প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নজরদারিতে বিএনপি নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] নির্বাচন এলেই প্রার্থীর নেই। একেকটি আসনে ১০ থেকে ২০জন পর্যন্ত মনোনয়ন চান বিএনপির। দলীয় মনোনয়ন পেতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অসংখ্য নেতা। হোক সেটি জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করেও অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত হন, আবার এলাকায় যাতায়াত না করে, স্থানীয় জনগণের সাথে যোগাযোগ না রেখে অনেকেই বাগিয়ে নেন দলীয় প্রতীক। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০০ আসনের বিপরীতে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। যাদের বেশিরভাগই নির্বাচনের পর অদৃশ্য হয়ে গেছেন। যেই এলাকার জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছিলেন সেই এলাকার মানুষও তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। দেশ ও মানুষের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত দিনে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং আগামীতে যারা প্রার্থী হতে চান তাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের পক্ষ থেকে।

[৩] বিএনপি সূত্রে জানা যায়, করোনা সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন যার যার এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। বিশেষ করে যারা বিগত দিনে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং আগামী দিনে প্রার্থী হতে চান। নির্দেশনা মেনে অনেক নেতাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ি খাদ্যসমাগ্রী, সুরক্ষা সমগ্রী, উপহার সামগ্রী, নগদ অর্থসহ নানাভাবে স্থানীয় দরিদ্র, অসহায়, দিনমজুর, খেটে খাওয়া, দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মোটারসাইকেল বিক্রি করে, বউয়ের গহনা, জমি বন্ধন রেখেও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন। তবে অনেক নেতা সামর্থ্য থাকার পরও এই নির্দেশনা মানেন নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এজন্য দলের যেসব নেতা এই সঙ্কটকালীন সময়ে মানুষের পাশে ছিলেন এবং যারা ছিলেন না তাদের প্রত্যেকের তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির অন্যতম একজন শীর্ষ নেতা। এমনকি অনেকেই ছবি তোলার জন্য নাম মাত্র কিছু সহযোগিতা করে দায় সেরেছেন তাদের বিষয়েও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তারেক রহমান তথ্য নিয়েছেন বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

[৪] বিএনপির ওই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের কারা কারা এই দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মানুষের পাশে ছিলেন তাদের তালিকা চেয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সাথে বিগত দিনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, বিশেষ করে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্য থেকে যারা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন তাদের তালিকাও আলদাভাবে দেয়া হয়েছে।

[৫] ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা এক নেতা বলেন, তাঁর বিভাগে বিগত নির্বাচনে ৩০ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সঙ্কটকালীন সময়ে ২জন ছাড়া ২৮জনকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বার বার ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কিন্তু তারা কর্ণপাত করছেন না। পক্ষান্তরে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে তাদের বেশিরভাগ এবং স্থানীয় নেতারা প্রতিনিয়তই ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

[৬] ত্রাণ বিতরণ কাজে জড়িত বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, সকলকেই বলা হয়েছে আগামীতে মনোনয়ন চাইলে অবশ্যই এখন মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেহারা দেখে নয়, মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা দেখেই মনোনয়ন দেবেন। কারা দলের নির্দেশনা মেনে এবং নিজে থেকেই মানুষকে সাহায্য করছেন, কারা নিষ্ক্রিয় থাকছেন তাদের প্রত্যেককেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরদারিতে রেখেছেন। তিনি প্রত্যেকের বিষয়েই খোঁজখবর নিয়েছেন, বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করেছেন। যারা প্রাথমিক প্রার্থিতা পেয়েছিলেন কিন্তু এখন নিষ্ক্রিয় তাদের বিষয়ে কোন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, এ বিষয়ে তাদেরকে কোন কিছুই জানানো হয়নি।

[৭] বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অসহায় মানুষের সহযোগিতায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রজন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই করোনা সঙ্কটকালে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশেষ করে বিভিন্ন পর্যায়ের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সামর্থ্যরে সবটুকু নিয়ে অসহায় জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের শখের মোবাইল কিংবা মোটরসাইকেল বিক্রি করে অথবা স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে সেই অর্থ দিয়েও অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন’। সতর্কতা-সহায়তা-মানবিকতা’ এই চেতনায় সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে। সাধ্যমতো ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। রিজভী বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান মনে করেন এর মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছেন মানবতা হারায়নি।

[৮] বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দলটির সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতারা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ি ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বিগত নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের মাঝে অন্তত শতাধিক নেতা সক্রিয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন। বাদ ছিলেন না তৃণমূলের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এছাড়া বেশিরভাগই সাবেক ছাত্র নেতা ও উদীয় নেতারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সারাদেশে ৩২ লাখ পরিবারের এক কোটি ২৫ লাখের বেশি মানুষের হাতে সহযোগিতা তুলে দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসব নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-রাজধানীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, আমিনুল হক, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল, এমএ কাইয়ুম, কাজী আবুল বাশার, এসএম জাহাঙ্গীর, খন্দকার আবু আশফাক, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, এমদাদুল হক ভূইয়া রাকিব, এড. আব্দুস সালাম হিমেল। ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পঞ্চগড়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ, নরসিংদীতে ড. আব্দুল মঈন খান, খায়রুল কবির খোকন, আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল। গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, মুন্সিগঞ্জে মীর সরাফত আলী সপু, এড. আব্দুস সালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জে মাহমুদুর রহমান সুমন। খুলনায় রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, ময়মনসিংহে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এমরান সালেহ প্রিন্স, মামুন বিন আব্দুল মান্নান, আখতারুজ্জামান বাচ্চু, নেত্রকোণায় ডা. আনোয়ারুল হক, শহীদুল্লাহ ইমরান।

[৯] ঝিনাইদহে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কাজী ইফতেখারুজ্জামান শিমুল, এড. মাহফুজুল হক খান বাবু, কাজী জিল্লুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, আব্দুল মালেক, বিথীকা বিনতে হোসাইন। যশোরে সাবেরুল হক সাবু, লহ্মীপুরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শফিউল বারী বাবু, নোয়াখালীতে মোহাম্মদ শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফেনীতে আবদুল লতিফ জনি।

[১০] নাটোরে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, তাইফুল ইসলাম টিপু, ফরিদপুরে শ্যামা ওবায়েদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মাহবুবুল হাসান পিংকু। কিশোরগঞ্জে শরিফুল আলম, গোপালগঞ্জে সেলিমুজ্জামান সেলিম, সিরাজগঞ্জে গোলাম সরোয়ার, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, পটুয়াখালীতে হাসান মামুন, নওগাঁয়ে আব্দুল মতিন।

[১১] চট্টগ্রামে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ডা. শাহাদাত হোসেন, মীর হেলাল, গাইবান্ধায় প্রফেসর আমিনুল ইসলাম, রাঙ্গামাটিতে এড. দীপেন দেওয়ান, জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, ফারুক আহমেদ সাব্বির, আলী হোসেন বালি, কামাল হোসেন। সিলেটে এড. মাওলানা রশীদ আহমেদ।

[১২] বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলের নেতাকর্মীরা ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রীসহ নানা উপকরণ তুলে দিয়েছে। সরকারের বাধা, হামলা, মামলা গ্রেফতার উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা এই দুর্যোগকালীন সময়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইনকিলাব, প্রিয়ডটকম

সর্বাধিক পঠিত