শিরোনাম
◈ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার ◈ শিক্ষার্থী আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ৪ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ময়মনসিংহে নিহত ৭ ◈ বিমানবন্দরে তর্ক-বিতর্ক : মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গয়না থেকে স্মার্টফোন-মহাকাশযান, খাবারেও ব্যবহার হয় সোনা—জেনে নিন স্বর্ণের যত ব্যবহার ◈ সরকারের অজানা শত্রু কারা: ক্ষমতা বদলের পর আমলাতান্ত্রিক অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ◈ ভিসা সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার টিম  ◈ মক্কার পর এবার মদিনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি, দাবি সৌদির ◈ বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন তরুণীর নেপালযাত্রায় বাধা, নেপথ্যে কী? যা জানাগেল ◈ শিল্পের আকার ও রফতানি সক্ষমতা বাড়লেও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২০, ০২:৫৩ রাত
আপডেট : ২৫ মে, ২০২০, ০২:৫৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ঈদে করোনা থেকে সুরক্ষায় স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধসহ কারা অধিদপ্তরের ১৩ নির্দেশনা জারি, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন

সুজন কৈরী : [২] জানা গেছে, কোনো বন্দি বা কারারক্ষী করোনা পজেটিভ হলে তাৎক্ষণিক তাকে চিকিৎসা দেয়া, প্রয়োজনে আইসোলশনে পাঠানো এবং করোনার কারণে কোনো বন্দি আতঙ্কিত হলে বা বন্দিদের সম্ভাব্য অসন্তোষ মোকাবেলায় গঠন করা হয়েছে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’। দেশের প্রতিটি কারাগারে ৬ সদস্যের এই টিম সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে।

[৩] এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল, স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধসহ শনিবার জারি করা কারা অধিদপ্তরের ওই নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেশের ৬৪ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ঈদ উপলক্ষে দেশের সকল কারাগারে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ থাকবে। তবে বিধি মোতাবেক ফোনে কথা বলার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের সম্ভাব্য সকল সহযোগীতা করবে। বাইরে থেকে স্বজনদের সকল প্রকার খাবার দেয়া বন্ধ থাকবে। ভুলবশতঃ কোনো বন্দির আত্মীয়-স্বজন খাবার নিয়ে আসলেও বিনয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে তা ফেতর দিতে হবে। ভেতরে বা বাহিরে কোনো উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত হবে না। বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রতি বন্দি ভবনে পৃথকভাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত আয়োজন করতে হবে।

[৪] কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ জামাতের ক্ষেত্রে কারা মসজিদে আগে দেয়া নির্দেশনা (হাত ধোয়াসহ জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা, জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশ না করা, এক সারি পরপর ফাঁকা রেখে জামাতে দাঁড়ানো ইত্যাদি) অনুসরণ করে আয়োজন করতে হবে। ঈদের জামাত একাধিক হলে দুই জামাতের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টার ব্যবধান রাখতে হবে। সম্প্রতি কারাগারে আসা এবং অন্তত ১৪ দিন অতিক্রম না হওয়া বন্দিদের কোনোভাবেই কোয়ারেন্টাইন থেকে বের করে উন্মুক্ত স্থানে নেয়া যাবে না। বন্দি ও কর্মকর্তা/কর্মচারী সবাইকে কোলাকুলি ও করমর্দন পরিহার ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর স্বার্থে ঈদ উপলক্ষে যেকোনো প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা খেলাধুলার আয়োজন করা যাবে না। টিভিতে ঈদের অনুষ্ঠান দেখার ক্ষেত্রেও যথাযথ স্বাস্থবিধি মানতে হবে।

[৫] ঈদ উপলক্ষে বাহির থেকে আনা চাল, সেমাই ও মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। রান্নার কাজে শুধুমাত্র সুস্থ ব্যক্তিদেরকেই নিয়োজিত করতে হবে। রান্নার কাজে অংশগ্রহণকারীদের গøাভস পড়তে হবে এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য বিতরণের জন্য শুধুমাত্র সুস্থ ব্যক্তিকে নিয়োজিত করতে হবে। বন্দিদের অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করিয়ে খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিন্দুমাত্র অসুস্থ ব্যক্তি লাইনে দাঁড়াবে না।

[৬] জেলা প্রশাসন ছাড়া বেসরকারী কারা ভিজিটরদের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। ঈদে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে যাবেন না। কর্মস্থলে অবস্থানের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। ব্যতয় ঘটলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ঈদের কেনাকাটায় বাহিরে যাওয়া নিরুৎসাহিত করা হলো। সেইসঙ্গে ঈদের দিন বা আগে-পরে কোনো পার্ক/মেলা/ জনবহুল স্থানে আসা-যাওয়া সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। কারো নিজ জেলা বা বাড়ি নিকটবর্তী স্থানে হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে বাড়িতে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।

[৭] কোনো বন্দি/কর্মকর্তা/কর্মচারী বা কারা এলাকায় বসবাসকারী যেকোনো ব্যক্তিকে অসুস্থ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তাকে আইসোলেশন/কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

[৮] নির্দেশনায় বলা হয়েছে- কারাগারের ভেতরসহ সমগ্র কারা এলাকার সার্বিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সকলকে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কারাগারে কর্মরত চিকিৎসক ও ক্ষেত্র বিশেষে বিভাগস্থ ডিআইজির পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে প্রতিটি কারাগারে গঠিত ইমার্জেন্সী রেসপন্স টিম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সকল ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি রাখবে এবং ডিআইজিরা রিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিবিড়ভাবে তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরমার্শ দিবেন।

[৯] কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রশাসন) মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। যা ঈদের দিনও বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদের দিন বন্দিদের জন্য বাড়ি থেকে স্বজনদের খাবার নিয়ে আসার যে প্রথা চালু ছিল, সেটিও এবার বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কারাগারের নির্ধারিত মুঠোফোন নম্বরে স্বজনদের সঙ্গে ৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ বন্দিদের জন্য রয়েছে।

  • সর্বশেষ