প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান চাকরিচ্যূত কর্মচারীরা
[১] করোনার পরিস্থিতিতে চাকরিচ্যূত হলেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের ১৪১ কর্মচারী

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] করোনা সংক্রমণের এই করুণ পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা ) বেসরকারী জনবলের চিকিৎসকসহ ১৪১ জন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দিয়েছে মমেকহা কর্তৃপক্ষ । দেশের অন্যতম এই হাসপাতালের মাত্রাতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের সরকারী কর্মচারীদের সহায়তা দিতেই ওয়ানস্টপস সার্ভিসসহ বিভিন্ন বিভাগে এসব কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়েছিল মমেকহা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই অমানবিক সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন কর্মচারীরাসহ তাদের পরিবার। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান হাসপাতালের বেসরকারী জনবলের ১৪১ কর্মচারী ও তাদের পরিবার।

[৩] এসব জনবল ছাটাইয়ের কারণে বহুল প্রত্যাশিত ও প্রশংসিত ওয়ানস্টপ সার্ভিসের সেবা দেয়ার সক্ষমতা হারাবে মমেকহা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)এর বায়োক্যামিক্যাল ল্যাবের সেবা কার্যক্রম। ব্যাহত হবে অন্যান্য বিভাগের স্বাভাবিক সেবাদান কার্যক্রম। এতে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। দৌরাত্ম্য বাড়বে দালাল সংঘবদ্ধ চক্রের।

[৪] হাসপাতাল উপ পরিচালক ডা. লক্ষীনারায়ণ মজুমদার জানান, করোনার কারণে রোগী কমে যাওয়ায় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের ফান্ড থেকে এখন আর এসব কর্মচারীদের বেতন ভাতা মেটানো সম্ভব নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ও রোগীর চাপ বাড়লে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব কর্মচারীদের বেতন ভাতা মেটাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়।

[৫] সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসের এক কম্পিউটার অপারেটর করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিন ধরে আছেন নগরীর নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে। করোনা পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তার মত এই ওয়ানস্টপ সার্ভিসের চিকিৎসক ও টেকনেশিয়ানসহ আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। এমতাবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে এখন ভেঙ্গে পড়েছেন তারা। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের ইমারজেন্সি বায়োকেমিষ্ট্রি ল্যাব, রেডিওলজী বিভাগ, প্যাথলজী, বর্হিবিভাগের চিকিৎসকসহ সনোলজিষ্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট, রেডিওগ্রাফার ও অফিস সহায়ক পদমর্যাদার এরকম ১৪১ কর্মচারীর চাকরি থাকছে না আগামী পহেলা জুন থেকে।

[৬] জানা গেছে, গত এপ্রিলে হাসপাতাল পরিচালক এক পত্রে এই নোটিশ জারি করেছেন। করোনাকালে এমন নোটিশে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হাসপাতালের বেসরকারী জনবলের এই কর্মচারীরা। করোনার আগে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি বিভাগে মাত্রাতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি রোগীর চাপ সামালসহ সরকারী কর্মচারীদের সহায়তা দিতে অস্থায়ীভাবে এসব কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা ইউজার ফি’র সাথে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ টাকার রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল থেকে এসব কর্মচারীর বেতন ভাতা পরিশোধ করা হত। কিন্তু এই নোটিশের ফলে চাকরি হারাতে হচ্ছে তাদের। এটিকে অমানবিক উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ।

[৭] স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-(স্বাচিপ) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান ভুইয়া জানান, করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে এসব চিকিৎসক কর্মচারীদের সহায়তার প্রয়োজন সেখানে তাদের ছাটাই কোনভাবেই কাম্য নয়। সমস্যা সমাধানে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত