শিরোনাম
◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অগ্রগতি, সমঝোতার পথে বাংলাদেশ ◈ আই‌সি‌সি থে‌কে জয় শাহকে ‘গদিচ্যুত’ করার সুবর্ণ সুযোগ! বাংলা‌দে‌শের সমর্থনে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ বয়কটের পরামর্শ সা‌বেক‌দের ◈ ‌বি‌পিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে শান্তরা পেলো ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ◈ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় না থাকায় কতটা ক্ষতি হবে বাংলাদেশের ◈ সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি ◈ শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশকে ভারত সবসময় সমর্থন করবে: প্রণয় ভার্মা ◈ পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ-গণনা নিয়ে ইসির পরিপত্র জারি ◈ আইসিসি আমাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি, কিছু করার নেই: বিসিবি  ◈ আইসিসি প্রকাশ করল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন সূচি, বাংলাদেশকে নিয়ে দিলো বার্তা ◈ বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ০৫:৩১ সকাল
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ০৫:৩১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনুমতি দিলে একটা কথা কই?

ডেস্ক রিপোর্ট: শরীরে বেশকিছু জায়গা ছিলে গেছে৷ মনোযোগ ছিল নিজের দিকেই৷ বাসায় ফেরার পথে সবজির বাজার৷ সবজির দোকান ঘেষে ফিরতে হয়৷ ইদানিং দু পদের ক্রেতা দেখা যায় বাজারে৷ একদল দেদারছে কিনছে৷ আরেকদল শুধুই ঘুরে ঘুরে দেখছে৷ ঘুরে দেখা ক্রেতাদের পকেটের অবস্থা ততটা ভারি নয়৷ নানান হিসেব তাদের৷ অনেককেই প্রয়োজনীয় সদাই না কিনেই বাসায় ফিরতে হয়৷ সবজির দোকান ঘেষে এক ফার্মেসী৷ দাঁড়ালাম৷ ফার্মেসীতে ভিড়৷ অপেক্ষা করছিলাম৷ চোখ গেল এক বৃদ্ধের দিকে৷ সাদা শুভ্র দাড়ি৷ পরনে জীর্ণ পাঞ্জাবি৷ বেশ লম্বা৷ বিভিন্ন ধরণের সবজির দাম জিজ্ঞাসা করছেন৷ দাম শোনার পর মুখটা মলিন করে ফেলছেন প্রতিবার৷ যেন দামগুলো তার নিজের অনুমানের সঙ্গে, বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলছে না৷ আলুর দাম জিজ্ঞাসা করলেন পরপর তিনবার৷ দোকানি বিরক্ত হলেন৷

আর কয়বার দাম শুনবেন?
বৃদ্ধলোকটা দোকান থেকে সরে এলেন৷ ঠিক আমার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন৷ চোখ তার তখনো সবজিগুলোর দিকে৷
আগবাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, চাচা কি কিনবেন? বললেন, কিছুই কেনা যাচ্ছেনা৷ কি মনে হলো লোকটার জানিনা৷ বলেই ফেললেন, বাবা অনুমতি দিলে একটা কথা কই? বলেন ৷

খুব আস্তে করে উত্তর দিলেন৷ যেন আমি ছাড়া দ্বীতিয় কেউ না শুনে ৷ "আমারে এক কেজি আলু কিনে দিবেন বাপ? "
আমি বারকয়েক তাকালাম৷ বললাম নেন৷ এককেজি আলু নিলেন তিনি৷ বললাম, আর কিছু নেবেন? আমার বলার ভঙ্গিটা একটু জোরে হওয়ায় লোকটা চমকে উঠলেন৷ লজ্জা পেলেন বোধয়৷ সরে যেতে লাগলেন৷ কি যেন মনে হলো তার৷ কাছে এসে বললেন, বাবা আমি জীবনে এভাবে হাত পাতিনি কারো কাছে৷ আমারে হাফ কেজি পেঁপে যদি দিতেন! পেঁপে আর হাফকেজি টমেটোও কিনে দিলাম৷ বললাম আপনি কি আর কিছু নেবেন?

বললেন, না না আমার আর কিছুই লাগবেনা৷ কাল চাল সাহায্য পাইছি৷ তেলও আছে৷ খালি তরকারীটাই কিনতে পারছিলাম না৷ আল্লাহ্ আপনার ভাল করুক৷

চলে গেলেন তিনি৷ সহজেই অনুমান করা যায় এ লোক কারো কাছে হাত পাতার লোক নয়৷ তাই যদি হতো তবে আরো কিছু দাবি করার সুযোগ থাকলেও তিনি দাবি করতে পারতেন৷ এ লোকের মত চারিদিকে অনেক মানুষ আছেন যারা লজ্জায় কারো কাছে কিছু বলতে পারেনা৷ অনুমান করতেই গা শিউরে ওঠে ৷ কি অপেক্ষা করছে তাদের ভাগ্যে? ইতিমধ্যে কাজহীন বহুমানুষ, কারণ শুধুমাত্র করোনা৷ এদের কাছে করোনার ভয়টা যদি পেটের ক্ষুধার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় তখন কি দাঁড়াবে দেশের অবস্থা? তাদের জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বাস্তবায়নের রুপরেখাই বা কী?

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়