তে, আমরা ঐতিহাসিক মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে যে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের সম্বন্ধে কী উপলব্ধি করবে। যাঁরা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদেরই একান্তভাবে এই দায়িত্বের ভার বহন করতে হবে এবং আমাদের গণতন্ত্রে এই দায়িত্বটি থাকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপর। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তিনি কী বলছেন এবং আমাদের জাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে যে ঘোষণাগুলি করছেন তার প্রভাব সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হবে।

[৬] মনমোহন সিং বলেন, চীন নির্লজ্জ এবং অবৈধভাবে এপ্রিল থেকে একাধিক আক্রমণ চালিয়ে গালওয়ান উপত্যকা এবং পানগং তসো হ্রদের মতো ভারতীয় ভূখণ্ডের কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। আমরা তাদের এই হুমকি ও ভয় দেখানো থেকে বিচলিত হতে পারি না এবং আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপোষের অনুমতি দিতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সরকারের সমস্ত দফতর একসঙ্গে কাজ করবে। এই সঙ্কটের এখনই মোকাবিলা করুন এবং আরও যাতে বাড়তে না পারে তার জন্যে সচেষ্ট হোন, বলেন মনমোহন।

[৭] কংগ্রেস আগেই দাবি করে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর প্রধান যা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তো তার উল্টো কথা বলছেন। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম প্রশ্ন করেছিলেন, চীনা সেনা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে না ঢোকে তো ৫ মে থেকে ৬ জুন বিরোধটা কী নিয়ে হচ্ছিল? ভারতীয় সেনা কম্যান্ডাররা কী নিয়ে চীনের কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন? কেন আমাদের ২০ জন জওয়ানকে প্রাণ দিতে হলো?

[৮] কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, মোদী হলেন ‘সারেন্ডার মোদী’। মানে যিনি দেশের জমি সারেন্ডার করে দিয়েছেন চীনের কাছে। উপগ্রহ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চীন আমাদের ভূখণ্ড দখল করে বসে রয়েছে।

[৯] চীনের তরফ থেকে গোটা গালওয়ান এলাকা দাবি করে বলা হয়েছে, তারা নিজের ভূখণ্ডে ছিলেন, ভারতীয় সেনাই আক্রমণ করেছিল।

[১০] ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সোমবার রাশিয়া যাচ্ছেন। এরআগেই তিনি বৈঠকে বসেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির তিন বাহিনীর প্রধান, সেনা প্রধান এমএম নারবানে, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং এবং বায়ুসেনা প্রধান আরকেএস ভাদুরিয়া। মঙ্গলবার রাশিয়া-চীন-ভারতের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে। লাদাখে সংঘাতের পর এই প্রথম কোনও মঞ্চে ভারত ও চীনের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত