প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫০ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা
[১] প্রাপকের প্রায় ১০ শতাংশ পরিচয় সংকটে থাকলেও নির্দিষ্ট সময়েই পাবে সহায়তা

আনিস তপন: [২] বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে কর্মহীন শ্রমিক, অসহায় মানুষ আর দুস্থ্যদের নগদ সহায়তা দেয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ শ্রমজীবি অসহায় এসব মানুষের পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে নগদ টাকা তাদের মোবাইল ব্যাংকিং এ পাঠানো হচ্ছে। এতে প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প। ১৪,১৫,১৬, ১৭ ও ১৮ মে প্রতিদিন ১০ লাখ পরিবার হিসেবে পাঁচ দিনে ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নগদ সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

[৩] করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় চলমান অন্যান্য সরকারি ত্রাণ বিতরণ প্রকল্পের পাশাপাশি ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ টাকা দিয়ে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন শেখ হাসিনা।

[৪] এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় সারাদেশের দুস্থ্য, অসহায় ও খাদ্য সংকটে থাকা পরিবারের তালিকা তৈরী করে নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশ অনলাইন ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে প্রাপকের মোবাইল একাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।

[৫] এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সব জেলাগুলোতেই প্রাপকের তালিকা ভাগ ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তালিকার নির্ধারিত অংশের সবাইকে এই সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, তালিকায় প্রাপকের নামের সঙ্গে মোবাইল নম্বর মিলাতে গিয়ে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দেয়ায় টাকা পাঠানো হয়নি। তিনি বলেন, দেখা গেছে তালিকায় স্ত্রীর নাম রয়েছে। কিন্তু স্ত্রী মোবাইল ব্যবহার না করায় স্বামীর মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজে মোবাইল ব্যবহার করেন না তাই ছেলে বা কোনো সন্তানের নাম দিয়েছে। এখন টাকা পাঠানোর সময় নির্বাচন কমিশনের ডাটা বেজ (তথ্যভাণ্ডার) এর সঙ্গে প্রাপকের জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল রেজিস্ট্রেশনের পরিচয়ের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এমন প্রায় শতকরা ৭/৮ ভাগ পাওয়া গেছে। এতে পরিচয় সংকট হচ্ছে। তবে এসব নম্বর অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রাপকের কাছে নগদ টাকা পাঠানো হচ্ছে।

[৬] দ্বিতীয় আরেকটি বড় সমস্য পাওয়া গেছে, যাদের মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট রয়েছে তাদের বেশ কিছু ব্যক্তির একাউন্টে টাকা পাঠাতে সমস্য দেখা দিচ্ছে। এ ক্ষত্রে সমস্যা যেটা তা হলো, এর আগে দেখা গেছে এসব একাউন্টের অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোয় অনেক হিসাব বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু ক্ষত্রে সন্দেহজনক লেনদেন হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সেসব হিসাব কালো তালিকাভূক্ত করে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। এসব কারণে এই মোবাইল একাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ত্রিমুখী যাচাই-বাছাই করে তারপর টাকা পাঠানো হচ্ছে। এমন প্রায় ২/৩ শতাংশ একাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো একাউন্টেই টাকা পাঠানো বন্ধ নেই। সব একাউন্ট যাচাই-বাছাই করে টাকা পাঠাতে একটু সময় লাগলেও নির্ধারিত সময়েই ৫০ লাখ পরিবারের অনলাইন একাউন্টে টাকা পাঠানো শেষ হবে।

[৭] এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নগদ সহায়তা সেবা উদ্বোধন করেছেন বৃহস্পতিবার। সব জেলাতেই প্রাপকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম পাঁচ দিন চলবে। এক্ষেত্রে প্রাপকের জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে মোবাইল নম্বর রেজিস্ট্রেশনের সময় দেয়া পরিচয়ের মিল আছে কিনা যাচাই-বাছাই করে দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ৫০ লাখ মোবাইল নম্বরের মধ্যে ৩১ লাখ মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ লাখ নম্বরও ১/২ দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত