প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গ্রীষ্মের ছুটিতে ইউরোপীয়দের বেড়ানোর সুযোগ দিতে চায় ইইউ

রাজু আলাউদ্দিন : [২] ইউরোপে বিধ্বস্ত পর্যটন ক্ষেত্র ধীরে ধীরে আবার চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন। করোনা সংকট সত্ত্বেও নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইউরোপের মধ্যে ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব রাখা হচ্ছে তাতে।

[৩] সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শক্তির অন্যতম মূল উৎস। কেনাকাটা বা কাজের সূত্রে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ অনায়াসে নিজের দেশ থেকে প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেন। অথচ করোনা সংকটের জের ধরে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত মানুষের যাতায়াতের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে৷ শুধু ইইউ নাগরিক নয়, শেঙেন এলাকার ২৬টি দেশের মধ্যে কমপক্ষে ১৭টি দেশ সীমান্তে জরুরি নিয়ন্ত্রণ চালু করায় ইউরোপের বাইরের পর্যটকরাও সমস্যায় পড়ছেন। ফলে বিশেষ করে পর্যটন ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও সংহতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

[৪] আর এজন্য ধাপে ধাপে সীমান্ত খুলে দেবার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বাড়ছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বুধবার (১৩ মে) ইইউ কমিশন কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করছে। আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় পর্যটন ক্ষেত্র যাতে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে, সেই লক্ষে সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায় ইইউ। ঢালাওভাবে সব মানুষের জন্য সীমান্ত ও ভ্রমণের সুযোগ বন্ধ না রেখে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা করতে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ চালু করা যেতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত খুলে পর্যটকদের প্রবেশের পথে বাধা দূর করার প্রস্তাব দিচ্ছে ইইউ। সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামোর পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষমতা থাকলে পর্যটনের পথে বাধা দূর করা উচিত।

[৫] বল্টিক এলাকার তিনটি দেশ আগামীকাল শুক্রবার (১৫ মে) থেকে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সীমান্ত খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ইইউর কয়েকটি দেশের মধ্যে এমন বিচ্ছিন্ন ‘ভ্রমণের বুদবুদ’-এর মডেল নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। অর্থাৎ যে সব দেশে করোনা সংকট মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে এক ধরনের ‘পর্যটন করিডোর’ সৃষ্টি করে গ্রীষ্মের ছুটির সময় পর্যটনে উৎসাহ দেয়া হতে পারে। ইইউ কমিশনের সূত্র অনুযায়ী বর্তমান সংকটের আগে ইউরোপের পর্যটন ক্ষেত্রে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ কর্মরত ছিলেন। তার মধ্যে ৬৪ লাখ মানুষ কাজ হারাতে পারেন। নিজস্ব সূত্র অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এই ক্ষেত্র ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ লোকসানের মুখ দেখেছে।

[৬] ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ‘আউটপুট’-এর প্রায় দশ শতাংশই পর্যটন ক্ষেত্র থেকে আসে। তাই এই ক্ষেত্রকে বাঁচাতে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে পর্যটন সংগঠনগুলি জানিয়েছে। করোনা সংকটের কারণে যে সব ভ্রমণ বাতিল করতে হয়েছে, বিমান সংস্থাগুলো সেগুলির টিকিটের নগদ দাম গ্রাহকদের ফেরত না দিয়ে ভবিষ্যতে ভ্রমণের ভাউচার দিচ্ছে। জার্মানিসহ কিছু ইইউ সদস্য দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে ইইউ কমিশন গ্রাহকদের অধিকার সংক্রান্ত আইন আপাতত বাতিল করতে নারাজ। ফলে ফ্লাইট বাতিল হলে টিকিটের পুরো দাম আদায় করার অধিকার অটুট থাকছে।

[৭] বুধবার ইইউ দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত খুলে দেয়ার উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো বহির্সীমানা খোলার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কমপক্ষে ১৫ জুন পর্যন্ত এই সীমানা বন্ধ থাকছে। সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত