শিরোনাম
◈ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৫ বছরের উন্নয়ন চুক্তি করছে বাংলাদেশ, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠক ◈ কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কাউসারকে কুপিয়ে হত্যা ◈ ব্যাংককে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ, ঋণ বাতিল ও ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি ◈ ১৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ◈ হিলারি ক্লিনটনের হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি ◈ বিমানবন্দরে স্যুটকেসে শ্যাম্পু-ক্রিমের বোতলে মিলল ৯২টি জীবিত সাপ-টিকটিকি, মেক্সিকান নাগরিক আটক ◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাল নেদারল্যান্ডস, চীনের পর নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে ◈ আমিরাতে সক্রিয় ছিল ইরানি ‘স্লিপার সেল’, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের তথ্য প্রকাশ! ◈ 'ইরান কখনও যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দি‌তে প্রস্তুত' ◈ নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যে কারণে ৭০ শতাংশ ভিসা বাতিল

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২০, ০৬:০০ সকাল
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২০, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপরিপূর্ণ জিনিস নিয়ে স্ট্যান্টবাজি করে সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা হয়তো হাসিল হবে, কিন্তু মানুষের কোনো কাজে আসবে না

শাহ আলী ফরহাদ : সংকট সময়ে যেকোনো ধরনের উদ্ভাবনই উৎসাহজনক। আমাদের সরকারও প্রস্তুত যেকোনো কার্যকর ও সফল উদ্ভাবনকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে। কিন্তু উদ্ভাবনের নামে স্ট্যান্টবাজি মেনে নেওয়া যায় না। জাফরুল্লাহ সাহেবের টেস্ট কিট নিয়ে কথাবার্তায় বরাবরই স্ট্যান্টবাজি লক্ষ্য করা গেছে। আজকের তথাকথিত কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তা আরও স্পষ্ট হলো। কথা বললাম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে, জানতে পারলাম আসলেই কী ব্যাপার। জাফরুল্লাহ সাহেব বলছেন, আমন্ত্রণ করা সত্ত্বেও আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কেউ যাননি এই অনুষ্ঠানে। সত্য হচ্ছে এই পর্যায়ে সরকারের কেউ যেতেই পারে না এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে। টেস্ট কিটের কাজ এখন যেই পর্যায়ে সেখান থেকে প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার কথা। যা হতে হয় একটি থার্ড পার্টির মাধ্যমে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআরসহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে এই পরীক্ষা করানো যায়। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানেও কিন্তু অনুমোদন নয়। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করে তথ্য উপাত্ত পাঠাতে হয় বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটিতে। সেখান থেকে টেস্ট কিট যাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইজারি কমিটিতে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হলেই কেবল চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। তারপর সফলতা সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি থেকে। অর্থাৎ একাধিক ধাপ বাকি থাকতেই তিনি মিডিয়া ডেকে তামাশা করলেন আজ হস্তান্তরের নামে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সব সহায়তা পাওয়ার পরও আজকের কথাবার্তায় বোঝা গেলো তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। নিজেরা কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সরকারের উপর অন্যায়ভাবে দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।
জাফরুল্লাহ সাহেবের কথা থেকে আরও কিছু চিন্তার বিষয় সামনে এসেছে : তিনি বলছেন, গণস্বাস্থ্য নাকি বিদেশ থেকে সংক্রমিত স্যাম্পল এনে তা পরীক্ষা করেছেন। সরকার থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি তারা নেননি। যে কাজটা তারা করেছেন, অর্থাৎ অনুমোদনহীনভাবে দেশের বাইরে থেকে সংক্রামক রোগের স্যাম্পল নিয়ে আসা, তা কিন্তু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর ২৪ ধারা মোতাবেক আইনত দ-নীয় কাজ। কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া টেস্ট কিটের প্যাকেজিংও তারা করেছেন যা আমাদের ওষুধ নীতির (ড্রাগ পলিসির) পরিপন্থী। তারা যে টেস্টিং পদ্ধতির কথা বলছেন, তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন আছে শুরু থেকেই। তারপরও জনস্বাস্থ্য প্রশ্ন জড়িত দেখে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ সহায়তা পেয়েছেন। সংক্রামক রোগের পরীক্ষা বা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ কিন্তু সাধারণ নয়, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাড়াহুড়া করে করার মতো কাজ তো অবশ্যই নয়। যে প্রক্রিয়াগুলো জাফরুল্লাহ সাহেবরা অনুসরণ করতে চাচ্ছেন না, তা কিন্তু জনস্বার্থেই করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বলে তারা জনস্বার্থ কেন হুমকিতে ফেলতে চাচ্ছেন তা আমার বোধগম্য নয়। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জিনিসটা তৈরি হলে ও সফলতা প্রমাণ হলে অবশ্যই সরকার তা লুফে নেবে। তার জন্য কাজ করতে হবে, অপরিপূর্ণ জিনিস নিয়ে স্ট্যান্টবাজি করে সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা হয়তো হাসিল হবে, জনগণের কোনো কাজে কিন্তু আসবে না। এই লেখার জন্য তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়েছে বিএসএমএমইউ-এর লিভার বিভাগের প্রধান ড. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান থেকে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ