শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২০, ০৩:০৫ রাত
আপডেট : ৩০ মে, ২০২০, ০৩:০৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] রহস্যজনক কেল্লা ভারতের কামরু কেল্লা!

মুসবা তিন্নি : [২] হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার সাংলা থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার। সেখানে পাহাড়ের কোলে রয়েছে এক রহস্যজনক কেল্লা। নাম কামরু কেল্লা।

[৩] এই কেল্লাকে ঘিরে বহু কাহিনি স্থানীয়দের মুখে মুখে শোনা যায়। যার মধ্যে সব থেকে চর্চিত, অসমের গুয়াহাটিতে থাকা কামাখ্যা মন্দিরের দেবী মূর্তি এই কেল্লায় রাখা আছে। প্রসঙ্গত, কামাখ্যা মন্দিরে দেবী মূর্তি নেই। কবে থেকে নেই, তা কেউ বলতে পারেন না।

[৪] কিন্তু, কোনও এক সময়ে কামাখ্যা মন্দিরে দেবী মূর্তি ছিল বলে জানা যায় স্থানীয়দের থেকে। সেই দেবী মূর্তি হিমাচল প্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই কামরু গ্রামে এই কেল্লায় রয়েছে ওই দেবী মূর্তি। দ্বিতীয় প্রচলিত গল্প হল, কাশী বা বারাণসী ছাড়া ভারতে একমাত্র এই কেল্লায় ৩৩ কোটি দেবতা রয়েছে। আর তৃতীয় প্রচলিত গল্প হল, এই কেল্লার পাতালঘরে এখনও ভারতীয় কায়দায় সংরক্ষিত মমি রয়েছে। আছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও।

[৫] স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রায় ১০০০ বছরের বেশি পুরনো এই কেল্লা। কে বা কারা তৈরি করেছিল এই কেল্লা, তার কোনও সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। বাষ্প নদীর ধারে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই কেল্লা কাঠের তৈরি। এই কেল্লা ছিল বাসাহার বা বুসাহির রাজ পরিবারের। ১৮০৩ থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত এই কেল্লা চলে যায় নেপালি রাজাদের হাতে। পাঞ্জাবের রাজা রঞ্জিত সিং ১৮১৫ সালে নেপালি রাজাদের হিমাচল প্রদেশ থেকে বিতাড়িত করেন। তারপর থেকে এখানে হিন্দু রাজারা রাজত্ব করেছেন।

[৬] এই কেল্লা বন্ধই পড়ে থাকে। বছরে একবার এই কেল্লা খোলা হয় দেব দেবীদের পূজার্চনা ও কেল্লা পরিষ্কার রাখার জন্য। এমনিতে কেল্লা বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন রাত আটটা নাগাত কেল্লার বাইরে থেকে পুরোহিত পুজো করেন। বংশানুক্রমে কেল্লার পুজো করে আসছেন তারা।

কিন্তু, কেল্লার প্রধান ফটক তারা খোলেন না। এমনিতে এই ইমারতটিকে কেল্লা বলা হলেও লাল কেল্লা বা আগ্রা ফোর্টের মতো এই কেল্লা নয়। বরঞ্চ কাঠের বিশাল বাড়ি বলাই বাহুল্য। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের এক অদ্ভুত ভাস্কর্য দেখা যায় কেল্লায় ছাত থেকে শুরু করে ফটক পর্যন্ত। কাঠের অনবদ্ধ কাজ। যে কাজ নেপালের দরবার স্কয়্যারে দেখতে পাওয়া যায়, সেই কাজের নিদর্শন আছে এই কেল্লায়। রাস্তা থেকে মোট ৩১৩টা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় এই কেল্লায়। সময় লাগে ঘণ্টা খানেক। সকালবেলা কেল্লা চত্বরে ঢুকতে গেলে মাথায় পরতে হয় হিমাচলি টুপি, কোমরে জরির ওড়না। কেল্লার ভিতরে অবশ্য ঢুকতে দেওয়া হয় না।

[৭] স্থানীয় বাসিন্দারা এই কেল্লাকে যেমন সম্মান করেন, তেমনই ভয়ও পান। তাদের কথায়, এই কেল্লার রহস্য উৎঘাটন করতে গিয়ে বহু দেশি বিদেশি পর্যটক ভিতরে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। মাটির তলায় এই কেল্লা কত দূর বিস্তৃত কেউ জানেন না।

[৮] কেউ এটাও জানেন না, কামাখ্যা দেবীর মূর্তিকে এই জায়গায় কে বা কারা কবে নিয়ে এসেছিলেন। কী ভাবেই বা এই কেল্লায় ৩৩ কোটি দেবদেবী স্থান পেলেন, আর কেল্লায় ভিতরে যে মমি আছে তা কাদের সেটাও কেউ জানেন না।

সূত্র : ইতিহাস ও মিথলজি

  • সর্বশেষ