প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সেহরীর আগে আর শোনা যায়না ‘কাসিদা’র গান

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : [২] পবিত্র রমজান মাসে সেহরির সময় একদল মানুষ কাসিদার সুরে রোজাদারদের ঘুম ভাঙাত। মাসজুড়ে কাসিদার সুরেই জেগে উঠতাম আমরা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাসিদা সম্পর্কে বলছিলেন, বংশালের বাসিন্দা হাজী আবদুল আলিম। নব্বই-ঊর্ধ্ব এ প্রবীণ কাসিদার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আগে পবিত্র রমজান এলেই পুরান ঢাকায় সেহরির সময় মহল্লায় মহল্লায় কাসিদা গাওয়া হতো। রোজাদারদের ঘুম থেকে জাগানো।

[৩] জানা গেছে, নবাবী আমলে ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি মহল্লার সর্দাররা কাসিদা দলের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। নবাব আহসান উল্লাহর সময় কাসিদা গাওয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। বর্তমানে পুরান ঢাকায় কোথাও কোথাও উর্দু কাসিদা গাওয়ার প্রচলন থাকলেও নবাবী আমলে চলত ফারসি কাসিদা। তবে ঢাকায় রমজানের সময় কবে, কখন থেকে কাসিদার প্রচলন শুরু হয়, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

[৪] ধারণা করা হয়, মোগল আমলে শুরু হলেও ইংরেজ আমলে এসে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে ধারণা করা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে হয়তো আবার তার প্রচলন ঘটে।

[৫] আগে ঢাকার সুবেদার-নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় কাসিদা গাওয়ার ব্যবস্থা হতো। পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় কোথাও কোথাও কাসিদা টিকে ছিল। তবে এবার আর কাসিদার সুর শোনা যাচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এমনিতেই মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারাবীর নামাজ কেবল ইমামসহ ১২ জন মুসল্লি পড়তে পারবেন।

[৬] কাসিদা প্রচলন আছে দেশের বিভিন্ন এলাকার শহর ও গ্রামাঞ্চলেও। বিনিময়ে রমজান মাসের শেষের দিকে প্রতিটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট থেকে যার যা খুশি ভিত্তিতে অর্থ তুলে থাকে। এটা একপর্যায়ে উৎসবে পরিণত হয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত