প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আম্পানের খবর জানতেন না লালমোহনের চর শাহজালালের মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি : [২] চরের বাসিন্দারা জানান, তারা আম্পানের খবর জানেনই না। বুধবার দুপুরের জোয়ারে ঘর-বাড়ি ডুবে গেলে চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে জানতে পারেন ঘূর্ণিঝড়ের খবর। কিন্তু ওই মুহূর্তে ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে চরেই থেকে যেতে হয়। ফলে সারা রাত জোয়ারে ভেসে ছিলেন চর শাহজালালের মানুষ।

[৩] এদিকে চর শাহজালালের খবর নিজেও জানেন না বলে জানিয়েছেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান রুমী। তিনি জানান, লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য তেঁতুলিয়া নদীতে তাদের ৫ টি ট্রলার ছিল। কিন্তু চর শাহজালালের খবর কেউ তাদের জানায়নি।

[৪] চরের বাসিন্দা মো. তসলিম শেখ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। পানি ঘরে ঢুকে খাটের উপর পর্যন্ত উঠে যায়।  সঙ্গে এমন বাতাস যেন সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তখন আর ঘরে থাকা সম্ভব না হওয়ায়, স্ত্রী-সন্তানদের একে একে চারটি জেলে নৌকায় আশ্রয় নেন সবাই। সে নৌকা ভাসিয়ে নিয়ে বন-জঙ্গলের মধ্যে খালের মধ্যে নোঙর করে। সারা রাত তাদের সেখানে রাত কেটেছে।

[৫]  নৌকায় রাত কাটানো পেয়ারা বেগম (৪৩) বলেন, তার আট ছেলে-মেয়ে। তার স্বামীর নাম আবুল কাশেম মাঝি। ভাঙনের পরে এ চরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের নৌকায় ৪০-৪৫ জন ছিল। গুচ্ছগ্রামের পেছনে যে জঙ্গলের মতো আছে, সেখানে এটা খাল আছে। সেই খালে তাদের নৌকা বাধা ছিল। প্রচণ্ড বাতাসে ছিঁড়ে যায়। পরে ভাসতে ভাসতে একটা ঝোপে আটকে যায়। সারা রাত ভয়ের মধ্যে ভাসতে ভাসতে রাত কেটেছে। বাচ্চারা চিৎকার চেঁচামেচি করেছে। কিন্তু বৃষ্টি ছিল না। যার কারণে সমস্যা হয়নি। রাত তিনটার দিকে জোয়ার কিছুটা নেমে গেলে ঘরে ফিরে আসেন।

[৬] আবুল কাশেম মাঝি বলেন, প্রায় ১৫০ জন লোক নৌকার মধ্যে গাদাগাদি করে রাত কাটিয়েছে। কেউ কেউ ঘরের পানির মধ্যে ছিলেন। চরের মানুষ সারা রাত নির্ঘুম ছিল। সকালের দিকে পানি নেমে গেছে। গুচ্ছগ্রামের প্রায় ৬০টি ঘরের ভিটে মাটি ভেসে গেছে। ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়েছে। চুলা নেই। খেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। চরের পাঁচটি পুকুর ডুবে মাছ চলে গেছে। সব মিলিয়ে চরের ৭০টি ঘরের ক্ষতি হয়েছে।

[৭] ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চর শাহজালালের মানুষদের দুপুরের দিকে নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেনি। তিনি আরও বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ফসল ও বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩৫টি মাছের ঘের ডুবে গেছে। ২৫টি কাঁচা ঘর ধ্বংস হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০-৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত