প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টক শো- অ্যান ইনসাইড স্টোরি (ভিডিও)

যায়নুদ্দিন সানী : এদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে একসময় দারুণভাবে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছিল, রাতের টকশোগুলো। বিশেষ করে প্রাইভেট চ্যানেলগুলো যখন নতুন নতুন আসে, প্রথম দিকে বেশ সাহস নিয়েই সরকার এবং সরকারী দলের সমালোচনা করত। তাবৎ বড় বড় নেতারা প্রশ্নের বানে নাস্তানাবুদ হতেন। এরপর?

এরপরে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হল। ইস্যু ভিত্তিক আলোচনা দিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও, একসময় একে অন্যের চুল ছিঁড়তেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠল। ফলে টকশোগুলো একসময় এন্টারটেইনার হয়ে উঠল। আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়লে, অনুষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে কমেডি শোতে রূপান্তরিত হতে শুরু করল। প্রাণ খুলে হাসবার জন্য দেখা শুরু হল এসব টকশো।

দিন যত এগিয়ে গেল, টকশোগুলোর অবনতি ততোই বাড়তে থাকল। সঙ্গে নতুন উপসর্গ হিসেবে দেখা দিল পদলেহনের প্রতিযোগিতা। না, দুই তার্কিকের মধ্যে না। তার্কিক আর সঞ্চালকের মধ্যে। ফলে অনুষ্ঠানগুলো হয়ে উঠতে থাকল পদলেহনের প্রামাণ্য দলিল।ইন অ্যা নাটশেল, অনুষ্ঠানগুলো হয়ে উঠল, একের ভেতরে দুই। পদলেহন আর ভার্চুয়াল চুলোচুলি। চুলোচুলিতে কমবেশি সবাই, নিজ নিজ মনিবের পক্ষ হয়ে অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে আপ্রাণ লড়েন। কেন?

বলাই বাহুল্য, মনিবের কৃপা দৃষ্টি পাওয়া। ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে কেউ সেটা সঙ্গে সঙ্গেই পান, আর উৎসাহব্যঞ্জক কিংবা যোগ্যতার ঝলকানি দেখা গেলে, তিনি থাকেন ওয়েটিং লিস্টে। কেউ সরাসরি ‘কৃপা’ পান, কেউ পান একটু ঘুরিয়ে। বিদেশ যাত্রার সঙ্গী হবার আমন্ত্রণের মাধ্যমে। ব্যাপারটা এমনই লোভনীয় পর্যায়ে যায় যে শো এর অ্যাংকরগুলোর ভেতরে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। কিংবা বলা যায় চক্ষুলজ্জা পুরোটাই ঝেড়ে ফেলতে আর কেউই আপত্তি করেন না। পদলেহন এবং কৃপা প্রত্যাশীদের খাতায় তাঁরাও নাম লেখান। শিকেয় ওঠে টক শো।

যাইহোক, মূল কথায় আসি। করোনা অবরোধ শহুরে জীবনে যে কয়টা সুযোগ আমাদের এনে দিয়েছে, তার একটি হচ্ছে ওয়েব কনফারেন্সিং। ‘জুম’ সহ আরও অনেক সফটওয়্যারের বদৌলতে এখন ঘরে ঘরে চলছে টক শো করার এক্সপেরিমেন্ট। অনেকে বলা শুরু করেছেন, এই টকশো গুলো হতে যাচ্ছে টিভি চ্যানেলের টকশো কমেডি শো’র কফিফনের শেষ পেরেক। ব্যাপারটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে জানি না, তবে সুযোগটা আমি ছাড়লাম না। সুবক্তা হওয়ার কারণে, আর ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কারণে, নাইমুল ইসলাম খানের সাথে শুরু করলাম ওয়েব টক শো। একটি সুস্থ আলাপচারিতা।

জানি, তাঁকে নিয়েও অনেকের অ্যালার্জি আছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের টক শো জগতের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব তিনি। শুধু অন্যতম না, নন্দিত এবং নিন্দিতও। নন্দিত, কারণ, দারুণ সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। আর পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্টোরির ভেতরের খবর রাখেন বিধায়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও চলে আসে তাঁর বক্তব্যে।

আর নিন্দিত হওয়ার মূল কারণ, তাঁর কথায় পক্ষপাতিত্ব খুঁজে পান অনেকে। শুধু তা ই না, পক্ষ অবলম্বনটাও আবার অবস্থা ভেদে নড়াচড়া করে। কখনও তাঁর কথা শুনে মনে হয়, তিনি বিএনপির হয়ে কথা বলছেন। কখনও মনে হয় আওয়ামীদের পক্ষে। আর সেকারণে তাঁকে আরও একটা নামে ডাকা হয়, ‘ধান্দাবাজ’ অর্থাৎ অবস্থা বুঝে পক্ষ নেয়া চরিত্র।

এনিওয়ে, আলাপে যখন উনি রাজী হলেন, তখন আমার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল, কেন আমরা এমন চুল ছেঁড়াছেঁড়ি কালচারে মেতে উঠলাম। ঠিক কখন, আর ঠিক কেন আমরা বিতর্ক ছেড়ে মারমুখী হয়ে উঠলাম। কেন আজ টক শো গুলো কমেডি শোতে রূপান্তরিত হল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর জার্নালিজমের জ্ঞান থেকে একে একে উত্তর দিলেন আমার সব প্রশ্নের। ইচ্ছায় কিংবা নিজের অগোচরেই বলে ফেললেন ঠিক কি হয় টক শো র সময়ে। কিভাবে কখনও ডিক্টেট করা হয় তাঁদের। কিভাবে পুরো বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত রাখা হয় তাঁদের। কিংবা বা কিভাবে এসবের মাধ্যমে অনেকেই নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করেন। টক শো কালচার কিংবা বিতর্ক কালচারে ঠিক কোথায় অধঃপতনটা হচ্ছে। আমাদের নতুন সময়ের পাঠকদের জন্য পুরো আলাপটার ভিডিও লিঙ্ক এখানে দেয়া হলো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত