প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনার প্রভাবে প্রবাসীদের আয় বন্ধ ও দেশে ফেরা শুরু করলে অর্থনীতি কি তা সামাল দিতে পারবে?

আমিনুল ইসলাম : ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় ইমিগ্রেশন আপাতত স্থগিত করেছেন। অর্থাৎ গ্রিন কার্ড নিয়ে আপাতত কেউ আমেরিকায় যেতে পারবে না। আগে থেকেই যারা কাজ নিয়ে আমেরিকায় ছিলেন, কিন্তু করোনা পরিস্থিতে কাজ হারিয়েছেন, তাদের বেলায় কী হবে সেটা অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। তবে আমি যেই দেশে থাকি, এখানকার সরকার এর মধ্যেই নতুন একটি আইন পাস করেছে। করোনা পরিস্থিতে যে সব বিদেশিরা কাজ হারিয়েছেন, তাদের সবাইকে দেশে চলে যেতে হবে। করোনা পরিস্থিতে যেহেতু অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছেÑ তাই এসব দেশগুলো নিজেদের নাগরিকরা যাতে কাজ পায়, এ জন্য বিদেশিদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আইন পাস করছে। আমি অভিবাসীদের নিয়েই কাজ করি। আমার পড়াশোনা, গবেষণার পুরোটাই অভিবাসী এবং শরণার্থীদের নিয়ে। এমনটাই দেখে আসছি। এসব দেশে কোনো কিছু হলেই সব দোষ এসে পড়ে অভিবাসীদের উপর। করোনা পরিস্থিতি যেহেতু লম্বা হতে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা যেহেতু খারাপ হতে যাচ্ছেÑ তাই সবার আগে বিদেশি খেদাও। শুধু ইউরোপ-আমেরিকায় না একই অবস্থা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যেও হবে। লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক ওইসব দেশে কাজ করে। তেলের দাম এখনই অনেক কমে গিয়েছে। আর এসব দেশ দাঁড়িয়েই আছে তেলের উপর। যেহেতু বিমান থেকে শুরু করে বেশিরভাগ যানবাহন বন্ধ, তাই তেলের দাম কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। এখন এর জন্য যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা আমাদের শ্রমিকরা কাজ হারাতে থাকে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কী হতে যাচ্ছে, সেটা কি কেউ ভেবেছে? সেদিন চ্যানেল আইয়ের টকশোতে গেলাম এই নিয়ে কথা বলতে। সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এবং জ্বালানি মন্ত্রী ছিলো। তারা এতো কিছু বললেন যে, আমি এই কথাগুলো বলার সুযোগই পেলাম না। ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অনেকেই কাজ হারাচ্ছে। আমি যেই দেশে থাকি, এখানকার প্রায় ৫০ শতাংশ বাংলাদেশি কাজ হারিয়ে বসে আছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বিদেশিরা এসব দেশে কাজ হারাবে। তখন এই মানুষগুলো দেশে টাকা পাঠাতে পারবে না। অনেককে দেশে ফেরত যেতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বিশাল অংশ বৈদেশিক মুদ্রার উপর নির্ভর করে। তখন যে দুর্যোগটা নেমে আসবে এর জন্য আপনারা প্রস্তুত তো মাননীয় দুর্যোগ মন্ত্রী? সব কিছু আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকা ভালো। ইউরোপ-আমেরিকায় শিল্প বিপ্লব সম্ভব হয়েছিলো বিদেশি শ্রমিকদের ঘামে। এই শ্রমিকদের ঘামেই গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল শিল্প-কলকারখানাগুলো। অথচ কোনো কিছু হলেই সব দোষ গিয়ে পড়ে এই বিদেশি শ্রমিকদের উপর। ইংল্যান্ড তো বিদেশি তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেই বের হয়ে গেলো। যেই লোক বিদেশি খেদানোর আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সেই বরিস জনসন করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। তিনি বাঁচা-মরার মাঝখানে ছিলেন। বেঁচে ফেরার পর এই লোক বলেছেন, আমি মরেও যেতে পারতাম। বেঁচে আছি দুজন নার্সের জন্য। তারা দিনরাত আমাকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে গিয়েছেন। তিনি নিজ মুখেই বলেছেন, এই দুই নার্সের একজন এসেছে নিউজিল্যান্ড থেকে, আরেকজন পর্তুগাল থেকে। অর্থাৎ তারা দুজনই বিদেশি। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কী এখন বুঝতে পারছেন বিদেশি যেই দুই নার্স তাকে নতুন জীবন দিয়েছেন সেই বিদেশিদের খেদানোর কথা বলেই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। অথচ এরপরও সব দোষ কেবল অভিবাসীদেরই। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত